September 19, 2018

দামুড়হুদা-জীবননগরের ৬ ইউপিতে বিজয়ী হলেন যারা

শামসুজ্জোহা পলাশ,
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ  
২৮মে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ গুলি হচ্ছে দামুড়হুদা উপজেলার দামুড়হুদা সদর, জুড়ানপুর, কার্পাসডাঙ্গা ও কুড়ালগাছি এবং জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ও সীমান্ত। এ নির্বাচনে আ.লীগ ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ২ বিএনপি ১ ও জামায়াত সমর্থিত ১ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

দামুড়হুদা উপজেলার ৪ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন ২৪ জন, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্যপদে ৪৫ ও সাধারন ওয়ার্ডের সদস্যপদে ১শ’৫৩ জন। ৪ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৮শ ৮২ জন।

অন্যদিকে, জীবননগর উপজেলার ২ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন ১২ জন, সাধারন ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৯১ এবং সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে সদস্য পদে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ২ ইউনিয়ন পরিষদের মোট ভোটার সংখ্যা ৪১ হাজার ৬শ’১৩ জন।
শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দামুড়হুদা উপজেলার ৪ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে

বেসরকারীভাবে বিজয়ীরা হলেন যারা,  

দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নেঃ জামায়াত সমর্থিত মটরসাইকেল প্রতীকে ৮৭৩১ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফুল আলম মিল্টন বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ.লীগের নৌকা প্রতীকে ৬৭৩৭ ভোট পেয়েছেন শহিদুল ইসলাম (টুপি শহিদুল)। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১৯৯৪ ভোট।

জুড়ানপুর ইউনিয়নেঃ আ.লীগ প্রার্থী সোহরাব হোসেন নৌকা প্রতীকে ৭৩৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সাইফুল ইসলাম আনারস প্রতীকে ৬৭২৭ ভোট পেয়েছেন। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৬৩০ ভোট।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নেঃ আ.লীগ প্রার্থী খলিলুর রহমান ভুট্টো নৌকা প্রতীকে ৭৯৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্খী আবু সাঈদ বিশ্বাষ ধানের শীষ প্রতীকে ৬০৮৫ ভোট পেয়েছেন। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১৯১১ ভোট।

কুড়ালগাছি ইউনিয়নেঃ আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শাহ মোঃ এনামুল করিম ইনু তার চশমা প্রতীকে ৮৩৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সরফরাজ উদ্দীন তার আনারস প্রতীকে ৪২১৮ ভোট পেয়েছেন। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৪১৫৮ ভোট।

অপরদিকে, জীবননগর উপজেলার  

আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নেঃ  আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোক্তার আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ.লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মীর্জা হাকিবুর রহমান লিটন।

সীমান্ত ইউনিয়নেঃ চেয়ারম্যান পদে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মঈন উদ্দীন ময়েন বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ.লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আনারস প্রতীকের আব্দুল মালেক মোল্লা।

২৮ মে’র নির্বাচনকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৪ জন অস্ত্রধারীসহ ১৭ জন আনসার সদস্য নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র‌্যাব ও বিজিবি টহল ছিল চোখে পড়ার মত।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রশীদুল হাসানের সার্বক্ষনিক তদারকিতে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি লিয়াকত হোসেন ও জীবননগর থানার ওসি হুমায়ুন কবির নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য করতে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস ও পুলিশ সুপার রশীদুল হাসানের দৃঢ় ও কঠোর মনোভাব সম্পন্ন তাদের উভয়ের দায়িত্বশীল ভুমিকার কারণে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সবক’টিতেই সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ মে ২০১৬

Related posts