September 22, 2018

দলীয় কোন্দলে নির্বাচনে হারলো ফুলবাড়ী আ.লীগ বিএনপি

মেহেদী হাসান উজ্জল,দিনাজপুরঃ   দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দলীয় নেতা কর্মীদের কোন্দলের কারনে পৌর নির্বাচনে হারলো আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। গত ৩০শে ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে সূদুর ঢাকা থেকে প্রার্থীদের পক্ষে গনসংযোগ করেছেন। এর মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হলেও অনেক জায়গায় দলীয় কোন্দলের কারনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। নানা রকম অভ্যন্তরীন কোন্দলেন কারনে ফুলবাড়ীতে ধানের শীষ মার্কা পদপ্রার্থী শাহাদৎ হোসেন সাহাজুল কে হারিয়ে দেওয়া হলো।

ফুলবাড়ীতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মনছুর আলী সরকারের নিকট আত্বীয় ফুলবাড়ী থানা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন সাহাজুল কে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে মনোনয়ন দিলেও দলীয় কোন্দলের কারণে তার পক্ষে নেতা কর্মীরা নির্বাচনে তেমন কোন ভূমিকা রাখেনি। অনেকে গোপনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট না দেওয়ার জন্য গোপনে অন্যের পক্ষ নিয়ে মাঠে মিশন নিয়ে কাজ করেছেন।  এদিকে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গসংগঠন এর নেতা কর্মীরা ক্ষোভ নিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় মাঠে কাজ করেননি। আর দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ থাকলেও অনেকে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। ফুলবাড়ীতে ধানের শীষের প্রায় ১০ হাজার ভোট রয়েছে।

দলীয় কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট তেমন চাননি। আর ফুলবাড়ী বিএনপির অবস্থা করুণ। ফুলবাড়ী থানা বিএনপির মূল মাথায় পোকা ধরেছে। আর এর কারণে সকল নেতা কর্মীরা ঐ পদে থাকা নেতাদের বহিষ্কার চাচ্ছেন। কারণ অতি গোপনে ফুলবাড়ী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গোপনে সরকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে গোপন আতাত করে বিএনপিকে পিছিয়ে দিচ্ছেন। কেউ যেন মাথা চাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। ঐ নেতারাই যেন বার বার মূল পদে বহাল থাকে। বিএনপি সভাপতির মূল নির্বাচনী এলাকা ফুলবাড়ী জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সেখানে প্রায় ৪২০০ ভোট।

কিন্তু সেই কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরতুজা সরকার মানিক নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৮৮ভোট, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন সাহাদৎ আলী শাহাজুল মাত্র ২৬৫ ভোট। পূর্বের বিএনপির নিষ্ক্রিয় অনেক নেতা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নির্বাচনের মূল কান্ডারিতে না গিয়ে তারা নির্বাচনের খরচ নিয়ে বাড়িতে বসে থাকেন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছিল। ক্ষোভের কারণে মূল পদে থাকা নেতারা গোপনে আতাতে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন। ফলে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে বলে দলের নেতা কর্মীরা বলছেন।

অন্যদিকে ফুলবাড়ীতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্র থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহাজাহান আলী সরকার পুতু কে দল থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার (এমপি)’র ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের বহিস্কৃত সভাপতি খাজা মঈনুদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে পৌর মেয়র পদে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ২৯৯টি।

এদিকে আওয়ামীলীগের ভিতরে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা তাকে ভোট না দিয়ে তারা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নারিকেল গাছ মার্কা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। এই নিয়ে দলের মধ্যে চলছে চরম গুঞ্জন। অনেকে নির্বাচনের খরচ নিয়ে কর্মীদেরকে খরচ না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে বসে ছিলেন্। অভিযোগ উঠেছে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে অন্যের পক্ষে কাজ করেছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। শাহজাহান আলী সরকার পুতু তার নিজ এলাকা কাঁটাবাড়ী ফুলকুড়ি কেন্দ্রে ও আওয়ামীলীগের দূর্গ সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম হয়েছেন। বাকি ৮টি কেন্দ্রের কোথাও দ্বিতীয় কোথাও তৃতীয় এবং চতুর্থ হয়েছেন।

নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যর বেনার নিয়ে মাঠে মন্ত্রীর ভাগিনে এ্যাডভোকেট মহীউদ্দিন কাদের ও তার ভাই খাজা মঈনুদ্দিন নির্বাচনের মাঠে গণসংযোগ করে সাবেক মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক এবং সাবেক মেয়র শাহাজাহান আলী সরকার পুতুকে তুলধুনা করে বক্তব্য রাখেন। দেখা গেল নির্বাচনের পরের দিন বিজয়ী প্রার্থী মুরতুজা সরকার মানিকের বাড়িতে এ্যাডভোকেট মোঃ মহীউদ্দিন কাদের ফুলের তোড়া নিয়ে তার হাতে দিয়ে বরণ করে নেন । এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেখে দলীয় নেতা কর্মীরা হতবাক হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক অনেকে বলছেন সরকার পরিবারের  কেউ যেন দলের বড় পদে বসতে না পারে এজন্য ভিতরে এবং বাহিরে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। যার কারণে তাকে দলীয় নেতা কর্মীরা ভোট দিতে চাইলেও তাদেরকে অন্য দিকে ভোট দেওয়ার উৎসাহিত করা হয়। এজন্য ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের  প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts