November 14, 2018

তিস্তার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন সাবেক মন্ত্রী ফারুকসহ ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল

তিস্তার থেকে ফিরে এসে মহিনুল ইসলাম সুজনঃ তিস্তা নদী দ্রুত সময়ের মধ্যে পলি অপসারনের জন্য ডেজিং (খনন) করা হবে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়নি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সকলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানের ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিতের সে কোন সরকারের চেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার নদী নব্যতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে উত্তরাঞ্চরের নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসে এসব কথা বলেন সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী (কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত) ফারুক খান এমপি। নীলফামারীর বন্যা এলাকায় পরিদর্শনের জন্য সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বেসরকারী বিমান পর্যটন ও পরিবরহন মন্ত্রানালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হয়ে দুই সহস্রাধিক পরিবার বাঁধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

তিস্তা নদীর মূল অংশ ভরাট ও অসম্পন্য বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে গত ২০দিনে তিস্তার মূল অংশের বাইরে চরখড়িবাড়ী হয়ে নতুন দুটি চ্যানেল তৈরি হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী, মধ্য খড়িবাড়ী, পুর্ব খড়িবাড়ী, একতার বাজার, দীঘির পাড়, টাবুর চর সহ ১০টি গ্রামের ২ হাজার ২৪০টি পরিবার বসবাস করলেও ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮৩৬টি পবিবারের বসতভিটা, আবাদী জমি, বিদ্যালয়, রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট বিলিন হয়েগেছে। বাকী পরিবারগুলি রয়েছে পানিবন্দি অবস্থায়। হুমকীর মুখে রয়েছে চড়খড়িবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প। এছাড়া ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ফরেষ্টের চরের ৩৪৫টি পরিবার। খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই গ্রামের ৩৫টি পরিবার তিস্তা নদীতে বিলিন হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, তিস্তার বাঁধসহ উচু স্থানে ১ হাজার ৮৭৫টি পরিবার বসতভিটা ভেঙ্গে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের উদ্দোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত সহ সহযোগীতার জন্য ৭টি তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তথ্য কেন্দ্রে সুত্রে জানা যায়, তিস্তার সিলট্রাপে ৪৯৭টি পরিবার, তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যাম (কলম্বিয়া বাধে) ১৪৭টি পরিবার, তেলির বাজার ১২০টি, চেয়ারম্যান বাড়ী সংলগ্ন বাধে ৮৪টি, যৌথ বাঁধে ১৭৭টি, সানিয়াজান বাঁধে ২১৭টি, ফ্লাড ফিউজ সংলগ্ন বাঁধে ১৮৭টি পরিবার, খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া বাঁধে ৫০টি পরিবার, কালীগঞ্জ যৌথ বাঁধে ৪০টি পরিবার, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের পুর্ব ছাতুনামা ৩১৭টি পরিববার আশ্রয় নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল।

বে-সরকারী বিমান পর্যটন ও পরিবহন স্থায়ী কমিটির সভাপতি,সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল ফারুক খান এমপি, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অসীম কুমার উকিল,নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০২ লালমনিরহাট এ্যাডভোকেট সফুরা বেগম, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিয়ার রহমান বন্যা দূর্গত এলাকার সার্বিক বিষয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হ্যালিপোর্ট মাঠে তিস্তার বন্যায় ও ভাঙ্গনে নিঃস্ব ২ হাজার পরিবারে মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ও ৭শ পবিারের মাঝে নগদ ১ হাজার করে টাকা বিতরন করা হয়। এ সময় প্রতিনিধি দলের সাথে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম,ডিমলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভুমি মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ,টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন,একই ইউনিয়নের সরকার দলীয় আ”লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী- ময়নুল ইসলাম,খালিশা চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাঁধে আশ্রয় নেয়া পরিবার গুলির মাঝে সরকারী ভাবে ত্রান মন্ত্রনালয়ের উদ্দোগে প্রতিদিন ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কয়েকবার দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

অসহায় পরিবারগুলির বাঁধ নির্মানের দাবী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো সরকারের নিকট ত্রান চায় না। তারা বাঁচার জন্য চায় তিস্তা নদীর চরখড়িবাড়ী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। এলাকাবাসী জানায়, তিস্তার ভাঙ্গনে আমরা নিঃস্ব হয়েগেছি। আমরা সরকারের কাছে ত্রান চাইনা। তারা বেঁচে থাকার জন্য সরকারের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের দাবী করেন। এখন আমাদের বন্যা ও ভাঙ্গনের কবল হতে রক্ষা করতে চাইলে। তিস্তা নদীর উপড় ভারত বাংলাদেশের ১৮শ মিটার যৌথ বাঁধের পরে বাংলাদেশ অংশে জরুরী ভিত্তিতে ২ হাজার মিটার একটি বাঁধ প্রয়োজন। উপজেলা তিস্তানদী বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি এবারের বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পুরো ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানসহ ইউনিয়নটি ডিমলার মানচিত্র হতে হাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম ৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক,বাজার,বিজিবি ক্যাম্প কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাট পুল কার্লবাট বিদ্ধস্ত হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কায্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

Related posts