September 19, 2018

দিতির চুলের সেই ইতিকথা!

‘মেঘ কালো আঁধার কালো, আর কলংক যে কালো/যে কালিতে বিনোদিনী হারালো তার কূল/ তার চেয়েও কালো কন্যা তোমার মাথার চুল’- দিতির দীঘল কালো চুল দেখে এমন গান হয়তো অনেকেই গুণগুণ করেছেন। কূল হয়তো হারাননি কেউ, কিন্তু তার চুলের প্রেমে তো মশগুল হয়েছেনই অনেকে। ১৯৮৪’র সেই নতুন মুখ, ‘আমিই ওস্তাদ’-এর সেই নবাগতা নায়িকা এখন বয়স পঞ্চাশে অবস্থান করছেন। সৌন্দর্য অটুট ছিলো এ বয়সেও, চুল লম্বা হয়ে কালো-ঘন হয়ে ছড়িয়ে ছিলো আগের মতোই। কিন্তু সাম্প্রতিক অসুস্থতা এলোমেলো করে দিয়েছে সব।

বরেন্য অভিনেত্রী দিতি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন অনেকদিন থেকেই। ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে (এমআইওটি) শুয়ে আছেন অসুস্থ শরীর নিয়ে। অসুস্থতা এমনই তীব্র যে, তার মেয়ে লামিয়া চৌধুরীর ভাষ্যে, বাঁচানোর আর কোনো সম্ভাবনাই নেই।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন দিতির পরিবার-সন্তানদের মানসিক অবস্থা কেমন থাকতে পারে- অনুমান হয়তো করতে পারছেন অনেকেই। মেয়ে তার স্মৃতিচারণা করছেন। দিতির একটি ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন তার চুল সম্পর্কিত অনেক কথা।

লামিয়ার লেখায়-
‘তার (দিতির) চুল যখন ঝরে পড়তে শুরু করলো (কেমোথেরাপির কারণে), তখন তিনি সেগুলো একটি ব্যাগে জমাতে শুরু করলেন। (চুল যে পড়ে যাচ্ছে আশংকাজনক হারে) এটি নিয়ে তিনি অতোটা ভাবনা-চিন্তা করেননি। চিকিৎসকরা মাঝে মধ্যে চমকে যেতেন! বিভিন্ন সময়ই তারা সাবধান করতেন, এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়।

তিনি তো একজন অভিনেত্রী। বাহ্যিক সৌন্দর্য তার কাছে অনেক কিছু। কিন্তু তাকে কোনো রকম পরোয়া করতে দেখিনি। (বলতেন) চুলই তো, পড়বে, উঠবে! (অতো চিন্তার কী আছে!) তিনি বলতেন, এই জমানো চুলগুলো দিয়ে দু’টো উইগ বানাবেন। একটি তার নিজের জন্য, আরেকটি তার এক বন্ধুর জন্য।

চুল তিনি আগেও একবার হারিয়েছিলেন। ঘটনাটি তিনি বলেছেন আমাদেরকে। একবার শুটিংয়ে তার চুল ফ্যানে জড়িয়ে গিয়েছিলো। তখন পুরো চুল কেটে তাকে উদ্ধার করতে হয়! চুল পড়ে গিয়েছিলো আরও একবার। সেবার ঘটেছিলো কেমিক্যাল বিক্রিয়ার ফলে। নিজের জন্য দুঃখ করে সময় তিনি নষ্ট করতে চাননি কখনও…’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts