November 17, 2018

তিস্তার বন্যায় ৬টি বিদ্যালয় বন্ধ, কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জীবন এখন অনিশ্চিত!

মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বন্যা ও বন্যা পরবর্তি বর্তমানের ভাঙ্গনে একটি ইউনিয়নের প্রায় সবকিছুই বিলীন হয়ে গেছে তিস্তা নদীতে। বিশেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ওই ইউনিয়নটিতে।

উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন সর্বনাশী তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় পুরো ইউনিয়নের ৬ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কিন্টার গার্ডেন বিদ্যালয়, বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পরে ধ্বংস হয়ে গেছে।এবং তা ছাড়াও বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন এখন।আর অবশিষ্ট ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন না হলেও বুক পানিতে তলিয়ে মুল্যহীন হয়ে গেছে।

উপজেলা তিস্তানদী বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি এবারের বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পুরো ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানসহ ইউনিয়নটি উপজেলা মানচিত্র হতে হাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি উচ্চ বিদ্যালয় এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিক,বাজার,বিজিবি ক্যাম্প কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাট পুল কার্লবাট বিদ্ধস্ত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ওই ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,জিঞ্জিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,টেপাখড়িবাড়ী ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পূর্বখড়িবাড়ী প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়,হায়দার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,একতার বাজার কিন্টার গার্ডেন বিদ্যালয় ও ইউনিয়নটির একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়,অর্থাৎ টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে বিদ্ধস্ত হয়েই চলেছে।

টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন জানান, বন্যায় ও ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়েই গেছে। আমার বিদ্যালয়ে ৪৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত প্রায় একমাস যাবত তাদের পাঠদান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। জিঞ্জির পাড়া সরকারী প্রাথমিক দ্যিালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদ জানান, তার বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়টি কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় এক মাস যাবত ৩১৮ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়টি তিস্তার বন্যার শুরুতেই বন্যার পানি ও ভাঙ্গনে বিধ্যালয়ের দুটি ভবন দেবে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়।

গত দেড় মাস যাবত ৪৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরখড়িবাড়ী বাবুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার বিদ্যালয়টি বন্যার কারনে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এবং ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ অংশ তিস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় টেপাখড়িবাড়ীর ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় বন্যার কোমর পানিতে তলিয়ে ও ভাঙ্গনের কারনে বিদ্যালয় গুলির বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যার কারনে শিক্ষার্থীরা পাঠদান নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যেতে না পারার কারনে তাদের শিক্ষা জীবন হয়ে পড়ছে সত্যি অনিশ্চিত।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাটু পানি আটকে রয়েছে। কিছু বিদ্যালয় ভাঙ্গনের কারনে তিস্তায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পাশ্ববর্তি বিদ্যালয়ে পাঠদান দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোন ভাবেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছেনা। ফলে ৬ টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, বন্যা মূলত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নেই বেশি হয়েছে। ওই ইউনিয়নে একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে ৪৭২ জন্য শিক্ষার্থী রয়েছে।

বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি তিস্তার গর্ভে বিলীন হতে চলেছে!!আর তাই শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, আমার ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। ইউনিয়নটিতে ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয,১টি কিন্টাগার্ডেন ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে। কিন্তু বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়গুলি বিদ্ধস্ত ও কোমর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পাঠদান নিতে আসতে না পারছেনা।তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, টেপাখড়িবাড়ীর বিদ্যালয় গুলির শিক্ষার্থীদের অন্য কোনভাবে পাঠদান দেয়া যায় কিনা।

সে বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। বিদ্যালয় গুলিতে বন্যা পানি আটকে থাকায় পাঠদান দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন,উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা( সহকারী কমিশনার ভুমি) মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবীব, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, ও টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন। এদিকে এখন তিস্তার পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে দিনে দিনে ভয়ানক রুপে রুপান্তরিত হচ্ছে।

প্রতিনিয়ত নতুন করে নতুন নতুন পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts