September 24, 2018

দিগুইতো নয়, মূলহোতা কিম অং: সার্জ ওসমেনা

ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী কিম অং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির মূলহোতা বা পরিকল্পনাকারী। অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে গঠিত দলের প্রধান সিনেটর সার্জ ওসমেনার বরাত দিয়ে দেশটির ইনকোয়ারার পত্রিকা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্জ ওসমেনা জানিয়েছেন,ফিলিপাইনের ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম ব্যবহার করে কিম অং বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার সে দেশে পাচার করেছিলেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন,এ ঘটনায় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতো প্রধান দায়ী ব্যক্তি নয়। তবে তিনি এ ঘটনার একজন বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শী।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির কাছে গত বৃহস্পতিবার মাইয়া সান্তোস দিগুইতো সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সার্জ ওসমেনা আরও বলেন,কিম অং দিগুইতোকে কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলেছিলেন।আর ওইসব অ্যাকাউন্টেই বাংলাদেশের ৮১ মিলিয়ন ডলার জমা হয়। আর এ অর্থ লেনদেনে কিম দিগুইতোকে দেশটির ফিলরেম সার্ভিস ইনকরপোরেশন কোম্পানির সেবা ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার ইনকোয়ারারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সার্জ ওসমেনা বলেন,অর্থ চুরির ঘটনায় তারা কিমকেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করছেন।তবে সিনেট ব্লু রিবন কমিটির কাছে কিম অং এ ঘটনায় তার ভূমিকা কি ছিল-তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন।
বিদেশ সফর শেষে কিম অং-কে কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন,এ ঘটনায় কিম মূলহোতা।
অং-এর আইনজীবীর তথ্যমতে,স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে কিম এখন বিদেশে অবস্থান করছেন।

দিগুইতো কেন অংয়ের অনুরোধ রেখেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে সার্জ ওসমেনা বলেন,তারা একে অপরের দীর্ঘদিনের পরিচিত।অং তার সমস্ত তথ্য বিবরণী সরবরাহ করেই দিগুইতোকে ৫টি ডলার অ্যাকাউন্ট খোলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তাদের দুই জনের প্রথম দেখা হয়েছিল মাইডাস হোটেলে এক সাক্ষাতে।

ওসমেনা বলেন,দিগুইতো কিমের আইডিগুলো যাচাই করেছিলেন এবং একজন বাহকের মাধ্যমে কিম অং তার ডলার অ্যাকাউন্টে জমা করতে আড়াই হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করতে তার পাঁচটি অ্যাকাউন্টের চারটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে পিকাসা নামে যে অ্যাকাউন্ট ছিল সেটি কখনও ব্যবহার করা হয়নি।

‘তবে যখন সিনেট সার্জন সরেজমিনে চার অ্যাকাউন্টধারীর ঠিকানায় ব্লু রিবন কমিটির কাছে হাজির হওয়ার সমন পৌঁছে দিতে যান,তখন তিনি সবগুলো ঠিকানা ‘ভুয়া’ দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন,যেহেতু ৮১ মিলিয়ন ডলার লেনদেনে ফিলরেম কোম্পানির তথ্য ব্যবহার করতে বলা হয়,সেহেতু ওই কোম্পানির মালিক অংয়ের পরিচিত।

Related posts