September 23, 2018

তৃণমূল কংগ্রেস টিকে থাকার অনিশ্চয়তার মুখে!

নয়া দিল্লিঃ  পশ্চিমবঙ্গে চলতি বিধানসভা ভোট নিয়ে চলছে বিস্তর জল্পনা-কল্পনা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায়ের কথায়, ভোট শেষ না হলেও রাজ্যের ভূমিগত বাস্তবতার নিরিখে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় টিকে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে ।

আসাম বিধানসভার মোট ১২৬টি আসনের ভোট পর্ব শেষ। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য ভোট ছয় দফায়। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে ভোট হয়েছে মোট ৭৪টি আসনে।

বাকি আসনগুলির জন্য ভোট হবে চার দফায়। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে উত্তরবঙ্গের ছ’টি জেলায়, যেখানে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। ছোটখাটো গণ্ডগোল হলেও বলা যায়, ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য এই ভোটের ফলাফল নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের সব কিছু ঠিক নেই। জনপ্রিয়তার পালে হাওয়া কম। সারদা কাণ্ড থেকে নারদা কাণ্ডের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে মমতা জেরবার। তৃণমূলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা গারদে। তার ওপর প্রশাসনিক দুর্বলতাও প্রকট। অনৈতিক প্রশাসনিক কাজ এবং সারদা কেলেঙ্কারির তথ্যাদি লোপাটের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সিন্ডিকেট চক্রের তোলাবাজি তো আছেই। ঘুসের রাজত্ব অবাধ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে জনজীবনও অতিষ্ঠ।

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা বন্দোপাধ্যায় খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন বলে মনে হচ্ছে না। তবে মমতা কিছু ভালো কাজ করেছেন গ্রামাঞ্চলে। যেমন সরকারি ভাতা-টাতা বিলিয়েছেন। সেদিক থেকে সরকারের একটা ভিত তৈরি হয়েছে। এটা বাদ দিলে জনসমর্থন বলতে হয়ত আর কিছুই নেই। মানে রাজনৈতিক সমর্থনের জায়গা আর নেই, যেটা ছিল ২০১১ সালের আগে। নতুন মা-মাটি-মানুষের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আজ ধুলিস্যাৎ। বেলাগাম উৎকোচ গ্রহণের রাজনীতি, যার ফলে তৈরি হয়েছে সুবিধাবাদীদের গোষ্ঠীচক্র।’

বিজেপি বা কংগ্রেস-সিপি-এম জোটের সম্ভাবনা কতটা?

অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায় মনে করেন, ‘অন্য দলগুলির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকলেও একটা সংহতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সেটা ক্রমশই বেগবান হচ্ছে। যদি বাম-কংগ্রেস জোট জেতে, তাহলে বিজেপির পোয়াবারো। তৃণমূল কোণঠাসা হলে বিজেপিরই লাভ। আর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার কথা যদি ধরেন, সেই ছবিটা একেবারেই ভালো নয়। শুধু মালদার মতো সাম্প্রদায়িক ঘটনাই নয়, গোটা রাজ্যই এখন দাঁড়িয়ে আছে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতেতে ভর করে।’

রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যু প্রসঙ্গে অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায় ডয়চে ভেলে বললেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি জেলার অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, তথা চোরাচালানের ওপর। বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা না করে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে না। কারণ করতে গেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।’

তাহলে নির্বাচনে কোন দলের সম্ভাবনা বেশি?

উদয়ন বন্দোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমার মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে। কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। অবস্থাটা এখন একটা ‘ইন্টারেস্টিং’ স্তরে আছে। তাই শেষ কথা বলা যাবে ১৯শে মে, ফলাফল ঘোষণার দিন।’

আসামে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের প্রধান বদরুদ্দীন আজমল এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নাম দিয়ে অনেক মুসলিমকে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকে ভোটাধিকার পায়নি। আসাম চুক্তি মেনে ৭১ সালের পর যারা আসামে এসেছেন, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন, এটাই আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান। আসামে কংগ্রেস সরকারের জমানায় মুসলিমদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা শোচনীয়। এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধের মন্ত্র নিয়েই এই দল গড়ে উঠেছে, যাতে তারা ন্যায়বিচার পায়। প্রকৃত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে নয়। এই ইস্যুতে তারা কখনই বিজেপিকে সমর্থন করেনি এবং করবে না।

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা ভোটে এআই-ইউডি-এফ ১৮টি আসন পেয়েছিল।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts