November 15, 2018

তুরস্কের অভ্যুত্থানকারী সর্বশেষ সেনাদলের আত্মসমর্পণ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত সেনাদের সর্বশেষ দলটি আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে রক্তাক্ত এই অভ্যুত্থান চেষ্টার আপাত সমাপ্তি ঘটেছে।

শনিবার বিকালে মধ্য আংকারায় জেনারেল স্টাফ হেডকোয়ার্টার্স এবং পার্শ্ববর্তী গেন্ডারমেরি কম্পাউন্ডে সর্বশেষ দলটি আত্মসমর্পণ করে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ‘ফেতুল্লাহ গুলেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র ১৫০ জন ষড়যন্ত্রকারী এক এক করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

আত্মসমর্পণকারীদের গ্রহণ করতে তিনজন প্রসিকিউটর ওই হেডকোর্টার্সে যান। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে নৌবাহিনীর ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রয়েছেন।

অভ্যুত্থানে জড়িত এসব সেনা কর্মকর্তাকে রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলীয় বাসকেন্ত স্পোর্টস হলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এখন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা জেনারেল স্টাফ হেডকোর্টার্স ঘিরে রেখেছে। শুক্রবার রাতের অভ্যুত্থান চেষ্টার মূল কেন্দ্র ছিল এটি। অভ্যুত্থানে যোগ না দেয়ায় চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকারকে এখানে জিম্মি করে রাখে বিদ্রোহী সেনারা।

এখন সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডটিতে তল্লাশি চালাবে। এরআগে সকালে এখানে প্রায় ৭০০ অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল।

এদিকে সেনা অভ্যুত্থান অপচেষ্টার সমাপ্তি ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

তিনি জানান, সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনায় অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৬১ জন গণতন্ত্রপন্থী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক। নিহত বাকিরা অভ্যুত্থানকারী। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ জন।

তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যুত্থানে জড়িত ২ হাজার ৮৪৯ জন সেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের মধ্যে পাঁচজন জেনারেল ও ২৯ জন কর্নেল রয়েছেন।

শুক্রবার রাতে তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমে আসে গণতন্ত্রপন্থী জনগণ। তাদের সঙ্গে যোগ দেন গণতন্ত্রপন্থী সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি/১৬/০৭/২০১৬

Related posts