November 18, 2018

তিস্তার ভাঙ্গনে নদীরবাধে আশ্রয়, বিত্তবানদের কাছ সাহায্যের অনুরোধ

379

মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার সকাল থেকে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও এই নদীর তীব্র ভাঙ্গনে আশ্রয় হারানো বন্যাকবলিত বানবাসী পরিবারগুলো বিভিন্ন বাধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।যা অনেকেই বলছেন, তিস্তায় সরণকালের ভয়াবহ বন্যা। গত রবিবার টানা বর্ষনে ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি তৃতীয় দফা বিপদসীমা অতিক্রম করলেও সোমবার পানি বিপদসীমায় নেমে আসবার পর এসব পরিবারের নিজ নিজ ঘরবাড়ি গুলো তিস্তায় বিলিন হওয়ায় তারা বড় অসহায় হয়েই নদীর বিভিন্ন বাধে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

আসবাবপত্রসহ ঘরবাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নেবার রাস্তাঘাট,ব্রীজ, কালভার্টসহ যাতায়াতের মাধ্যম গুলোও ইতিপুর্বে নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়ায় একদিকে বন্যার পানি অন্যদিকে বৃষ্টি-উপেক্ষা করে তবুও তারা পরিবারের আপনজনদের নিয়ে নৌকায় করে রাত-দিন তিস্তার বুক পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন বিভিন্ন স্হানে।

অনেকেই বাধে আশ্রয় নেবার পর আবারও নৌকায় করে নদী পাড়ি দিয়ে ঘর,বাসন,বস্ত্র,খাট,আসবাবপত্র,সোলার,টিউবওয়েল,গবাদিপশুসহ পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র যেটুকু সম্ভব উদ্ধার করে আশ্রয়াধীন বাধে নিয়ে আসছেন।

দীর্ঘদিন থেকে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতারচর,পুর্বখড়িবাড়ি সহ ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার বসবাস করলেও তিস্তার ভাঙ্গনে জমি,বসতভিটাসহ নদীতে বিলিন হওয়ার পর এখন অসহায় পরিবারগুলো তিস্তানদী রক্ষায় নির্মিত বিভিন্ন বাধে আশ্রয় নিয়েছেন। একদিকে বসতভিটা নদী গর্ভে হারিয়ে পরিবারগুলো বাধে আশ্রয় নেয়ার সময় আকাশের টানা ভারী বৃষ্টির কবলে পড়ে বানবাসী পরিবার গুলো একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েন।গত সোমবার রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির পটসহ প্রয়োজনীয় উপকরন বিতরন করেন।

380

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ঠাংঝাড়া,বাঘের চর, পাশশেখ সুন্দরসহ ওই ইউনিয়নে ৬ টি ওয়ার্ডে প্রায় ২ শত পরিবারও বাধের রাস্তায় নিরউপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাক্তার জেড এ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বন্যায় দুর্গতদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগের পাশাপশি জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী ও টাবুর চরের ২৮১টি ও খালিশা চাপানি ইউনিয়নের খোকার চরের ২৩টি পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার টাকার প্রস্তাব ত্রান মন্ত্রানালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার জরুরী ভিত্তিতে ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছেন।

বাধের আশ্রিত পরিবারদের জন্য ২টি নলকুপ ও ১০টি স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরীর কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।

দীর্ঘ ৫৪ বছর বসবাস করার পর সর্বনাশা তিস্তা আমাগোর জমি,বসতবাড়িসহ সব শ্যাস কইরা দিলো, একই দিনে পথের ফকির বানাইয়া দিলো গো। মঙ্গলবার বিকালে এ কথা গুলো বলছিলেন,পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত আকবর আলী পুত্র বুধা মন্ডল (৮০)।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা আমাগো পথের ভিকারী বানাইয়া দিলগো ।

সোমবার সন্ধ্যায় হতে এ পর্যন্ত তিস্তার গ্রোইন বাধ,টি বাধে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। একতার বাজার সংলগ্ন দিঘীর পাড়ের মৃত্য সয়ন আলী পুত্র মোসলেম উদ্দিন (৪২) বলেন, আমরা মৃত্যুশম অনেক কষ্টে আছি। আমাগোর ভিটামাটি নিমিষেই তিস্তায় বিলিন করে দিল। একই এলাকার মৃত মইমুদ্দিনের স্ত্রী সুরতন বেওয়া (৫৫) বলেন, তিনমাস আগে পুত্রটারে বাড়ির ভিটায় করব দিছি।বন্যার পানিতে তার কবরটিও ভেষে গেছে। ৬ মাইনসের সংসার এখন ক্যামনে চলবে বলে মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে কান্নায়।

স্বামীটা মরার পর স্বামীর কবরের পাশে পোলাটার কবর দিছি আর এখন বানে সব শেষ হইয়া গেল। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে আসার সাথে পুর্বখড়িবাড়ি, চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জিরপাড়া, টাবুর চর, একতার বাজারসহ সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা ও কয়েকশত হেক্টর জমি,রাস্তাঘাট,ক্লিনিক, স্কুল,ব্রীজ,কালভার্ট,নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে।

1

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা করে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ৩৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এ দিতে বানবাসীদের দাবি সরকার হতে যা ত্রান এসেছে তা পর্যাপ্ত নয়।যদি সমাজের বিত্তবান মানুষেরা আমাদের দিকে আন্তরিক হয়ে সহযোগীতার হাত বারিয়ে দিতেন তবে হয়তোবা আমরা(বানবাসীরা) পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারও দুঃখ,দুর্দশা,কষ্টের মাঝেও সামান্যতম বেচে থাকবার আশ্বাস খুজে পেতাম।আমরা সমাজের সকল বিত্তবান ব্যক্তিদের আমাদের অসহায় পরিবার গুলোকে বাচিয়ে রাখতে তাদের যে কোন ধরনের সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছি।

আপনারা আমাদের ও আমাদের পরিবার গুলোর সকলকেই বাচাতে এগিয়ে আসুন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts