September 24, 2018

দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশে চাঁদপুরের আড়ৎগুলো জমে উঠেছে

13
এ কে আজাদ,চাঁদপুর : দুই সপ্তাহ ধরে চাঁদপুরে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আমদানি হলেও গত দুই’দিন ধরে কিছুটা কমে এসেছে। সম্প্রতি চাঁদপুরের নদ নদীতে জেলেদের জালে কম পরিমান ইলিশ ধরা পড়লেও ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলার নদীগুলোতে। আর সেই ইলিশ ট্রলার বোঝাই হয়ে আসছে ইলিশের বাড়ী চাঁদপুরে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছের আড়ৎ চাঁদপুর বড়স্টেশনে অবস্থিত ইলিশঘাটে গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ইলিশের প্রচুর পরিমাণ আমদানি দেখা গেছে। আর ইলিশের প্রচুর আমদানী ও রপ্তানিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে ইলিশের আড়ৎ মালিকদের মনে।

চাঁদপুর নদ নদী ছাড়া ও দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, চরফ্যাশন, দৌলতপুর, দক্ষিণ হাতিয়া, সন্দিপ, নিঝুমদিপ, রামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও নোয়াখালী এলাকা থেকে চাঁদপুর মাছঘাটে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আসছে। এর ফলে চাঁদপুর মাছ ঘাটে ব্যাপক হারে ইলিশের দেখা মিলছে। চাঁদপুর মাছ ঘাটে গত দুই’সপ্তাহ যাবৎ গড়ে প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশ মাছ আমদানি হয়েছে। তবে গত দুইদিন ধরে কিছুটা কমে এর পরিমান দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার মণে। এদিকে চাঁদপুরে ইলিশের আমদানির কারণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, দাদনব্যবসায়ীসহ শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইলিশের আমদানির কারণে মৎস্য আড়ৎদারদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শ্রমিকরাও ইলিশের আমদানির কারণে মাছ উঠা নামা নিয়ে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছে। নিঝুমদিপ থেকে মাছ নিয়ে আসা জেলে মনু মাঝি জানান, সাগর থেকে শুরু করে দক্ষিনাঞ্চলের নদী গুলোতে প্রচুর পরিমান ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পরছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এই সময়টিতে ইলিশ ধরা পরাতে আমারা অনেক খুসি। হাতিয়ার জাহাজমারার জেলে সোহান মাঝি জানান, এখন জো চলছে, এই সময়টিতে ইলিশ ধরা পরছে বেশী। আমরা জিবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাগরে ইলিশ ধরতে যাই। কারন বর্তমানে সেখানে জলদস্যুদের উৎপাত অনেক বেশী। তিনি আরো জানান, সামনে আরো বেশী ইলিশ ধরা পরার সন্বাভনা রয়েছে।

12

এদিকে চাঁদপুর মাছ ঘাটের মৎস ব্যাবসায়ী বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া জানান, দুই সপ্তাহ ইলিশ মাছের আমদানি ভালো থাকলেও গত দুইদিন এর পরিমান কিছুটা কমে এসছে। এর ফলে দামও কিছুটা বেড়েছে। তিনি জানান, ইদের আগে ইলিশের দাম কমার সন্বাবনা কম। তবে কয়েকনি পর আরো একটি জো রয়েছে সেই জোতে ইলিশ ধরা পরার সন্বাবনা রয়েছে তখন দাম আরো কমে যাবে। শনিবার ১৮ আগষ্ট সরজমিনে গিয়ে বড়স্টেশন মাছঘাটে দেখা যায়, চাঁদপুরে দক্ষিনাঞ্চলের ইলিশ ১ থেকে ১২শ গ্রামের প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজির মূল্য ১ হাজার টাকা, ৭শত থেকে ৮শত গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২৭ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজি মূল্য ৭ শত টাকা, ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ইলিশ প্রতি মণ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজি ৫ শত থেকে ৬ শত টাকা, এ ছাড়া ও ছোট সাইজের ইলিশ ৩শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকা দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাঁদপুরের রূপালী ইলিশের দাম একটু বেশী। ১ থেকে ১২শ গ্রামের প্রতিমণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ৫২ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজির মূল্য ১২ থেকে ১৩শ টাকা, ৭শত থেকে ৮শত গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩৪ হাজার থেকে ৩৬ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজি মূল্য ৭ শত টাকা থেকে সাড়ে ৭শ টাকা, ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ইলিশ প্রতি মণ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, যার প্রতি কেজি ৫ শত থেকে ৬ শত টাকা, ইলিশের আমদানি হওয়ার পর ও কেন চাঁদপুরে ইলিশের দাম বৃদ্ধি জানতে চাইলে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী জানান, চাঁদপুরে যে পরিমাণ ইলিশ আসছে, সেই ইলিশ শুধু চাঁদপুরে নয় এগুলো বরফজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব ইলিশ চিলেট, মৌলভী বাজার, ঢাকা, যশোর, রংপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

5

Related posts