September 24, 2018

দল পরিবর্তন করা খারাপ চরিত্রের লক্ষণ

269655_1

বিএনপি’র সাবেক এমপি মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান। ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের কার্যক্রম পছন্দ না হওয়ায় সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর আসেন রাজনীতিতে। যুক্ত হন বিএনপিতে। কিন্তু বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন; এখনো রাজনীতিতে আছেন মনেপ্রাণে, নিভৃতে। সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয়েছিলেন পরিবর্তন ডটকমের প্রতিবেদক মো. শিহাবুল ইসলাম। বর্তমান সময়ে তার ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

সক্রিয় রাজনীতি থেকে বেশ দূরে আছেন অনেক দিন, কেমন আছেন?

সক্রিয় রাজনীতি বলতে কি বুঝাতে চাইছেন সেটা বুঝতে পারিনি, সক্রিয় রাজনীতি থেকে আমি দূরে নই, আমি দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে আছি। রাজনীতি মানুষের জন্য করি। আর রাজনীতি করার জন্য একটি দলের প্রয়োজন, আমার এই মুহূর্তে কোনো দল নেই। মানুষের চেতনা, প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয়তা এগুলো নিয়ে ভাবি, কাজ করি, কথা বলি, যেখানে সুযোগ পাই কথা বলি। তাই আমি মনে করি সক্রিয় রাজনীতিতে আমি আছি। রাজনীতি যদি জনগণের কল্যাণের জন্য হয় আমি সেটা করে যাচ্ছি।

দল নেই তাহলে কি যে কোনো দলে সুযোগ পেলে ঢুকে যাবেন ?

না কোনো দলে ঢোকারতো কোনো আসে না। আমি বিএনপিতেই থাকব। কিন্তু বিএনপি আমাকে ধারণ করে না, সেখানেতো আমি কিছু করতে পারছি না। মনে, প্রানে, ধ্যানে আমি বিএনপি করি। অন্য কোনো চিন্তা আমার মাথায় নেই। দল পরিবর্তন করা আমি মনে করি রাজনীতিতে খারাপ চরিত্রের লক্ষণ। আল্লাহর কাছে সব সময় বলি তিনি যেন এমন কাজ না করান।

সামরিক বাহিনী থেকে ছেড়ে এসে রাজনীতিতে ব্যস্ত। তারপরও নীরবতা। এমন নীরবতা কতটুকু প্রত্যাশিত?

না আমি তো আসলে নিরব না, ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়েছি। চাকরি ছেড়েছি এরশাদের (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। একপর এখন দলীয় রাজনীতিতে, দলীয় বর্তমান অবস্থান, আদর্শ, লক্ষ্য এবং কার্যক্রম নিয়ে আমি প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করছি। দল এখন যেভাবে চলছে সেখানে আমি সহমত পোষণ করতে পারছি না। নীরব না থেকে আমি প্রকাশ করছি। প্রকাশ না করলেতো আমার সমস্যা হতো না। আমি বারবার বলার চেষ্টা করছি দল যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ভুল পথে যাচ্ছে। এটা আমি আজকে বলি নাই, এটা বলেছি ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বিএনপি শুনছিল না তখন। তখন এটাও বলেছিলাম যে বিএনপি রাজনীতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করছে না আর এর পরিণতি বিএনপির জন্য ভালো হবে না।

তাহলে বিএনপির কীভাবে কাজ করা উচিৎ বলে মনে করেন?

যেমন আজকে বিএনপি সরকারকে বলছে আমাদের সাথে সংলাপ করা উচিৎ, তাহলে বিএনপি কেন ৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত সংলাপ করল না? সেদিনতো আমরা বলেছিলাম আপনি সংলাপ করেন। বিরোধীদল দাবি করেছে বলে দাবি মানতেই হবে এমনতো কোনো কথা নাই, কিন্তু সেদিন করেন নাই। তাহলে আজকে ২০টা বছর পর আপনার (খালেদা জিয়ার) যে পরিবর্তনটা হল তাতে তো আপনি অনেক পিছিয়ে গেছেন। সেই ৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এসে তাদের দাবি পূরণ করলেনই তাহলে একজন লিডার হিসেবে তিক্ততার আগে কেন পারলেন না? এমনতো না যে কেউ আপনাকে বলে নাই, আমিতো অনেক বলেছিলাম আপনি এই লাইনে যান, কিন্তু আপনার মনে হয়েছে আমি সিঙ্গেল ম্যান, একা লোক। আমার কথায় কী আসে যায়! আমার কথা যায়-আসে না আপনার কাছে। কিন্তু বাস্তবে তো আপনি পতনের রাস্তায়ই আসছেন।

তাহলে কি আপনি মনে করছেন আলোচনায় না বসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই একই ভুলের পথে যাচ্ছেন?

অবশ্যই উনি ভুল করছেন, ক্ষমতায় থাকলে কেউ বোঝে না? তিনি যদি মনে করেন বিরোধী দলের সাথে কোনো পরামর্শ করবেন না, তাহলে সেটা ভুল হবে। কারণ দেশ আপনার, আমার, সবার। আপনি ভালো চিন্তা করতে পারেন, আমিও যে ভালো চিন্তা করতে পারি না সেটা আপনি কীভাবে বুঝলেন? আপনি আমার কথাটা শোনেন না, দেখেন, আলোচনা করেন। এরকম কোনো কথা নেই যে আমার দাবি মানতেই হবে। আপনি আমার দাবি না মানলেন কিন্তু আমার সম্মানটুকুতো দিবেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভুল করছেন। কিন্তু সেই ভুলের কথা আজকে কেউ তাকে বলবে না, উনার আশেপাশের সাঙ্গুপাঙ্গুরা বলবেন ইয়েস ম্যাডাম সব ঠিক বলছেন। কিন্তু যেসময় তিনি বুঝতে পারবেন যে ভুল হয়েছে তখন একই অবস্থা হবে যা আমার নেত্রীর বেলায় হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে বলা হয় আওয়ামী লীগ সরকার জেঁকে বসেছে, সহজে যাবে না।

বিএনপির বলার কি আছে? বিএনপি কি বলল না বলল তাতে সরকারের কি আসে-যায়।

বিএনপি ভাবছে আগামী নির্বাচনও যেভাবেই হোক আওয়ামী লীগ নিজেদের মতো ফলাফল আনবে। আপনার কি মনে হয়?

বিএনপি যদি ভাবে সরকার ফলাফল নিবে না, তাহলে কি তারা নিবে না? বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার কারোর কথা শুনছে না। তাহলে এটা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না, সরকার অবশ্যই ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে নিবে।

দেশের রাজনীতি এভাবে কতো দিন চলবে?

যত দিন তারা (বর্তমান সরকার) চালাতে পারবে, আর বিএনপির মত রাজনৈতিকদল যতদিন দেশে থাকবে। যত দিন বিএনপি এভাবে ভুল করে যাবে, তত দিন থাকতে পারবে। আজকে সরকার টিকে আছে বিএনপির ব্যর্থতার জন্য। বিএনপির ব্যর্থতার দায়ে সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য।

তাহলে ভবিষ্যত কি?

আমার মনে হয় না, আমি যতটুকু দেখতে পারছি এই সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেই। আর সেই নির্বাচনে বিএনপিও যাবেই। বিএনপির এই নেতৃত্ব ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের বিপক্ষে তার সমদলকে ধরে রাখতে পারবে না। বেগম খালেদা জিয়াও সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন। ইতিমধ্যে তিনি অনেক কিছু পরিবর্তন করছেন। নির্বাচনে তাকে যেতেই হবে। যখন নির্বাচনে তিনি যাবেন। ওই নির্বাচনের রায় হবেই সেই রায় অবশ্যই দেশের জনগণের পক্ষে যাবে।

এই সরকারের গত ৮ বছরে কি কোনও প্রস্তাব পেয়েছেন সরকারের সাথে মেশার বা সরকারি দলের পারপাস সার্ভ করার জন্য?

আমার জীবনে এমন দুভাগ্য হয়নি। আমি অতো সুন্দর না যে রাস্তা দিয়ে গেলেই আমাকে ডাকবে। কাজেই আমাকে প্রস্তাব দেওয়ার আগে চিন্তা করবে আমি কী? আমি নরম মাটি নাকি আগুনের টুকরো। তাই প্রস্তাব দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
….পরিবর্তন….

Related posts