September 21, 2018

দায়িত্ব নিয়েছে সবার অথচ উদ্ধার করছে নিজের স্বার্থ, এরা নাকি জন প্রতিনিধি!

রফিকুল ইসলাম রফিক                         
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সমস্যা নারায়ণগঞ্জের নাগরিক জীবনের একটা অংশ। প্রতিনিয়ত হরেক রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে মানুষের জীবন কেটে যায়। ক্ষোভের সাথে কেউ কেউ বলেন ঢের ভালো হতো যদি অজ পাড়া গায়ের লোক হতাম। সেখানে এই যানজট, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট থাকতো না। পদে পদে হয়রানীও না। এমন কথার সার বস্তু আছে বৈকি!

নারায়ণগঞ্জে খাদ্য সামগ্রীতে ভেজাল হয়। এই খাদ্য খেয়ে মানুষ অসুস্থ্য হচ্ছে। অসুস্থ্য হবার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। মানুষ যাবে কোথায়?

ঘরের পাশে মাদক বিক্রি হয়। এই মাদকের জন্য নানান অপবাধ হয়। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে জীবনটাই সংহার হয়ে যাবার উপক্রম হয়। বিচার দিতে যাবে নেতাদের কাছে। সেই নেতাদের পাশে ঘুর ঘুর করে মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা গোপনে সংবাদ দেয় থানা পুলিশে। আর পুলিশের কেউ তাদের পরিচয়টা প্রকাশ করে দেবে। আবার এরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা পয়ময় নেয়। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

ফুটপাত হচ্ছে মানুষের হাটা চলা করার জন্য। সেই ফুটপাতে জন প্রতিনিধিরা হকার বসিয়ে দেবে এবং তাদের লোকজন চাদা বাজিও করবে। জন প্রতিনিধির এই ভূমিকার পর মানুষ  কার কাছে আর্জি জানাবে? ওয়াসার দায়িত্ব বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা। ওয়াসা দিচ্ছে বিষাক্ত পানি। সে পানি পান বা ব্যবহার করে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। আবার অপর্যাপ্ত পানি না পেয়ে নিজেরা পানির ব্যবস্থা করলে নিষ্ঠুর ভাবে কর চাপিয়ে দেয়া হবে। সারা বছর গ্যাস না দিয়ে মাসে মাসে ঠিকই বিল নিয়ে যাবে তিতাস গ্যাস। বিদ্যুৎ নিয়েও যন্ত্রনা হয়। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

নির্বাচন আসে ভোট দেয়ার জন্য। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এখন ভোট হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। সব খানেই ইলেকশনের  বদলে সিলেকশন হচ্ছে। তাহলে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে কিভাবে?

সমাজের অনৈতিকতা বেড়েছে। প্রভাবশালীদের পরিবারের লোকজন অপকর্ম করলে কিছুই হয় না। যদি দুর্বল বা সাধারণ মানুষ কিছু করে তাহলে আর রক্ষা নেই।  এভাবে সমাজের পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয় যাচ্ছে। এরপর মানুষ যাবে কোথায়?

মানুষ ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে যায়। আইনের ফাঁক গলিয়ে এক শ্রেনীর আইনজীবী অপরাধীদের মুক্ত করে আনে। এরপর মানুষ ন্যায় বিচারের জন্য যাবে কোথায়? লেখাপড়া করে মানুষ হবার জন্য সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পুথিগত বিদ্যা অর্জন করে। কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হবার পাথেয় পায় না। এর পাশাপাশি স্কুলের কতিপয় শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের লোকদের অনিয়ম ও দূর্নীতি দেখে প্যাক্ট্রিক্যাল শিখে নিচ্ছে চুরি কিভাবে করতে হয়। তাহলে সন্তানদের মানুষ করতে অভিভাবকরা আর কোথায় নিয়ে যাবেন?

অবশ্য অনেক বিষয় আছে যা জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। সারা দেশে একই চিত্র। কিন্তু অনেক সমস্যা এখানে বিরাজ করছে যা মফস্বলে নেই। এই সমস্যা গুলোই মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে। এ অবস্থা থেকে বের করে আনা যাদের দায়িত্ব তারা ব্যস্ত আছেন, নিজের পরিবারও গোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষায়। এতে করে এই জন প্রতিনিধিরা কখনো কখনো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যাচ্ছে। অসংগঠিত সাধারণ মানুষ একত্রিত হতে পারে না বলে এই সুযোগটাই এরা কাজে লাগিয়ে আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু খবর………

বন্দরে আ’লীগ নেতার ভাই হত্যাঃ শামীম ৫ দিনের রিমান্ডে

বন্দরে আওয়ামীলীগ নেতার ভাই মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুব উদ্দিন (৭০)কে ছুরিকাঘাত করে হত্যা ঘটনায় ধৃত খুনী রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ (২৫)কে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে ধৃত খুনীকে আদালত থেকে রিমান্ডে আনে পুলিশ। যার মামলা নং-৫৫(৬)১৬। ধৃতখুনী রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দী থানার সভাহল এলাকার মৃত আবুল বাশার ওরফে মমিন মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, বন্দর থানার সোনাকান্দা সোনা বিবিরোড এলাকার মৃত ইউনুছ আলী মিয়ার ছেলে আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন মিয়া র্দীঘদিন ধরে সোনাকান্দা এলাকায় মুদিদোকান চালিয়ে আসচ্ছে। প্রতিদিনের মত গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুতুবউদ্দিন মিয়া মুদি দোকান বন্ধ করে রাতে খাবার খেয়ে তার ৩য় তলার একটি রুমে ঘুমিয়ে পরে। ঘটনার রাত পৌনে ১২টায় ০১৬২৮৪৭৯২৯৯ নাম্বার থেকে সজল নামে এক অচেনা লোক মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিনের ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোন ০১৮১৯২৩৮৯৬৮ নাম্বারের ফোন দিয়ে বলে আপনার দোকানের সাটারের তালা খোলা।  উক্ত সংবাদ পেয়ে মুদি দোকানী কুতুবউদ্দিন তার স্ত্রীকে দরজা বন্ধ করতে বলে ঘর থেকে বের হয়। পরে সে তার দোকানের দিকে রওনা দেয়। দোকানের তালা ঠিক আছে দেখে সে পুনরায় বাড়ীতে চলে যায়। এ সুযোগেসোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকার জাপা নেতা আজিজুল হক তার ছোট ভাই সাজু, রাজা মিয়া, শহিদুর রহমান, লিটন, বাচ্চু ও রফিকুলের যোগসূত্রে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দী থানার সভাহল এলাকার মৃত আবুল বাশার ওরফে মমিন মিয়ার ছেলে শামীম আহাম্মেদ কৌশলে মুদীদোকানীর বাড়ীতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উৎপেতে থাকে। পরে মুদিদোকানী তার বাড়ীতে প্রবেশ করে ৩য় তলায় শয়নকক্ষের দিকে আসলে ওই সময় উল্লেখিতরা কুতুবউদ্দিনের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারের শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ঘটনার ওই রাতে রাজমিস্ত্রি শামীম আহাম্মেদ (২৫)কে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে পুলিশ ধৃত খুনী শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, প্রকৃত ঘটনা জানতে আমরা জনতা কর্র্তৃক আটক খুনী শামীমকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যহত রেখেছি। এবং হত্যা মামলার বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যহত রেখেছি।  এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার র্শতে জানায়, মুদিদোকানী আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাভিত করা চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। সোনাকান্দা প ায়েত কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আবেদ হোসেন ও জাপা নেতা আজিজুল হকের সাথে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আজিজুল ও রাজা মিয়াকে অযথায় এ মামলায় জরিয়ে দিয়েছে। আমরা ধরানা করছি কুতুবদ্দিন মিয়ার সাথে রাজমিস্ত্রি শামীমের সাথে টাকা পয়সা লেনদেনের ছিল। এর জের ধরে রাজমিস্ত্রি শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে মুদিদোকানী কুতুবউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনাটি ভিন্ন ক্ষাতে প্রভাবিত করার জন্য সোনাকান্দা কিল্লা জামে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও জাতীয়পার্টি নেতা আজিজুল হক, সোনাকান্দা প ায়েত কমিটির সভাপতি মনির হোসেন রাজাসহ ৮ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

না’গঞ্জে বিপনী বিতান গুলোতে ঈদ উৎসব

পবিত্র রমজানের শুরুর থেকেই বিকিকিনি বেড়ে যায় বিপনি বিতানে। এতে মাহে রমজান শেষে খুশির জোয়ার নেমে আসে মুসলমানের মনে; আত্মায় নেমে আসে প্রশান্তি। আর ঈদুল ফিতরে নতুন জামা না হলে যেন ঈদটাই মাটি। তাই প্রতিবারই ঈদ উপলক্ষে বাজারে আসে বাহারি নাম ও ঢঙের পোশাক-পরিচ্ছদ। নানা পণ্য বিশেষ করে জামা-কাপড়ের বিক্রিকে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জের খুচরা বাজারে ঈদ উপলক্ষে ৪‘শ কোটি টাকা বা তারও বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কের ফুতপাত ঈদে বসতে দেয়াতে হকাররা অনেক আনন্দিত। তবে প্রশাসনের তেমন কোনও সহযোগিতা ছাড়াই সে সময়ে ব্যবসায়ীদের নিজেদেরকেই নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা সুমন। অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে জেলার ফ্রেন্ডস মার্কেট ও চাষাড়াসহ অন্যান্য এলাকার বিপনি বিতানগুলোতে ধীরে ধীরে নেমে আসতে শুরু করেছে ঈদের আমেজ।

শুক্রবার থেকে জমবে
রোজার প্রথম দিকে তেমন ক্রেতা সমাগম না হলেও ১৫ রমজানে এর পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আগামী শুক্রবার থেকে ঈদের বিকিকিনি পুরোদমে জমে উঠবে। তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে এখনও থ্রি-পিস বা অন্যান্য নতুন কোনও নামের পোশাক না এলেও বাহারি ডিজাইনের পোশাক ইতোমধ্যে ভিড় করেছে বাজারে। নানা পোশাকের সঙ্গে এবার শিশুদের পোশাকেও চমক থাকছে বলেই জানান বিক্রেতারা। তারা জানান, বিভিন্ন উৎসব বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে নতুন ডিজাইন ও নানা নামের পোশাক বাজারে আসে বলে মুসলমান ছাড়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও সেগুলো ক্রয় করে থাকেন।

ইলেকট্রনিক্স পণ্য
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক-পরিচ্ছদে যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার নজর থাকে; তেমনি নানা ইলেকট্রনিক্স পণ্যেরও বিক্রি বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে নানা উপলক্ষ বিশেষ করে ঈদে ইলেকট্রনিক্সের পণ্যে ছাড় থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল আজহায় ছাড় থাকে ফ্রিজে। তবে টিভি বা অন্যান্য পণ্য পবিত্র ঈদুল ফিতরে বেশ বিকোয়।

ইফতার
অপরদিকে ইফতারও যেন ঈদ বাজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায় প্রতিবার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাহারি নামে বিক্রি হচ্ছে ইফতার সামগ্রি। এটিও ঈদ উপলক্ষে ব্যবসার একটি অংশ বলেই জানান ব্যবসায়ীরা।

থাকবে রাত পর্যন্ত
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বিবেচনায় এনে সাধারণত রাত ১০টা পর্যন্ত বিপনি বিতান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়ীরা রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ও চালিয়ে যান বিক্রি। কখনো আবার সেহেরি পর্যন্তও চলে কোনও কোনও বিপনি বিতান। এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পবিত্র রমজানে বিপনি বিতান খোলা রাখার ব্যাপারে এখনও কোনও নির্দেশনা আসেনি। তবে পবিত্র রমজানের প্রথম ২ সপ্তাহ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিপনি বিতান খোলা থাকলেও পরে তা বাড়ানো হবে বলেই জানালেন ব্যবসায়ীরা।
 
আদমজী জুট মিলঃ ১৪ বছরেও শ্রমিকদের কান্না থামেনি

এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিলস আদমজীর শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও আদমজী নগরবাসীর জন্য ৩০ জুন একটি বেদনাবিধুর দিন। ২০০২ সালের ৩০ জুন সরকার চিরতরে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়। বন্ধের দিন কান্নার রোল পড়ে গোটা আদমজীতে। কিন্তু মিল বন্ধের দীর্ঘ এ সময়েও সাধারণ অসহায় শ্রমিকদের কান্না থামেনি। প্রতি বছরের ৩০ জুন এলেই নিজের ভাগ্য নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা। একসময় যাদের চোখেমুখে ছিল নানা স্বপ্ন এখন তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। ঐতিহ্যবাহী এই শ্রম জনপদ ইপিজেডে পরিণত হয়ে আবারও কর্মচা ল্য ফিরে পেলেও ঠাই হয়নি চাকুরী হারানো শ্রমিকদের। এমনকি আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তানদেরও চাকুরী মেলে না ইপিজেডে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে আদমজী জুট মিল পুণরায় চালু করার ঘোষণা দিয়ে আসলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অধিকাংশ শ্রমিকই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সমৃদ্ধ এক মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এশিয়ার বৃহত্তম সেই আদমজী জুট মিল এখন শুধুই স্মৃতি।

আদমজী জুটমিল প্রসঙ্গ
পাকিস্তানের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই এ. ওয়াহেদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ আদমজী যৌথভাবে আদমজী জুটমিল প্রতিষ্ঠা করেন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ায় আদমজী জুটমিল গড়ে ওঠে ২৯৭ একর জমির ওপর। ১৭০০ হেসিয়ান ও ১০০০ সেকিং লুম দিয়ে এই মিলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর। ওই সময় এই মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরুর পর পরই আদমজী জুটমিলস লি. শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগ উন্নীত করা হয় ৭ কোটি টাকায়। তখন মিলে তাঁতকল বসানো হয় ৩ হাজার ৩০০টি। আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত চট, কার্পেটসহ বিভিন্ন প্রকার পাটজাত দব্য দেশের চাহিদা পুরন করে রপ্তানী হতো চীন, ভারত, কানাডা, আমেরিকা, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ সময় আদমজী জুটমিল হয় পৃথিবীর অন্যতম জুটমিল এবং এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ কারখানা। আদমজীকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার দুইপাড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁয়ে গড়ে ওঠে বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাস। মিল ছাড়াও এসব এলাকায় কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৭০ সালের ৩০ জুন পর্যন্তমিলটি ১৯ বছরে লোকসান দেয় মাত্র ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতি আদেশবলে আদমজী জুটমিল জাতীয়করণ করে জুটমিল কর্পোরেশনের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত আদমজীর বার্ষিক উৎপাদন ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। যার বিক্রয় মূল্য ছিল আনুমানিক ২১০ কোটি টাকা। মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি করতেন। মিলটি বন্ধ রার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

লোকসানের পরিমাণ
আদমজী জুটমিল বন্ধ করা হয় ২০০২ সালের ৩০ জুন। অর্থবছর ভিত্তিক আদমজীর লোকসানের পরিমাণ ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৯ লাখ, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ৮১ লাখ, ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে ২ কোটি ১৯ লাখ, ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৫৭ লাখ, ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩ লাখ, ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ১১ লাখ, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে ৮ কোটি ৩৪ লাখ, ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৬০ লাখ, ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে ১১ কোটি ২৬ লাখ, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে ১০ কোটি ২৪ লাখ, ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে ৩৯ কোটি ৯৬ লাখ, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ, ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে ৩৭ কোটি ১৯ লাখ, ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ২১ লাখ, ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে ৯২ কোটি ৮৪ লাখ, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৫১ লাখ, ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে ৯৭ কোটি ১৯ লাখ, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে ১২ কোটি ৭৯ লাখ, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ১৬ কোটি ৮১ লাখ, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৩ লাখ, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ২ লাখ, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ৮১ কোটি ৮৭ লাখ, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৮৫ কোটি ৮২ লাখ, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ছিল ৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ২০০০-০১ অর্থবছরে এই মিলের লোকসান দেখানো হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চালুর আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি
বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলের ২নং ইউনিট চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইরস্থ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগের সমাবেশে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আদমজী জুট মিল পুণরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি। চাকুরী হারানো শ্রমিকদেরও চাকুরী ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৭ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ‘জর্জেট জামদানী শাড়ি পল্লী’ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী জুট মিলের ২নং ইউনিট চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ আদমজী জুট মিল সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবছর এই দিনটিতে নানা কর্মসূচী পালিত হয়।

আরো ১০টি পাটকল বন্ধ
এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল বন্ধ হওয়ার কয়েক বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে বন্ধ হয়ে গেছে আরো অন্তত ১০টি পাটকল। বন্ধ হয়ে পড়া জুট মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত তাজ জুট প্যাকিং কোম্পানী, প্রাইম জুটেক্স, শীতলক্ষ্যার পূর্বতীরে সোনাকান্দার সারোয়ার জুট মিল, নবীগঞ্জে জামাল জুট মিল, উত্তর নদ্যার আমিন ব্রাদার্স জুট এন্ড কোঃ, কাঁচপুর এলাকায় আনোয়ার জুট মিল, এলাইড জুট মিল, রূপগঞ্জে তারাব এলাকায় নিশান জুট মিল, গাউছিয়া জুট মিল, মাসরিকী জুট মিল। যেগুলোর অনেকগুলোর অবকাঠামোও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার অবকাঠামো থাকলেও বিক্রি করে দেয়া হয়েছে মেশিনারীজ। ওই সকল জুট মিলের লাখো শ্রমিকের কান্না আজো থামেনি। অনেক মিলের অবকাঠামো ব্যবহৃত হচ্ছে গোডাউন হিসেবে। নারায়ণগঞ্জের পাশর্^বর্তী ডেমরা ও নরসিংদীতে ৪টি সরকারী পাটকল চালু থাকলেও নারায়ণগঞ্জে বেসরকারীভাবে ৪ টি পাটকল ও একটি স্পিনিং মিল চালু রয়েছে। তবে সেগুলোও ধুঁকছে নানা সমস্যায়। সরকারের বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ নীতিমালার আওতায় বন্ধ আদমজী জুটমিলের ২নং ইউনিটের স্থানে ৫০ তাত বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট তৈরির মিল স্থাপন এবং মনোয়ারা জুট মিলকে টিস্যু পেপার মিলে রুপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে গত এক যুগে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত আরো ১০টি জুট মিল। চালু থাকা মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচপুর বাজার এলাকায় নওয়াব আব্দুল মালেক জুট মিল, রূপগঞ্জের তারাবোর টাটকী এলাকায় অবস্থিত নিউ ঢাকা জুট মিল, উত্তরা জুট মিল, কা নে নবারুন জুট মিল।

ইপিজেডে ৪৪ হাজার কর্মসংস্থান
আদমজী বন্ধের প্রায় ৪ বছর পরে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ সেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে আদমজী ইপিজেড গড়ে তোলা হয়। গত ১০ বছরে আদমজী ইপিজেডে কর্মসংস্থানে হয়েছে ৪৩ হাজার ৯২১ জন শ্রমিকের। যার মধ্যে রয়েছে কয়েক শতাধিক বিদেশী শ্রমিকও। দেশী বিদেশী ৬১ টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছে ৩৩৯.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানী হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সমমানের পণ্য। ইতিমধ্যে ভারত, কোরিয়া, হংকং, কানাডা, জার্মান, ইউইএ, ইন্দোনেশিয়া সহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ বিনিয়োগ করেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কারখানায় রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট, জুতা, ইলেক্ট্রিক কেবলস, বিভিন্ন রকমের পাষ্টিক সামগ্রীর উৎপাদন চলছে। বছরে প্রায় সাড়ে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানী হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বেপজার জিএম জানান, আদমজী ইপিজেডে ২২৯টি শিল্পপ্লট রয়েছে। বরাদ্দ বাকী রয়েছে ৩/৪টি। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এতে অন্তত এক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও ৮০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা বেপজা কর্তৃপক্ষের।

ইপিজেড নিরাপত্তা বলয়ে
বেপজার নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন আনসার বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে চারপাশে ১৪ ফুট উঁচু বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি ইপিজেডকে সম্পূর্নভাবে বন্যার পানি থেকে মুক্ত রাখতে ইপিজেডের চারপাশে ভূমি থেকে কয়েক ফুট উঁচু রাস্তা (অনেকটা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের মতো) নির্মান করা হয়েছে। ইপিজেডের পাশে শীতলক্ষ্যা নদীতে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পোর্ট হতে নদীপথে সরাসরি হংকংয়ে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী করা যাবে। ইপিজেডের ভেতরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব-১১-এর সদর দফতর এবং তাদের অধীন ২টি ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি (সিপিসি) রয়েছে। ইপিজেডের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য অর্ধশত বছরের পুরনো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ভবন বাইরে সরিয়ে আনা হয়েছে। র‌্যাব-১১-এর জন্য ইপিজেডের সামনেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪ এর অফিসও ইপিজেডের অভ্যন্তরে স্থাপিত করা হয়েছে।

না’গঞ্জে আ’লীগের রাজনীতির হাওয়া বদলে যাচ্ছে

নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাওয়া বদলে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ডাকে এক মে  শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবু সহ ৫ এমপি উপস্থিত হওয়ার পর থেকেই বদলে যাচ্ছে আওয়াামী লীগের রাজনীতি। স্থানীয় এমপিদের মধ্যে কয়েকজনের যে বিরোধ এর আগে প্রকাশ্য দেখা গেছে তাঁদেরকেই এবার দেখা গেছে এক মে । একে অন্যের সঙ্গে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবেই আলোচনা করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসন ও একটি সংরক্ষিত নারী আসন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তাঁর ছোট ভাই শামীম ওসমান এমপি। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্টজন। অন্য দুটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে গোলাম দস্তগীর গাজী ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম বাবু। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হলেন হোসনে আরা বেগম বাবলী। এ ৬ এমপির মধ্যে বাবুর সঙ্গে মূলত শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের দূরত্ব পাওয়া গেছে।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর নামে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, আজকের ইফতার পার্টিতে উপস্থিত রয়েছেন নজরুল ইসলাম বাবুরর মত একজন দক্ষ নেতা যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমার আদরের ভাগ্নে। আমার খুব হের ভাগ্নে নজরুল ইসলাম বাবু।
এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জকে আলোকিত ঐক্যবদ্ধ দেখতে চাই। নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শামীম ওসমান। আমি শামীম ওসমানকে অনুরোধ করবো নারায়ণগঞ্জকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে বেঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। শামীম ওসমান যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করছেন। যোগ্য এ নেতা আগামীতে নারায়ণগঞ্জের জন্য পরীক্ষিত নেতৃত্ব বের করবেন।’
দীর্ঘক্ষন দুজনের মধ্যে মে  কথাও হতে দেখা গেলো। তবে আগের মত তাদের মধ্যে বৈরি সম্পর্ক নেই সেটাও বোঝা গেলো।
অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন বলেন, একেএম শামীম ওসমানকে নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। আমার হাতে যার রাজনীতিতে হাতে খড়ি সারাদেশের একজন রাজনৈতিক সংগঠক শামীম ওসমান। নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। আগামীতে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য অবদান রাখতে চাই। আগামীতে যেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ ও নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি তাই সকলের কাছে দোয়া চাই। সকলের সহযোগীতা চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন যাত্রায় শরিক হতে চাই। আপনাদের সহযোগীতা দোয়া নিয়ে মেহেনতি মানুষের পাশে নিজেকে নিবেদন করতে চাই।
অন্যদিকে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ এক হয়েছে। যারা সুযোগ সন্ধানী, যারা ডক্টর কামালের সঙ্গে বৈঠক করে, সুযোগ বুঝে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে, যারা পিছন থেকে আওয়ামীলীগকে আঘাত করতে চায় ওই সব ব্যক্তি ছাড়া আমাদের আওয়ামীলীগ এক হয়েছি।

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জেলার ক্ষেত্রে একেএম শামীম ওসমানের সাথে দুরত্ব ছিল এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর। গত সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে পরোক্ষভাবে এ দু এমপির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই অনেকটা প্রকাশ্যে এসেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন এমপি বাবুর ভগ্নিপতি এটি ফজলে রাব্বি। আর শামীম ওসমান ও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা পরোক্ষভাবে কাজ করেছিলেন সাদেকুর রহমানের পক্ষে। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে আনতে তখন শামীম ওসমান ও বাবুর মধ্যে অঘোষিত লড়াই ছিল। শেষতক রাব্বি মনোনয়ন পেলেও ভোটে বাজিমাত ঘটনা সাদেকুর রহমান।
এদিকে শহরের রাজনীতিতে মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াত আইভীর বলয়ে ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবু এমন গুঞ্জন আছে। অবশ্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। ওইদিন এমপি বাবু ছিলেন আইভীর পাশে বসা। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে একমাত্র বাবুকেই দেখা গেছে ওই অনুষ্ঠানে। তবে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে একই মে  উপস্থিত হয়েছেন শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবু। দুজনই দুজনের প্রসংশায় প মুখ ছিলেন। গুণকীর্তনও কম করেননি একে অপরের। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন নতুন করে ইউটার্ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। বক্তব্যে একই সুরে সুর মিলিয়েছেন দুজনই।

এর আগে বন্দরে শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় সেলিম ওসমানের সমালোচনা করে টক শোতে বক্তব্য রেখেছিলেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। পরে অবশ্য মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনি নারায়ণগঞ্জের একজন এমপি অথচ ঘটনার পর টক শোতে গিয়ে আমাকে উপদেশ দেন। টিভিতে না গিয়ে আমার সঙ্গে সরাসরি বসুন, আলোচনা করি আসুন। সমালোচনা করবেন দূর থেকে এটা তো ঠিক না বাবু সাহেব।’

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ জুন ২০১৬

Related posts