November 19, 2018

দরজা খুলেই নামাজে দাঁড়িয়ে পড়েন ২৮ নারী

55vরাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সন্দেহে ২৮ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে ওই নারীরা একসঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই নারীদের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার এ দাবি করেন।

বিপ্লব কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে তাজমহল রোডে ১১/৭ নম্বর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাড়িটির মালিক শাহনাজ বেগম। তিনি জানান, পুলিশ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে দরজায় কড়া নাড়ে। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। সে সময় একজন হঠাৎ করেই দরজা খুলে দেয়। পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, নারীদের সবাই নামাজে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের নামাজ শেষ হওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষা করেন।

উপকমিশনার আরো জানান, ওই বাসা তল্লাশি করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উদ্দেশে লেখা ৫০টি লিফলেট, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জনকল্যাণমুখী আদর্শ সরকার গঠনে নিয়মতান্ত্রিক অন্দোলনের’ ৬৫টি লিফলেট ও পাঁচটি লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতের বিভিন্ন সংগঠনের মাসিক রিপোর্টের পূরণকৃত ৩০টি ও অপূরণকৃত ১৫টি ফরম, বায়তুল মালের একটি রসিদ বইসহ আরো মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের সবাই উচ্চশিক্ষিত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা নাশকতার মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেক নারী দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

বিপ্লব কুমার জানান, গ্রেপ্তার ওই নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ওই বাসায় গোপন বৈঠক করেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন তাঁরা। মূলত গোপন বৈঠকের জন্যই তাঁরা বিভিন্ন স্থান থেকে ওই বাসায় জমায়েত হয়েছিলেন। যড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১৯৭৬ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(১)(প)/১৫(৩) ধারায় ওই ২৮ নারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Related posts