November 17, 2018

থার্টি ফার্স্টে মাতলো না তারকা হোটেল; বিদেশীরাও ঘরে

প্রথমবারের মতো সন্ধ্যার পর থার্টি ফার্স্টে এবার পাঁচ ও তিন তারকা হোটেলগুলোতে ছিল নিরুত্তাপ। কারণ এবার ছিল পুলিশের বারণ। অন্যদিকে সতর্কবাতাও ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর। নিরাপত্তার ঘেরাটোপতো ছিলই। ফলে এবারের খ্রিস্টীয় নববর্ষবরণে রাজধানী ঢাকা এবং পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্ন তারকা হোটেল তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করে। বিদেশীরাও থার্টি ফার্স্টে পাঁচ তারকা এবং তিন তারকা মানের হোটেলগুলোতে বাতিল করেছেন তাদের আয়োজন। গত সোমবারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও থার্টিফার্স্ট রাতে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান দেশবাসীকে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর রাজধানীতে কোনো বার খোলা থাকবে না। মাদকের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে। তবে পাঁচ তারা হোটেলে বিদেশী পাসপোর্টধারীদের ব্যাপারে এই নিয়ম শিথিল থাকবে। সেই সাথে ইনডোরে অনুষ্ঠান করতেও কোনো বাধা নেই। আর এর ফলেই বিদেশী এবং তারকা মানের হোটেলগুলোও থার্টি ফার্স্ট আয়োজনে বেহালদশা। গত সোমবার দুপুরে ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদ সম্মেলনে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উপলক্ষে নিরাপত্তার আয়োজন তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, গুলশান, বারিধারা, বনানীতে রাত ৮টার পর বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন ঢুকতে দেয়া হবে না। এসব এলাকায় প্রবেশের জন্য শুধু কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) ব্যবহার করা যাবে। মাদকের বিষয়েও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে।

৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর রাজধানীতে কোনো বার খোলা থাকবে না। পাঁচ তারা হোটেলে বিদেশী পাসপোর্টধারীদের ব্যাপারে এই নিয়ম শিথিল থাকবে। এদিকে গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তায় বাংলাদেশে থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে গোলযোগের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। আর এর ফলেই বিভিন্ন তারকা মানের হোটেলে বিদেশীদের আগাম বুকিং দেয়া বিভিন্ন আয়োজন বাতিল করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন দূতাবাস ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত স্ব-স্ব দেশের নাগরিকদের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করে দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র আরো জানায়, পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের পর সীমিত আকারে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাও বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি ফাইভ স্টার হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারে থার্টি ফার্স্টে পাঁচ তারকা হোটেলে অতিথি কমেছে ৪০ ভাগ।

অগ্রিম বুকিং দিয়েও অনেক অতিথি আসছেন না। বিদেশী ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় থাকা হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারী থেকেই তাদের অতিথি কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এবারের থার্টি ফাস্টেও সেই প্রভাব বিরাজমান। বিদেশীরা নিজেদের গুঁটিয়ে রাখছেন। প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেয়া হোক বা না হোক প্রায় সব দেশেরই দূতাবাস কর্মকর্তা ও তাদের পরিজনদের সর্বদা সতর্ক রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস ও ব্যবস্থা নেয়ার পরও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা প্রচার অব্যাহত রাখায় সৃষ্ট শঙ্কা থেকেই এ গুঁটিয়ে রাখা। অন্যদিকে পর্যটন শহর কক্সবাজারে নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারী পর্যন্ত পাঁচদিন সন্ধ্যার পর সৈকতে সব অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

প্রতি বছর কক্সবাজারে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ও বেড়ানোর জন্য আগাম হোটেল ‘বুকিং’ করলেও আকস্মিক বন্ধ করায় কয়েক হাজার পর্যটক ইতিমধ্যে তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সৈকতের সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে। সন্ধ্যার পর থেকে সৈকতে কোন প্রকার অনুষ্ঠান করা যাবে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের অন্যান্য স্থানের অনুষ্ঠানগুলোও সন্ধ্যার আগেই শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেয়া হয়। তারকা হোটেল সী-গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন দিন থেকে আগামী ১০ দিন পর্যন্ত তাদের ১৭৯টি কক্ষের ৮০ ভাগই আগাম বুকিং হয়েছিল। গত সোমবার অনেকেই তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেছেন।

হোটেল কক্স টুডে থেকে বেশ কিছু পর্যটক তাদের দেয়া বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন হোটেলটির ম্যানেজার (এডমিন) মামুনুর রশিদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর পরে থার্টি ফার্স্ট নাইট পালনের জন্য কয়েক লাখ দেশী-বিদেশী পর্যটক দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts