September 20, 2018

তুরস্কে অভ্যুত্থান<<নির্যাতন করে সশস্ত্র বাহিনী প্রধানকে দলে ভেড়াতে পারেনি বিদ্রোহীরা


তুরস্কের অভ্যুত্থানের সময় দেশটির চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকারকে অস্ত্রের মুখে বন্দী করা হয় এবং তার ব্যক্তিগত সেক্রেটারি তাকে একটি ঘোষণায় সই করতে চাপ দেয়া হয়েছিল। ওই সময় সামরিক বাহিনীর অনেক কমান্ডারকে তাদের ব্যক্তিগত সচিবরা, সহকারীরা এবং প্রহরীরা বন্দী করে ফেলে।

১৫ জুলাই রাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন অফিসার সাংবাদিকদের জানান, ১৫ জুলাই রাতে জেনারেল আকারের সচিব মেজর জেনারেল মেহমেত দিসলি তার সহকারীদের সাথে নিয়ে জেনারেল আকারকে প্রাথমিকভাবে একটি ঘোষণায় সই করতে বলেন এবং তুর্কি জনগণের উদ্দেশে এটা পড়তে বলেন। জেনারেল আকারের প্রত্যাখ্যানের মুখে মেজর জেনারেল দিসলি বন্দুক ধরেন এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন এবং বেল্ট দিয়ে ঘাড় বেঁধে তাকে বাধ্য করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু জেনারেল আকার তখনো দিসলির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহমেত পারতিজোক জেনারেল আকারকে বুঝাতে চেষ্টা করেন, ‘জেনারেল ঘোষণায় সই করুন এবং আপনি দেখবেন সামনে খুব চমকপ্রদ কিছু ঘটছে।’

জেনারেল আকার এই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন।

ইতোমধ্যে বিয়ের পার্টিতে যোগদান করা ডেপুটি চিফ অফ টার্কিশ জেনারেল স্টাফ ইয়াসার গুলার, চিফ অফ আর্মি জেনারেল সালিহ জেকি কোলাক, এয়ারফোর্স কমান্ডার জেনারেল আবিদিন উনালসহ অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে তাদের সহকারী এবং গার্ডরা আটক করে। পরে ক্যু’র প্রচেষ্টা সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে এলে মেজর জেনারেল দিসলি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পারতিজোককে গ্রেফতার করা হয়।

সেখানে উপস্থিত সেই অফিসার জানিয়েছেন, সেদির রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেজর জেনারেল মেহমেত দিসলি আমাকেও ধরে ভেতরে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। আমাকে মেঝেতে শুইয়ে দেয়া হয়, আমার ফোনটি নিয়ে নেয়া হয়। তারা আমার হাত, পা এবং মুখ বেঁধে ফেলে। আমি কমান্ডারের রুম থেকে চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। দেখলাম যারা এক সময় কমান্ডারের কাছের লোক ছিলেন এরাই ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে। আমি মাথা তুলে দেখলাম, ‘যারা আমার সাথে ছিলেন এরাই ক্যুকারীদের সাথে যোগ দিয়েছে।’

অভ্যুত্থান দমনের পর জেনারেল আকারকে মুক্ত করা হয়।

সুত্রঃ হুরিয়াত ডেইলি নিউজ

Related posts