September 25, 2018

‘থার্টিফার্স্ট নাইট’-নৈতিক মুল্যবোধকে ধ্বংস করে

মুহাম্মদ আবদুল কাহহার

ঈসায়ী সনের শেষ দিনটি ৩১ ডিসেম্বর। রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয় নতুন বছর গণনা। ঈসায়ী সনের শেষ রাত ঘিরে ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ কথাটি প্রচলিত।  থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেউ কেউ ‘থার্টি ওয়ান ফার্স্ট নাইট’ কেউ বা ‘থার্টিফার্স্ট ডিসেম্বর’, কেউ কেউ ‘মাদকের হাতে খড়ি দিবস’, বলে অভিহিত করেছেন। রাতের নামকরণ যাই হোক না কেন মূল কথা হলো, ঈসায়ী সনকে আনন্দের সাথে উদযাপন করা। আর নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুস্থ সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু এ রাতের ইতিবাচক দিকের তুলনায় নেতিবাচক দিকই শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর জীবনে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। প্রাচীন ব্যাবিলনে জুলিয়াস সিজার চার হাজার বছর পূর্বে ঈসায়ী নতুন বর্ষ উদযাপনের প্রচলন শুরু করেন। তেমনি বাংলাদেশর তথাকথিত ‘সংস্কৃতমান’রাও থেমে নেই, পশ্চিমা সংস্কৃতিকে নিজেদের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেয়া যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে নতুন বছর গণনা শুরু হলেও ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় বর্ষ বরণের নামে নানা অনুষ্ঠান ও অপসংস্কৃতি চর্চা।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কারণে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের বাসিন্দারা সবার আগে রাত ১২টা অতিক্রম করে বিধায় সবার নজর সিডনি শহরের দিকেই থাকে। সিডনি শহরের রাত ১২টা ১ মি. সময় বাংলাদেশের সময় সন্ধ্যা ৭টা ১ মি.। অতি উৎসাহিরা সিডনি শহরের সময় অনুযায়ী বাংলাদেশেও ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের প্রাথমিক পর্ব শুরু করে থাকেন ৭টা ১মিনিট থেকেই। একেক দেশে একেক সংস্কৃতির মাধ্যমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন অন্য জনের ‘গায়ে পানি ছিটিয়ে’ থাইল্যান্ডের উৎসব, ‘আঙুর খেয়ে’ স্পেনের উৎসব, নববর্ষের শুরুতে ঘুমালে চোখের ভ্রু সাদা হয়ে যায়, সে কারণে শুরুর সময়টাতে ‘না ঘুমিয়ে’ কোরিয়ানদের উৎসব, রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে ‘বারটি ঘণ্টা বাজানোর মাধ্যমে’ মেক্সিকোর উৎসব, ভোর হওয়ার সাথে ‘শিক্ষকদের নিকট দীর্ঘায়ু কামনা’ করে ভিয়েতনামের উৎসব, ‘পরিবারের সব সদস্যরা একত্রে রাতের আহার করার মাধ্যমে’ আর্জেন্টিনার উৎসব, ‘সাদা পোশাক পরিধান’ করে ব্রাজিলবাসীর উৎসব পালিত হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে এ বর্ষবরণে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও আদর্শবাদী মানুষেরা যখন গভীর ঘুমে মগ্ন এমন সময় পটকা ফাটিয়ে, ঢোল পিটিয়ে আতশবাজি করে প্রচন্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে দিয়ে রাজ পথে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ শ্লোগান কী ধরণের বাঙালী চেতনা তা বোধগম্য নয়। টাকার বিনিময়ে বিশাল বলরুমে লাইভ ব্যান্ড শো, ফ্যাশন শো, ককটেল ফুড, ডিজে পার্টি, লাকি ড্র, এবং সারা রাত নাচ উপভোগের সুযোগ নৈতিক মুল্যবোধকে ধ্বংস করে। গান বাজনা, নাচ-গান, ডিস্কো কিংবা ডিজে, পটকাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনা, আনন্দ শোভা যাত্রা, তরুণ-তরুণীদের রাতভর উল্লাস, মদ-বিয়ারসহ নানা মাদকদ্রব্য সেবনে প্রলুব্ধ করতে ওপেন এয়ার কনসার্ট, লাইভ ড্যান্স, সংঙ্গীতানুষ্ঠানে অপসংস্কৃতি চর্চা হয় এবং তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করার জন্য থাকে নানারকম আয়োজন। জীবননাশক নেশাদ্রব্য সাথে নিয়ে অবিবাহিত তরুণ-তরুণী কোলাহল মুক্ত, লোক চক্ষুর অন্তরালের স্থানগুলোতে মিলিত হওয়ারও খবর পাওয়া যায়।

এছাড়া, কতিপয় নামকরা চরিত্রহীনরা সৌন্দর্য  প্রদর্শনের নামে নিজেকে এমনভাবে খোলামেলা উপস্থাপন করে, যা অশ্লীলতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে। কিছু কিছু তরুণ-তরুণীদের রেস্তোরাঁ, পার্ক, উদ্যান, নাইট ক্লাব ইত্যাদি স্থানে ঘুরতে দেখা যায়। এভাবে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে প্রায়শই। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে টিএসসিতে ‘বাঁধন’র শ্লীতাহানী করে ১০/১২ জনের একটি দল। নানাবিধ অপসংস্কৃতির মাধ্যমে অশ্লীলতা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলছে। অশ্লীল নৃত্যের আয়োজনের পাশাপাশি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ঘটনা চোখে পড়ার মতো। ‘মডার্ন’ হওয়ার নামে তরুণ-তরুণীরা এভাবেই ধ্বংস হচ্ছে।

‘এক দিনের বাঙালী ও চেতনাধারী ব্যবসায়ী’ হিসেবে পহেলা বৈশাখে যাদেরকে আমরা রাজপথে দেখি তারাই আবার ‘থার্টিফার্স্ট’র মতো ভিনদেশী সংস্কৃতি পালনে অতি উৎসাহী। যে সব তরুণরা প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে রাঁজপথ, হোটেল ও কনসার্টে গিয়ে অংশ নিবেন তারা কি পারেন না, বস্ত্রহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কিংবা অনাহরীরি মুখে একমুঠো খাবার তুলে দিতে। কিন্তু তরুণদেরতো সেই কাজগুলো করতে দেখি না। তখন প্রশ্ন জাগে এরা আসলে দেশের মানুষের জন্য কিছু করেন না বরং দেশীয় উৎসবের নামে নিজেরা আনন্দে মেতে ওঠেন।

‘থার্টিফার্স্ট নাইট’কে ঘিরে অশ্লীল-নৃত্য আর মাদকের ছড়া-ছড়ির কারণে ভ্রমণে যাওয়া ভদ্র পরিবারগুলো নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। রাত যতই গভীর হয় ততই বাড়তে থাকে নানা ধরনের বেহায়াপনা। কখনো কখনো অসামাজিক কার্যকলাপও ঘটে। বিভিন্ন সময়ে, নির্লজ্জভাবে, হাজার-হাজার দর্শক, শ্রোতা ও মিডিয়ার সামনে নামমাত্র পোশাকে উপস্থিত হয়ে থাকে অনেকে। ছেলে-মেয়েদের চরিত্র নষ্ট হওয়ার এটিও একটি অন্যতম কারণ। এর ফলে সর্বত্রই বেড়ে যায় ইভটিজিংসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ছিনতাই কারীদের মতো কিছু সুযোগ সন্ধানী, চরিত্র হরণকারী মানব নামক ‘দানব’ রয়েছে। যারা প্রচন্ড- ভিড়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নারীদের সংস্পর্শে আসতে চেষ্টা করে। কখনো একাকী, কখনো সদলবলে। এসব চরিত্রহীনরা থার্টিফার্স্ট নাইটের মতো পশ্চিমা দেশ থেকে আমদানি হওয়া বৈদেশিক উৎসবকে ঘিরে ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বিষয়টি অভিভাবক ও সচেতন মহল ভেবে দেখবেন বলে আশা করি।

‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উদযাপন-চরিত্র হননের একটি মাধ্যম। অল্লীলতা, বেহায়পনা, নগ্নতাই যার ভিত্তি। নতুন বর্ষ উদযাপন করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। নিছক আনন্দের আড়ালে মানুষের চরিত্রের পশুবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। এটি দেশীয় বা ইসলামি সংস্কৃতি-তো নয়-ই বরং অপসংস্কৃতি বললেও হয়তো কম বলা হবে। ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ আসার আগে থেকেই একে বরণ করার চেষ্টায় মরিয়া এক শ্রেণির যুবক-যুবতী ও তরুণ-তরুণী। প্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা বিবাহীত নারী পুরুষের তুলনায় কম বয়সী নতুন প্রজন্ম একে বরণ করতে বেশ আগ্রহী। খ্রিস্টীয় নতুন বর্ষবরণের আনন্দের নামে যা কিছু করা হয় তার অধিকাংশই নেতিবাচক। বিশেষ করে নতুন পোশাক পরিধান করে অবৈধ সম্পর্কের ছদ্ম পরিচয়ে ছেলে হলে মেয়ে বন্ধু, আর ময়ে হলে ছেলে বন্ধুকে নিয়ে গভীর রাতে কিংবা দিনের কোন একটি বৃহৎ সময় ধরে  নতুন কোন পরিবেশে আনন্দে হারিয়ে যাওয়া। কৌতুহলী হয়ে বা অভ্যাসগতভাবে নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা । নাচ-গান ও অশ্লীলতায় মত্ত হওয়া।

মূলত নতুন প্রজন্মের একটি বৃহৎ অংশ ‘দেশপ্রেম’র বদলে ‘দশপ্রেম’ করতেই বেশি আগ্রহী। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নগ্নতা, ডিজে পার্টির নামে অবৈধ সম্পর্কের সুযোগ করে দিয়ে সভ্যতা শেখানো যায় না। বরং এতে করে ইভটিজিং দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়। অনৈতিকতার সবগুলো পথ খোলা রেখে ইভটিজিং বন্ধ করার চিন্তা হাস্যকর। বাড়ির ছাদ, রাজপথ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বর সবটাই যেন সিনেমার বড় পর্দা! এসব অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকান্ড পরিহার করে উৎসবের নামে দেহভোগী মানসিকতা দূর করতে হবে।
কেউ আবার উৎশৃঙ্খল চাল-চলনকে নারীদের স্বাধীনতা হিসেবে বোঝাতে চাচ্ছেন, যা মোটেই সঠিক নয়। নারীর ন্যায্য অধিকারকে কখনোই খাটো করে দেখছি না। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, নারী! তুমি অসময়ে অপ্রয়োজনে বৈধ সম্পর্কের অভিভাবক ব্যতীত বিতর্কীত পরিবেশে যেওনা। আমরা পুরুষরা এখনো পরিপূর্ণভাবে আদর্শবান হতে পারিনি। কেননা, আপনারা অবগত আছেন, গত পহেলা বৈশাখে টিএসসি চত্তরে নারীদের বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানীর সাথে যারা জড়িত তাদেরকে এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা হতে ৮ জন অপরাধীর ছবি প্রকাশ ও অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে একলক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেই কর্তৃপক্ষ তার দায় এড়িয়েছেন। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার মধ্য থেকেও ঘটে নানা দূর্ঘটনা। তাহলে যেখানে পুলিশি প্রহরা নেই সেখানে অনিয়মের মাত্রা কত হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

থার্টিফার্স্ট নাইটের মতো নোংড়া সংস্কৃতি এদেশে আমদানি করেছেন কতিপয় জ্ঞানপাপী। শিক্ষাঙ্গনসহ সব স্তরে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিজাতীয় সংস্কৃতি আমদানি, মিডিয়ায় পশ্চিমা সংস্কৃতির পরিপালন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের সুস্থ সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিয়েছে, দিচ্ছে। বিদায় নিয়েছে মানবিকতা, লালন করছে পশুবৃত্তি, লোপ পাচ্ছে মেধা, অপচয় হচ্ছে অভিভাবকের টাকা, ধূলোয় মিশে যাচ্ছে ইজ্জত-সম্মান, পারিবারিক ঐতিহ্য। এ কারণেই আমাদের দেখতে হচ্ছে মানিকের মতো অসভ্যদের; যারা ধর্ষণের সে ুরি করে বিকৃত আনন্দে মেতে ওঠে, মিষ্টি বিতরণ করে। তৈরি হয় মা-বাবা হত্যাকারী ঐশীরা। এসব বিষয়ে সম্মানিত অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে।

তরুণদের প্রতি আহবান! হে তরুণ-তরুণী, হে যুবক-যুবতী, তুমি শ্রেষ্ঠ হও তোমার গুণে ও কর্মে। তোমাকে দেখে ছোট্টরা শিক্ষা নিবে। সন্তানরা আদর্শ মা-বাবা উপহার পাবে। হে নতুন প্রজন্ম! চিয়ার্স গার্লরা-মিনি স্কার্ট, টাইট জিন্স, পাতলা টি-শার্ট পড়ে তোমাদেরকে কিভাবে ভাল কিছু উপহার দিবে? যারা দর কষাকষি করে বিনোদনের জন্য উধাও হয়ে যায়, তাদেরকে মডেল হিসেবে সামনে হাজির করে সভ্যতা শেখাতে যাওয়া বোকামি ছাড়া কিছু নয়। নতুন প্রজন্মকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয়ার মতো ন্যাক্কারজনক কার্যাদি কখনোই ফ্যাশন হতে পারে না। সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের আড়ালে এমন এক ভয়ঙ্কর শ্রেণির প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে যারা এতই অভিজ্ঞ যে, তারা সেক্স রিলেটেড সকল বিষয়ে তারা পারদর্শিতা লাভ করছে। নতুন প্রজন্মের কাজটি যদি হয় অসুস্থ মস্তিষ্কের, তাহলে সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাপকহারে  অন্যায় ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে। নতুন প্রজন্মের কাজগুলো দ্রুত সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। হে সন্তান! তোমাকে নিয়ে যে মা-বাবা ও দেশ গর্ব করে, সেই আশাকে তুমি ধুলোয় মিশিয়ে দিও না। যে কোন আনন্দই হোন না কেন তা যেন সফল মস্তিষ্কের ফসলে পরিণত হয়। তুমি যদি ভোগবাদী মানসিকতায় অন্যায় করতে ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে পড়, তাহলে তোমার বোনের জন্য সৎ ও যোগ্য পাত্র কেন সন্ধান কর?

সর্বোপরি, কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়-তা স্পষ্ট করে সন্তানদের বোঝাতে হবে, যাতে ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী না হয়। সন্তানদেরকে বিভিন্ন দিবস পালনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও বোঝাতে হবে। অভিববককে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ছেলে-মেয়েকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কেননা, প্রকৃত নৈতিক শিক্ষার পাশাপশি পারিবারিকভাবে নৈতিকতার অভাব বলেই আজ সর্বত্র অশান্তি বিরাজ করছে। কোরআন-হাদিসের আলোকে সন্তানদেরকে উত্তম চরিত্র গঠনে উৎসাহ দিতে হবে।

সুত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব
লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট

Related posts