September 24, 2018

‘তোমাকে অবরুদ্ধ করে, অবরুদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ’

রিপন হোসেন  
ঢাকা থেকেঃ
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবকলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার গ্রেফতার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন তোমাকে অবরুদ্ধ করে, অবরুদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তোমার হাতেই উজ্জল আজ প্রিয় স্বদেশ। যুবলীগ চেয়ারম্যান আরো বলেন ইসলাম সহিষ্ণুতা শেখায়, গালি নয়। যে উগ্র স্টাইলে আক্রমন তা কখনোই শান্তির চেতনার সমান্তরাল নয়। ইসলাম কথায় কথায় কাউকেও মুনাফিক, অমুসলিম, কাফের বলে গালি দেয় না।

ছেলেবেলা থেকে যে টুকু জেনেছি, যে টুকু শিখেছি, যে টুকু চর্চা করেছি, মুরব্বিদের কাছ থেকে যা শুনেছি, বাবা মা যা শিখিয়েছে বা দেখছি, যা পড়েছি তাতে ইসলাম মানে শান্তির ধর্ম।ইসলামে সহিষ্ণুতা আছে, ভিন্ন মত ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর চলার পথে যে বুড়ি কাটা বিছিয়ে রাখতেন, মুহাম্মদ (সঃ) তাকে কিছু না বলে প্রতিদিন কাটা সরিয়ে চলে যেতেন। একদিন পথে কাটা না দেখে মুহাম্মদ (সঃ) খোজ নিলেন বুড়ি অসুস্থ কিনা, অতপর বুড়ির সেবা করে সুস্থ্য করে তুললেন এবং বুড়ি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন।

যুবলীগ চেয়ারম্যান আরো বলেন “জনগণের ক্ষতায়ন” ই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শক্তি, সততা তোমার অহংকার অবরুদ্ধ করে রাখবে সাধ্য কার ? রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করেছিল গনতন্ত্র বিনাশী অপশক্তি জনগনের ক্ষমতায়ন, সততা আর নিষ্ঠায় পরাজিত সেই গোষ্ঠি। শৃংখল ছিড়ে তুমি মুক্ত করেছো জনতার অধিকার বাঙ্গালীর মুক্তির দিশারী তুমি।

তিনি আরো বলেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় এবং জনগনের ক্ষমতায়নে দেশ আজ বিশ্ব দরবারে উজ্জল নক্ষত্রে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা আর যাতে উড়তে না পারে সে জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শাক্তিশালী করতে হবে। সংস্কৃতি কর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য রাজনীতি জীবনের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করে বলেন, ষাটের দশকে ইডেন কলেজের ভিপি থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নকালে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সক্রীয় থাকলেও তিনি কখনো নিজেকে প্রকাশ করতে চাননি। নীরবে নিভৃতে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশন উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, হতে পারে না।

তিনি বলেন, জাতিকে নেতৃত্বশুন্য করতে ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন তখনই তাকে হত্যার জন্য ঘাতকরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ২১ আগষ্ট  গ্রেনেড হামলা করে জাতির একমাত্র কান্ডারি শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে  চেয়েছিল একই ঘাতকরা। কিন্তু আপনাদের দোয়ায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। রাষ্ট্র নায়ক  শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা লুটপাট করেছে। তাদের সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে দূর্নীতি মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদ সেরনিয়াবাত, মোঃ ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মিজানুল ইসলাম মিজু, শ্যামল কুমার রায়, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল, ঢাকা মহানগর দক্ষিন সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি/১৬/০৭/২০১৬

Related posts