September 19, 2018

দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাঃ জেলা ইসি

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নানা ঝড়-ঝাপটার বাঁধ ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। আর কয়েক ঘন্টা পরে’ই জেলার দুটি পৌরসভার নির্বাচন। রাত পোহালে’ই শুরু হবে ভোট যুদ্ধ। দুই পৌরসভায় ২৬টি পদের ৫টির ফয়সালা বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় হওয়াতে ২১টি পদের জন্যে লড়বেন ৬৯ প্রার্থী। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে বিধি অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা প্রচারণা চালাতে পারবে না। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর (সোমবার) রাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিবেন বলে জানা গেছে।

পৌরসভা নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জেলা নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জেলা নির্বাচন কমিশনার মো: তরিফুজ্জামান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করেছি। কাজেই রূপগঞ্জ তারাব এবং সোনারগাঁ পৌরসভার ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। যারা দায়িত্বে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম হলে যেন তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া আছে। প্রতি কেন্দ্রে ১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতিবুথে ১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ রয়েছে।

নির্বাচনে রূপগঞ্জ তারাব ও সোনারগাঁ পৌরসভায় একযোগেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ দুটি পৌরসভায় মোট ১ লাখ ১হাজার ৩‘শ ৩৯জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২টি পৌরসভায় মেয়র পদে ৯ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

নির্বাচনে তারাব পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ৭৮ হাজার ৮‘শ ৯৭জন ভোটার রয়েছেন। মেয়র প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। ৩ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হওয়ায় ৬টি ওয়ার্ডে ২১জন পুরুষ কাউন্সিলর ও ২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হওয়ায় একটিতে ৫ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

অন্যদিকে সোনারগাঁয়ে ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। আর এতে ৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধারণা করছে ভোটাররা। এখানে ২২ হাজার ৪‘শ ৪২ জন ভোটার রয়েছে। মেয়র প্রার্থী ৪জন এবং কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৩৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৮ এবং মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ৬জন।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী ও অপরাধী ধরতে ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, এপিবিন, আনসার, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছে। প্রতিটি পৌরসভায় রয়েছে একটি করে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী দুইদিন থেকে ভোটগ্রহণের পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত অর্থাৎ নির্বাচনের দিনসহ মোট সাত দিন যাতে অস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা অস্ত্রসহ চলাফেরা না করেন কিংবা অস্ত্রবহন ও প্রদর্শন না করেন সে জন্য জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্র গুলোতে প্রায় ৭‘শ পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবে। সেইসাথে সকলের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এতে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিপত্রে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৯ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ জন ফোর্স রাখার কথা বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে ৫ জন (অস্ত্রসহ) ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ৬ জন (অস্ত্রসহ) পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া অস্ত্রসহ আরও দুজন করে আনসার বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts