December 10, 2018

তুরস্কে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সেনাবাহিনীর একাংশের চালানো অভ্যুত্থানের ব্যর্থ হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশের এই অভ্যুত্থান চেষ্টা ‘ভণ্ডুল’ হয়ে যাওয়ার পর সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান করা হয়েছে জেনারেল উমিত দুনদারকে।

এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব পাওয়ার পর টেলিভিশন ভাষণে উমিত দুনদার বলেছেন, সরকার উৎখাতের চেষ্টার চক্রান্তের ঘটনায় ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০৪ জন চক্রান্তকারী, ৪১ জন পুলিশ ও ৪৭ জন সাধারণ মানুষ ও দুইজন সরকার পক্ষের সেনা।

‘সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ’ মন্তব্য করে উমিত বলেন, অনেক সেনা সদস্যকে ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিবিসি বলছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তানবুলে শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরপরই সরকার উৎখাতের পক্ষে-বিপক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শনিবার সকালেও আঙ্কারা ও ইস্তানবুলের পুলিশ সদর দফতর এলাকাতে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা গণগ্রেফতার শুরু করেছে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে দুই হাজার ৮৩৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানান তিনি।

অবকাশ যাপনের মধ্যেই সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার খবর পান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এর পরপরই ইস্তানবুল পৌঁছে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে দাবি করেন তিনি।

দেশে ‘ব্যর্থ’ এক সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান শনিবার ইস্তানবুল বিমানবন্দরে যখন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন, তখন তার চারপাশ ঘিরে ছিল উল্লসিত কর্মী-সমর্থক।

সাংবাদিক সম্মেলনে এরদোয়ান অভ্যুত্থানকে ‘দেশদ্রোহিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যারা এর পেছনে ছিলেন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন অফিসারকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, আমি এখন সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালাব।’

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর অন্তত ২০০ সেনা দেশটির ইস্তানবুলের বসফরাস সেতুতে আত্মসমর্পণ করেন। আটক করা হয় দেড় হাজারের বেশি সেনা সদস্য।

এর আগে এরদোয়ানের হাজার হাজার সমর্থকের বিক্ষোভের মুখে সেনা বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তানবুল বিমান বন্দর থেকে সড়ে যেতে বাধ্য হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি/১৬/০৭/২০১৬

Related posts