November 20, 2018

তুর্কি ঘাঁটি নিয়ে ইরাকের নির্দেশনা আঙ্কারা মেনে নিবে না : এরদোগান

ইরাকের বাশিকায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি নিয়ে দেশটির কোনো নির্দেশনা আঙ্কারা মেনে চলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত নবম ইউরেশীয় ইসলামি কাউন্সিলের একটি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদিকে তার নির্ধারিত সীমার কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘বাগদাদের নিজের চাহিদার কারণেই ইরাকের মাটিতে তুর্কি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি।’

তিনি বলেন, ‘তিনি (আবাদী) আমাকে অপমান করেছেন। ইরাক কি বলল সেটা কানে নেয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা আমাদের নিজস্ব পথেই চলব।’

আবাদী নিজেই বাশিকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য তাকে (এরদোগান) অনুরোধ করেছিলেন বলে তুর্কি এই নেতা জানান।

জঙ্গিগোষ্ঠি আইএস নিয়ন্ত্রিত মসুল শহরের ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাশিকা অঞ্চলটি অবস্থিত। সাবেক তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর সময়ে ইরাকের সরকার বাশিকায় তুর্কি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান।

এরদোগান বলেন, ‘ইরাকি সরকার তার নিরাপত্তার জন্যর যে অনুরোধ করেছিলেন তার ‘লাইভ রেকর্ড’ তুরস্কের কাছে রয়েছে এবং এটা আজ কিংবা আগামীকাল সম্প্রচার করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন তিনি (আবাদী) সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়নি যে, আপনার নির্দেশনা আমাদের মেনে নিতে হবে। তুরস্ক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সব কিছুই করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইরাকের উন্নয়নে তুরস্ক কেবল একজন দর্শক হতে পারে না। ইরাক ও সিরিয়া কোনো সমস্যা পড়লে সমস্যা সমাধানে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে তুরস্ক এবং এটা তুরস্কের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রাতৃত্ব ও প্রতিবেশির জন্য এ ধরনের প্রদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে এবং এই জন্য কোথাও থেকে আমাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই।’

এরদোগান বলেন, ‘কারো সীমানা কিংবা সার্বভৌমত্বের ওপর তুরস্কের নজর নেই। আমাদের নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং এ অঞ্চলের মুসলমানদের কল্যাণই আমাদের উদ্দেশ্য।’

ফেতুল্লাহ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সম্পর্কে এরদোগান বলেন, গ্রুপটি আইএসের মতোই মুসলমান ও সারা পৃথিবীর জন্য হুমকিস্বরূপ।’

Related posts