November 13, 2018

তুরস্কে বিয়ের আসরে বোমা হামলাকারী একটি ‘শিশু’!

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ তুরস্কের গাজিয়াটেপ শহরে একটি বিয়ের আসরে বোমা হামলাকারী ছিল একটি ‘শিশু’। তার বয়স আনুমানিক ১২/১৪ হবে। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। গতকাল ওই হামলায় অন্ততপক্ষে ৫১ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক, যাদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আশংকাজনক। তুর্কি টিভি চ্যানেল এনটিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, এ হামলার পেছনে জঙ্গি সংগঠন আইএসের সংশ্লিষ্টতাই প্রতীয়মান হচ্ছে। গাজিয়ানটেপ সিরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি শহর, যেটি কুর্দি সংখ্যা গরিষ্ঠ।

বিয়ের আসরে আত্মঘাতী এ হামলায় তখন চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রক্তে সয়লাব পুরো উৎসবস্থল। এখানে ওখানে পড়ে আছেন আহতরা। ছিটকে পড়ে আছে নিহতদের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। তার মাঝে বাঁচার করুণ আকুতি নিয়ে আর্তনাদ করছেন আহতরা। হৃদয় বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে সিরিয় সীমান্তের কাছে তুরস্কের শহর গাজিয়ানটেপে। তুরস্কে একেতো ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর মানুষজনের মধ্যে এক রকম চাপা আর্তনাদ, অভ্যুত্থানের জড়িত থাকার অভিযোগে আটক প্রিয়জনের জন্য নির্বাক হয়ে গেছেন অনেক স্বজন, তার মধ্যে এমন হামলায় তুরস্ক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক শোকের আবহ।

গাজিয়ানটেপের গভর্নর আলী ইয়েরলিকায়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওই বোমা হামলায় কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৬৯। তিনি এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, যে বা যারাই এ হামলার জন্য দায়ী হোক তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। ওই এলাকার একেপি পার্টির এমপি সামিল তায়ার বলেছেন, প্রাথমিক তথ্যে মনে হচ্ছে এ হামলার জন্য দায়ী আইএস। কারণ, এ এলাকায় বহু সংখ্যক কুর্দির বসবাস। এখানে কুর্দিদের হামলা চালানোর কথা নয়। তাছাড়া ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক কুর্দি। কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (এইচডিপি) বলেছে, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বহু সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিল। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। তুরস্ক পার্লামেন্টে গাজিয়ানটেপের প্রতিনিধিত্ব করেন উপ প্রধানমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক। তিনি বলেছেন, এসব হামলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। আমরা তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হতে দিতে পারি না।

উল্লেখ্য, সিরিয়া সীমান্ত থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে এই গাজিয়ানটেপ শহর। ফলে এ স্থানটি যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ বছরে তুরস্কে বেশ বড় দুটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তাতে নিহত হয়েছেন বহু মানুষ। কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রাজধানী আঙ্কারায় দু’বার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আইএসের আত্মঘাতী বোমারুরা ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে পর্যটকদের ওপর দু’বার হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি, এনবিসি।

Related posts