November 16, 2018

তুমিও হতে পারো বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী

একুশ শতকের বিজ্ঞান ও আবিষ্কারের দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান
একুশ শতকের বিজ্ঞান ও আবিষ্কারের দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান

প্রযুক্তি ডেস্ক:- যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান তরুণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে বলেছেন, পৃথিবীর মনীষী বিজ্ঞানীরা আমাদের মতোই মানুষ। তাঁরা যে ক্লাসের প্রথম ছিলেন, তা-ও না। এখানে উপস্থিত অনেকেরই বিখ্যাত কোনো বিজ্ঞানী হওয়ার সব যোগ্যতা আছে। কেননা জগদীশ চন্দ্র বসু কিংবা সত্যেন বোসের মতো অনেক বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম এই বাংলাতেই।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘একুশ শতকের বিজ্ঞান ও আবিষ্কারের দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতায় জাহিদ হাসান এসব কথা বলেন।

গত ২৬ নভেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান স্ত্রী সারাহ, পুত্র আরিক ও কন্যা সারিনাসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসেন দুপুরের ঠিক পর পর। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌর গোবিন্দ গোস্বামীর সভাপতিত্বে বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তর পর্বটি প্রায় ১ হাজার ২০০ দর্শক-শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

অধরা কণা ভাইল ফার্মিয়নের আবিষ্কারক জাহিদ হাসান কিংবদন্তি কিছু বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যের শুরুতে বলেন, রোগের কারণ ও প্রতিরোধের ধারণা প্রদানের মাধ্যমে লুইপাস্তুর বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। টমাস আলভা এডিসনের বিদ্যুৎবাতি বিশ্বকে আলোকিত করছে। সময় ও কাল সম্পর্কে আইনস্টাইনের ধারণা আমাদের চিন্তার জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। হাজারো বিজ্ঞানীর নিরলস প্রচেষ্টা আর অধ্যবসায়ের ফল আজকের আধুনিক সভ্যতা। বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার যথা ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সামাজিক প্রক্রিয়া এবং রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ক্ষেত্রে আরব বসন্তের ঘটনাটি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তরুণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে জাহিদ হাসান বলেন, মনীষী বিজ্ঞানীরা আমাদের মতোই মানুষ ছিলেন। তাঁরা যে ক্লাসের ফার্স্ট ছিলেন, ঠিক তা-ও না; বরং যে বিষয়টি এখানে প্রয়োজন তা হচ্ছে একটি অনুসন্ধিৎসু মন এবং একাগ্রতা। মানুষের এই অনুসন্ধিৎসু বৈশিষ্ট্য তাকে আর সব প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে। আগুন দেখে আর সব প্রাণী দূরে সরে যায়। কিন্তু মানুষ আগুনের কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছে। এরই ফলে আগুনের ব্যবহার শিখে সভ্যতার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে মানুষ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখানে উপস্থিত অনেকেরই বিখ্যাত কোনো বিজ্ঞানী হওয়ার সব রকমের যোগ্যতা আছে। কেননা জগদীশ চন্দ্র বসু কিংবা সত্যেন বোসের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম এই বাংলাতেই।

একুশ শতকে সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক কিছু গবেষণার ক্ষেত্র নিয়ে আলোকপাত করে জাহিদ হাসান বলেন, তরুণ বয়সে মনে হতো বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সবকিছুই আবিষ্কার করে ফেলেছেন। কিছুই বাকি রাখেননি। কিন্তু সময় যত পার হচ্ছে, তিনি তত বুঝতে পারছেন যে মহাবিশ্বের অপার রহস্যের অনেক কিছুরই বিজ্ঞানীরা এখনো কূল-কিনারা করতে পারেননি। বিজ্ঞানের অনেক ধারণা এখনো অনেকটা অনুমাননির্ভর কিংবা অসম্পূর্ণ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানী মানবদেহ ও মস্তিষ্কের গঠন সম্পর্কে বলেন, খোদ কোয়ান্টাম তত্ত্ব দিয়েও তার ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় যে একটি মানুষ কিছুক্ষণ পর কী করবে বা কবে সে মারা যাবে। যদিও তত্ত্বটি বলে যে মানবদেহের প্রতিটি কণার কোয়ান্টাম তথ্য জানা থাকলে তা সম্ভবত জানতে পারার কথা। অর্থাৎ আবিষ্কারের অনেক কিছুই এখনো বাকি! তবে এ ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে একবিংশ শতাব্দীতে মানবকল্যাণে কাজে লাগবে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে একটি সম্ভাব্য তালিকা ও তার কিছুটা ব্যাখ্যা দেন। যেমন—কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও ইন্টারনেট, জিন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ রসায়ন, ব্যক্তি বিশেষে উপযোগী ওষুধ, সিনথেটিক টিস্যু ইত্যাদি।

প্রশ্নোত্তর পর্ব

অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা জাহিদ হাসানকে বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। বিশেষ করে, পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে তাঁদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। বিগ ব্যাং, ব্ল্যাক হোল নিয়ে তাঁদের নানা প্রশ্ন ছিল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ায় অনুষ্ঠান শেষ করতে চাইলেও অডিটোরিয়ামে অসংখ্য অনুসন্ধিৎসু জাহিদ হাসানকে একটি প্রশ্ন করার আশায় হাত তোলেন। আবার আসবেন বলে এবার ছুটি নেন তিনি। যেতে যেতে বললেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি এই ব্যাপক আগ্রহ তাঁকে বিমোহিত করেছে। ভবিষ্যতে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের অনেককেই তিনি এঁদের মাঝে দেখতে পাচ্ছেন।

 

Related posts