November 16, 2018

তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে চরমদুর্দশায় ৬শতাধিক পরিবার, ত্রান বিতরণ হলেও তা অপ্রতুল!

মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
তিস্তানদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসলেও তিস্তার ভাঙ্গন দিনে দিনে ভয়ানক রুপ নিচ্ছে আর তাই কয়েকশত বানবাসী পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

শুক্রবার নতুন করে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের আরও ৭০টি পবিরারের বসতভিটা বিলিন হয়ে যাওয়ায় বাধে ও তিস্তা অববাহিকার হেলিক্যাপ্টার নামা(হেলিপ্যাট) মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্হ্য অসহায় পরিবার গুলো।

ঠিক যেনো অকল্পনীয় নির্মম বাস্তবতায় এখন বানবাসীরা(!) সরকারীভাবে বিভিন্ন উপকরন বিতরন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

তিস্তা বন্যা ও ভাঙ্গনের গ্রাসে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চর ও চরগ্রাম গুলো একে একে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে অসংখ্য পরিবারের বতসভিটা। জমি জিরাত সব হারিয়ে ওই সব পরিবার গুলো আশ্রয় নিয়েছে তিস্তা নদীর বিভিন্ন বাঁধ,মাঠ,রাস্তারধার ও উঁচু স্থানে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জিঞ্জির আলীর নামে জিঞ্জিরপাড়া যে গ্রামটি হয়েছিল সেই পরিবারটিও বর্তমানে সহায় সম্বলহীন হয়ে তিস্তার বাধে আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার সকালে পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ৭শ ২০জনকে ১০ কেজি করে চাল ও ১৪জনকে ৫শ করে টাকা বিতরন করা হয়েছে। এ সময় পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনের বিকালে উপজেলা প্রশাসন ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে তিস্তার পাড়ের ২০৪টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের প্যাকেজ বিতরন করা হয়। বিকালে প্যাকেজ ত্রান বিতরন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ার ঈমাম।এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ৫কেজি চাল, মশুর ডাল,লবন, সোয়াবিন তেল, মুড়ি চিড়া, চিনি ১ কেজি করে, দিয়াসলাই ১ বান্ডিল ও মোমবাতি ১ বান্ডিল।

ত্রান বিতরনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন। এ সময় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার ভুমি মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়াও ব্রাকের উদ্দ্যোগে ৪শ পরিবারের মাঝে ৫কেজি চাল ও ১লিটার করে সোয়াবিন তেল, জরুরী ঔষধ বিতরন করা হয়। এ সময় ব্রাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বিদ্যুত কুমার শাহা, জেলা প্রতিনিধি রইজ উদ্দিন, এরিয়া ম্যানেজার লিয়াকত হোসেন, শাখা ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দীক, রেজাউল করিম, তন্ময় কুমার রায়, কামাল উদ্দিন, কামরুল ইসলাম মাছুম উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ বলেন,শুক্রবার পর্যন্ত তিস্তার ক্যাঞ্জার বাধে (কলম্বিয়া) ১৫০টি পরিবার, তেলির বাজার সংলগ্ন বাধে ২৫টি পরিবার, সিলট্রাপের বাধে ৩৫টি পরিবার, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজন বাধে ৪০টি পরিবার যৌথ বাধে ১০৪টি পবিবার,রাস্তারধারে হেলিপ্যাট মাঠে ৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

নতুন করেও যে সব পরিবার আসবে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নীলফামারী জেলা প্রশাষক জাকীর হোসেন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর কাছ থেকে নৌকার ভাড়া জিম্মি করে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খালিশা চাপানি ,টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে কোন পরিবারকে জিম্মি করে কোন নৌকার মালিক ও মাঝি যেনো বেশি টাকা নিতে না পারে।

এ দিকে শুক্রবার সন্ধায় সরেজমিনে ওইসব আশ্রয়াধীন বানবাসী পরিবারদের খোজ নিয়ে জানা গেছে,সরকারী-বেসরকারী,এনজিও,সামাজিক সংগঠন,ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তারা এ পর্যন্ত যে ধরনের ত্রান পেয়েছেন তা যতেষ্ট নয়।

দিশেহারা ও অসহায় বানবাসীরা দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান,এনজিও,কোম্পানি, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন,বিদেশী সংস্থা,সেবামুলক সংগঠনসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের মানুষকে তাদের এই ভয়ানক দুঃসময়ে এগিয়ে এসে ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানুষ যে আসলেই মানুষের জন্য তা প্রমান করে দেখিয়ে দেবার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts