September 19, 2018

দাবি আদায়ে অনড় ২৯,০০০ শিক্ষক!

দাবি আদায়ে অনড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের ২৯ হাজার শিক্ষক। ৫ দফা দাবিতে আজ থেকে দুদিনের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি কলেজের সাড়ে ১৫ হাজার শিক্ষক। অধ্যাপকদের গ্রেড-১ করাসহ কয়েকদফা দাবিতে ১১ই জানুয়ারি থেকে টানা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক। শিক্ষকরা বলছেন, বারবার আশ্বাস দিয়ে কথা রাখেনি সরকার।

শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, সরকার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। শুধু প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমাদের দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো দাবি মানা হয়নি। আবার কর্মসূচি যেতে হবে। এর মধ্যে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী।

বিসিএস শিক্ষক সমিতি জানায়, দুই দিনের কর্মবিরতি আওতায় দেশের সকল সরকারি কলেজে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। এর আগে কয়েক দফা কর্মবিরতি করেছেন তারা। ওই সময় সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। আর আগামী ১১ই জানুয়ারি থেকে টানা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক। ৮ম পে-স্কেলের শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক দিক অবনমন করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে টানা ৬ মাস ধরে আন্দোলন করছেন তারা। টানা আন্দোলনে দাবির পক্ষের কিছু আশ্বাস আসলে কিছুদিন বিরতিতে যান শিক্ষকরা।

এরপর ১৫ই ডিসেম্বর পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হওয়া পর ফের দানা বাঁধতে শুরু করেছে শিক্ষকদের মাঝে। এমন পরিস্থিতি শনিবার সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সভায় ১১ই জানুয়ারি থেকে টাকা কর্মবিরতি যাওয়ার ঘোষণা দেন। কর্মসূচি চলাকালীন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের  ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের পক্ষে থাকলে কী হবে। তিনি আমাদের পক্ষে আছে বললেও অর্থমন্ত্রী বলছেন আমাদের আন্দোলন নাথিং। এবার আন্দোলন করে দেখাতে চাই আমরা কি। এবার কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে বিসিএস শিক্ষক সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি গতমাসে ২২ তারিখে দেয়া। কিন্তু আমাদের ৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার পক্ষে কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। বরং সরকারের উচ্চ মহল থেকে তিরস্কারের শিকার হয়েছি। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ আছে। দাবি আদায়ে কর্মসূচি দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

সংক্ষুব্ধ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। শিক্ষক নেতারা এখন আর কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, আমাদের দাবি ছিল শিক্ষকদের মধ্য থেকে একটি অংশকে সিনিয়র সচিবের সমান পদমর্যাদা দেয়ার বিষয়ে।

এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়। তিনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘোষিত পে-স্কেলে তার কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় প্রভাষক পদ অষ্টম গ্রেডে শুরু করা এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রাখার কথা ছিল। কিন্তু এ দুটি বিষয়ে কী পাওয়া গেছে, প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে তা স্পষ্ট নয়।

সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা আমাদের টেলিফোন করছেন। আমাদের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করেছে এজন্য আমরা হার্ডলাইনে যাচ্ছি। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবো। তবে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আগে আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবো।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts