November 15, 2018

তৃণমূলের রাজনীতি এখন জমজমাট!

স্টাফ রিপোর্টারঃ   দীর্ঘ সাত বছর পর নৌকা-ধানের শীষের প্রচারণায় তৃণমূলের রাজনীতি এখন জমজমাট। শেষের আট দিনের প্রচারণায় চমক দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। আর এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম আজ সোমবার থেকে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাবে।

গতকাল রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে ৭ বিভাগের জন্য গঠিত এই সাত টিমের প্রচারণার সময়সীমা ও এলাকা বণ্টন করে দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের। এই প্রচারণার সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সফলতা ও বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস ও তাদের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের চিত্র আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই ৭ টিমের প্রচারণায় প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াকে আহ্বায়ক করে গঠিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রচারণা টিমও তৃণমূলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য ভোট চাইছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, প্রতীক ছাড়াই গত ৯ ডিসেম্বর থেকে জনসংযোগ-পথসভা শুরু করেন প্রার্থীরা। ভোট শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। সেক্ষেত্রে ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টায় প্রার্থীদের প্রচার শেষ করতে হবে। শুরু থেকেই প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগের। কারণ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা প্রচারণা চালাতে পারলেও পারছেন না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান মন্ত্রী-এমপিরা। এ কারণে মন্ত্রী-এমপি নন এমন কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ৭টি প্রচারণা টিম মাঠে নামানো হচ্ছে। এর আগে তৃণমূলে যাওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক প্রচারণা টিম ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে টানা ৯২ দিন পুড়িয়ে মানুষ মারার কথা দেশবাসী এখনো ভুলে না যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সফলতাও ভোটারদের মন জয়ে ভূমিকা রাখছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন আজ যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা সফরে যাবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকরাও প্রচারণায় নেমেছেন। আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, আওয়ামী কৃষক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী তাঁতি লীগ, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের নেতৃবৃন্দকেও প্রচারণা টিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো নিজ উদ্যোগে সপ্তাহকাল ধরে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।

এদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত মেয়র প্রার্থীদের (বিদ্রোহী) দলের ফেরার শেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী পদ ফিরে পেতে আবেদন করলে তা বিবেচনা করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর পক্ষে তাদের কাজ করতে হবে। গতকাল রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, সাত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এমএম কামাল হোসেন নড়াইল, পাবনা ও মেহেরপুরের পাঁচ জন এমপি এবং কয়েকটি জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এসময় তারা বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা না করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে সম্মত হন। অপরদিকে নির্বাচনের মাঝ পথে সরে গিয়ে আন্দোলনের নামে যাতে কেউ ন্যূনতম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য প্রচারণার পাশাপাশি দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে আছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৫ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের দু’বছর মেয়াদ পূর্তির দিনকে কেন্দ্র করে কাউকে ফের নাশকতা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না দলটি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts