September 19, 2018

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল

442
একেএম কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ  গ্রাম-বাংলার প্রবাদ আছে “মাঘের শীত বাঘের গায়ে’মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা এত বেশি থাকে যে,বাঘও কাবু হয়ে যায়। মাঘের কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায়  বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জন জীবন।বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত গ্রামা লের দরিদ্র মানুষের অবস্থা  চরম শোচনীয়। এসব এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। কোন কোন এলাকায় সুর্যের মিলছেনা গত কয়েকদিন ধরেই।      কোথাও কোথাও দিনের বেলা সূর্য দেখা দিলেও তা খুব স্বল্প সময়ের জন্য। কুয়াশার পাশাপাশি  তীব্র  শৈত্য প্রবাহ  শীতের এ দূর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে আরও কয়েকগুণ।

এমতাবস্থায়  নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় গত শুক্রবার রাত থেকে শীতের দাপটে  বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। এর পর শনিবার-রোববার -সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন সূর্য়ের মূখ দেখা মেলেনি।এ উপজেলার ০৮টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার শীতার্ত অসহায় গরীব মানুষ মাঘের হাড় কাঁপানো কনকনে শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এতে কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোর দোকান-পাটওতেমন একটা খোলেনি।

লোকজনের চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায়  অনেক কম ছিল। তারপরও জীবন চলার তাগিদে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে কিছু শ্রমিক ঘর থেকে বেরিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত শীতের  পোষাক না থাকায়  নিন্ম আয়ের অনেকেই পড়েছেন  বিপাকে।উপজেলা কোথাও কোথাও সরকারী ভাবে শীত বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করলেও তাও ছিল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।  তবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান,ব্যাংক,বীমা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোথাও কোন শীতবস্ত্র ও কম্বল শীতার্তদের মাঝে এখন পর্যন্ত বিতরনের খবর পাওয়া যায়নি।

আত্রাই উপজেলার মধূগুড়নই গ্রামের ভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম ও মালিপুকুর গ্রামের দিন মজুর বুলবুল হোসেন বলেন,আমরা ভীষন কষ্টে আছি। কেউ আমাদের একটা কম্বল দিচ্ছেনা। আমরা কয়েক হাজার মানুষ কঠিন শীতের মধ্যে আছি। আত্রাই উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ এবাদুর রহমান বলেন,উপজেলার অনেক  শীতার্ত মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের বিত্তবান লোকজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন,সরকারী ভাবে যে পরিমান শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।

এমতাবস্থায় সরকারের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন ব্যাংক,বীমা ও সামাজিক সংগঠনের কর্ণধারদের সহযোগীতা কামনা করছি।অনেকেই শীতের কাপড় দিচ্ছেন ।তবে আরোও বেশী শীতের কাপড় দরকার বলে তিনি জানান। তিনি আহ্বান জানান ,সমাজের যুব-সমাজ,স্কুল –কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের নিজেদের অবস্থান থেকে এলাকার শীতার্ত অসহায় মানুষের পার্শ্বে দাড়ানো। এছাড়া তিনি আরো জানান হঠাৎ করে তীব্র শীতওশৈত্য প্রবাহ হওয়ায় জেলা প্রসাশকের নিকট আরো শীতবস্ত্র ও কম্বলের জরুরী ভাবে পাঠানোর জন্য চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। এদিকে আত্রাইয়ে অত্যাধিক শতি আর হিমেল হাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্ট্ ফলে গত  চার দিন থেকে শীত জেঁকে বসেছেপুরো উপজেলা জুড়ে।গত শুক্রবার মধ্য রাত থেকে শুরুহয় এই বৃষ্টি।উপজেলার অধিকাংশ স্থানেই সূর্যের দেখা মেলেনি গতকাল সকাল পর্যন্ত।

তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে আত্রাই এলাকার মানুষ।গরম কাপড়ের অভাবে দূর্ভোগ বেড়েছে গরীব মানুয়ের।শীত বস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছেন আত্রাই নদীঅ লের দুস্থ মানুষ ও আত্রাই ছিন্নমূলবস্তি এলাকার দুস্থ মানুষরা।তীব্র শীতে কয়েকদিন ধরেই দিনমজুরেরা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি ।উপজেলা শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হয়নি।

বেড়েছে শীতজনিত  রোগবালাই উপজেলার কালুপাড়ার বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম (৬৫) বলেন,শীতের কষ্টে চোখে ঘুম ধরেনা।গরম কাপড় নাই। তাই শীতের জন্য কাজে যেতে পারিনি।একটা কম্বলের জন্য মেম্বারের(ইউপি সদস্যর) বাড়ি গেছ্,মেম্বার বলে চেয়ারম্যানের কাছে যাও। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (টিএইচএ) ডাঃ কালি কিশোর দাস বলেন, আত্রাই হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীত জনিত রোগে আক্রন্ত হয়ে কয়েকদিনে গড়ে ২০ থেকে ২২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।এর মধ্যে শিশুই বেশি  উপজেলা ত্রান ও পূনর্বাসন অফিসার শ্রী নভেন্দু নারায়ন চৌধুরী জানান,চলতি বছরে উপজেলার ০৮ ইউনিয়নে ২হাজার ২শত ৬৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।আরও ৫হাজার কম্বল চেয়ে জেলা প্রসাশকের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts