November 19, 2018

তীব্র গ্যাস সংকটে রামপুরার আঞ্চলের বাসিন্দাদের !

গ্যাস সংকটের কারণে দুপুরে রান্না করতে পারে না রাজধানীর রামপুরাবাসী। সকালের রান্না সেরে নিতে হয় ভোরে। আর ঘুম না ভাঙলে অপেক্ষা করতে হয় বিকেলের। না হলে যে চুলো জ্বলবে না! রান্না করতে না পেরে অনেকে না খেয়ে থাকেন। কেউ কেউ দ্বারস্থ হন বিকল্প খাবারে। অনেককে খেতে হয় একবেলা।

এলাকাবাসী জানান, সকাল ৬টার পর আর চুলা জ্বলে না। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লাইনে গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকে। কিন্তু তখন রাতের খাবার রান্নার সময় হয়ে যায়। সকালের নাস্তা তৈরি করতে হলে ফজরের নামাজের আগে উঠেই তা সারতে হয়। কাজটি গরমকালে সম্ভব হলেও এই মাঘের শীতে তা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য।

গ্যাসের এমন সংকটে অনেকেই সকাল ও দুপুরের রান্না সেরে নেন সন্ধ্যার পর। এ কারণে বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

পূর্বরামপুরার টিভি রোডের আলি মহলের বাসিন্দা গৃহকর্মী নাহিদা আক্তার বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকেই গ্যাস উধাও। বিকেল সাড়ে ৩টার পর যেটুকু আসে, তাতে খাবার হতে অনেক সময় লেগে যায়। আমরা সকাল ও দুপুরের খাবার খেতে পারি না। অনেক সময় না খেয়েই থাকি। আগের তৈরি করা নাস্তা আর দোকানের কেক-বিস্কিট খেয়েই দিন পার করতে হয়।’

নাহিদা বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে গ্যাসের চুলায় কাগজ দিয়ে রান্না করতে হয়। এতো দুর্ভোগ কীভাবে সহ্য করব? বাসায় বাচ্চা-কাচ্চা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করে। মেহমান আসলে লজ্জা লাগে।’

গ্যাসের এমন সংকটের কারণে বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক ভাড়াটিয়া। এতে বেকায়দায় পড়েছেন বাড়িওয়ালারা। তারা বলছেন, গ্যাসের সংকটের কারণে অনেকেই বাসা ভাড়া নিতে চায় না। যারা যাচাই না করে ভাড়া নেন, কয়েক মাস কষ্ট করে চলে যান।

বাড়ি মালিক শাহরিয়ার হাসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘গ্যাস নিয়ে চরম বেকায়দায় আছি। এ সমস্যা পুরো এলাকার। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। ভাড়াটিয়ারা চিল্লাফাল্লা করে। এলাকাভিত্তিক বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো উপকার পাচ্ছি না।’

স্থানীয়দের অভিযোগে গ্যাসের এমন সংকটের মধ্যেও আবাসিক বাড়িতে টাকার বিনিময়ে গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানির লোকজন বাণিজ্যিক লাইন দিয়ে যান। ফলে কিছু কিছু বাড়ির মালিক সার্বক্ষণিক গ্যাস পাচ্ছেন। অবৈধ এ কাজটি বন্ধ করে সবার মাঝে সমহারে গ্যাস সরবরাহ করলে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

তা ছাড়া সিএনজি অটোরিকশা কিংবা গ্যাসচালিত অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দিলে সমাধান হতে পারে বলে ধারণা তাদের।

রামপুরা এলাকা ছাড়াও রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বনশ্রী, রামপুরা, বাড্ডা, নতুন বাজার, পল্লবী ও পুরান ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সংকট প্রকট। এ ছাড়া রায়েরবাজার, শাহীনবাগ, শ্যামলী, হাজারীবাগ, মুগদা, মানিক নগর, খিলগাঁও, বাড্ডা, কাওলা, উত্তরা, শাহজাহানপুর, টিকাটুলি, দক্ষিণ মৌসুন্দী, লালমোহন সাহা স্ট্রিট, বাবু বাজার, নারিন্দা, গোপীবাগ, ধোলাইরপাড়, যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ, কাজলা, নারিন্দা ও ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে গ্যাস সংকট চলছে।

পশ্চিম হাজিপাড়ার বাসিন্দা আরাফাত ও মিতু, এই দম্পতি দুই মাস আগে বাসা নেন এখানে। বলেন, ‘বাসায় উঠেই দেখি গ্যাস নেই। বাড়িওয়ালাও সমস্যার কথা আগে বলেনি। এখন বাসা নিয়ে বিপদে আছি। এক বছরের চুক্তিতে বাসা নেয়ায় এখন বাড়িওয়ালা যেতে দিতেও রাজি না।’

একই কথা বলেন রামপুরা বাজার এলাকার বাসিন্দা নিশিতা রায়। তিনি বলেন, ‘বাসায় ওঠার পর থেকেই দেখি এ সমস্যা। বাসা নেয়ার সময় বাড়িওয়ালা বলেছিল কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখন তাকে বললে সে বলে এটা পুরো এলাকার সমস্যা। আমরা কী করব?’

গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি তিতাস সূত্র জানায়, সংস্থাটির আওতায় এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকে। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ১৫০ কোটি ঘনফুট। এ ছাড়া শীতকালে ঠান্ডার কারণে পাইপলাইনে গ্যাসের উপজাত জমে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বাধা পায়। ফলে চুলা চলে না। শীত চলে গেলে এ সমস্যা থাকবে না।

গ্যাসের সংকটের কারণে তথ্য গোপন করে কৌশলে ভাড়াটিয়াদের সাথে কমপক্ষে এক বছরের চুক্তি করে নেন বাড়িওয়ালারা। চুক্তি অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে বাসা ছাড়া যাবে না। যারা গ্যাস সংকটের বিষয়টি যাচাই না করেই বাসা নেন, পরবর্তীতে তারা নির্ধারিত সময়ের আগে বাসা ছাড়তেও পারেন না। পুরো বছর দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts