November 18, 2018

দালালের খপ্পরে পড়ে লেবানন গিয়ে মারা গেলেন নরসিংদীর শান্তা!

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লেবাননে গিয়ে অকাল মৃত্যুর শিকার হয়েছে শান্তা ইসলাম নামে বাংলাদেশের এক যুবতী। তার বাড়ী নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার গীর্জাপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত বাচ্চু মিয়া এবং মায়ের নাম হামিদা বেগম। শান্তার লাশ এখনো বৈরুতের একটি হাসপাতালে পড়ে রয়েছে। টাকার অভাবে তার মা হামিদা বেগম শান্তার লাশ দেশে আনতে পারছে না। শান্তার মৃত্যুর খবরে মুষড়ে পড়েছে তার মাসহ গোটা পরিবারের সদস্যরা। মা হামিদা বেগমের আহাজারিতে গীর্জাপাড়ার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অথচ তার সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসছে না।

জানা গেছে, শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের গীর্জাপাড়ার মৃত বাচ্চু মিয়ার কন্যা শান্তা ইসলাম মায়ের সংসারের অভাব দুর করার জন্য চাকুরী খুজতে থাকে। এ অবস্থায় এলাকার একটি দালাল চক্র তাকে ২০১৩ সালে বিদেশে চাকুরী দেয়ার নামে প্ররোচিত করে লেবাননের বৈরুতে পাচার করে দেয়। তাকে যেসব কাগজ দেয়া হয় সবই ছিল ভূয়া। বৈধ কাগজপত্রের অভাবে সে কোন সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে কোন চাকুরী করতে পারেনি। সে অনেক চেষ্টা করেও কোন বৈধ কাগজপত্র যোগাড় করতে পারেনি। এ অবস্থায় সে দীর্ঘ ২ বছর একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে পালিয়ে চাকুরী করে কিছু টাকা যোগাড় করে। কিন্তু এরই মধ্যে সে মারাত্মকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে কোম্পানীর চাকুরীটি চলে যায়।

এ অবস্থায় সে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়ে। পালিয়ে পালিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে জানতে পারে যে তার লিভার ক্যান্সার হয়েছে। এ ঘটনাটি শান্তার প্রবাসী ধর্ম মা সেলিনা বেগম বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে জানায়। পরে লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকরা শান্তা ইসলামের খোঁজখবর নিতে থাকে। তার অবস্থা খারাপ দেখে জসিম উদ্দিন নামে একজন প্রবাসী সাংবাদিক এবং ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তি তাকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করে। স্থানীয় আশরাফিয়া এলাকার মনির হোসেন ও রতন মিয়া তাকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য করেন। তাকে দেখাশুনা করে প্রবাসী সুশিল সমাজের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আজাদ, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আব্দুল্লাহ তালুকদার।

এক পর্যায়ে গত ৬ আগস্ট শনিবার শান্তা বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সেখানকার গ্রীনবাংলা স্পোর্টি ক্লাবের ম্যানেজার জালাল বেপারীর সহযোগিতায় বৈরুত জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় শান্তা ইসলাম। এরই মধ্যে ঘটনাটি সেখানকার বাংলাদেশী দূতাবাসকে জানালে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বৈধ কাগজপত্রের জন্য টাকা চায়। শান্তা তার দীর্ঘ দিনের জমানো ৭শত ডলার দূতাবাসে জমা দেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস গত ৯ আগস্ট, মঙ্গলবার বৈরুতের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়। শান্তার মৃত্যুর পর তার লাশ বৈরুত হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তার লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না প্রবাসীরা। এ অবস্থায় শান্তার মা হামিদা বেগম তার কন্যার লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

এব্যাপারে শান্তার ভাই মোঃ বাতেন মিয়া ও আত্মীয়-স্বজন শিবপুরের এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করেছেন। তিনি শান্তার লাশ দেশে আনার জন্য দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।

Related posts