September 26, 2018

তিস্তার পানি আবারও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে<<অসহায় হয়ে পড়েছে বানবাসীরা


মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।ভিষন অসহায় হয়ে পড়েছে বানবাসীরা। তৃতীয় দফায় গত কয়েকদিনের টানা ভারীবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে  বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তাই নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার  অনেক গ্রাম হাটু ও কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পুর্বের ও নতুন করে হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।তিস্তানদীর পানির শোঁ শোঁ শব্দ তিস্তারপাড়ের অসহায় বন্যা কবলিত পরিবার গুলোর বুক প্রতিনিয়ত কাঁপিয়ে তুলছে।এসব এলাকার বানবাসী মানুষেরা জানেনা তাদের পরিবারের কি হবে,কি হচ্ছে, তা ভেবে পাচ্ছে না।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে, তিস্তার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।আর এ নিয়ে বর্ষা মৌসুমে তিস্তা তৃতীয় দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করলো।

এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী তিস্তা নদী বেস্টিত  চরের গ্রামগুলোর  চর ও গ্রামের হাজার হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে সেইসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ফরেষ্টের চরের ৭শ পরিবারের বসতভিটায় বন্যায় পানি প্রবেশ করেছে।এসব পরিবারের অধিকাংশ বাড়ীতে হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন  বলেন, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখাড়িবাড়ি সহ ১০টি গ্রামের অবস্থা ভাল না। এসব এলাকার লোকজন সাহসের সাথে বন্যা মোকাবেলা করছে।

এসব এলাকার ঘরবাড়ি স্কুল, আবাদী জমি, হাটবাজার,ব্রীজ,কালভার্ট,ক্লিনিক,রাস্তাঘাটসহ সব কিছু তিস্তা গ্রাস করে চলেছে। তিনি ওই সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ত্রানের পাশাপাশি সরকারী সকল সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। সেই সাথে ওই এলাকায় দ্রুত একটি বাঁধ নির্মানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বিষয়টি নিয়ে পাউবোর উর্ধতন  কতৃপক্ষকে অবগত করবেন মর্মে জানায়।

এলাকার একতার বাজারটি তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় হাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন  জানান, তিস্তা নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম এখন তিস্তা নদীতে পরিনত হয়েছে। নদী এখন এসব গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সাথে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে চরখড়িবাড়ী মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ত্রানের ৩৯ ফিট একটি ব্রীজ।

এ ছাড়া বিএডিসির চরখড়িবাড়ী এলাকায় গত ২ বছর আগে নির্মিত ১৭ ফিট ১টি ব্রীজ, ঝিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট ১টি ব্রীজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির ১০ফিট একটি ব্রীজ বিলিন হয়েছে। এ ছাড়া ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে  বিলীন হয়ে গেছে।গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রবিবার পুর্বখড়িবাড়ি বড় দিঘীর পাড় গ্রামের আরো ৫০টি পরিবার নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।রবিবার সন্ধায় গিয়ে দেখা গেছে ওই গ্রামের অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে তিস্তারনদীর গ্রহিং বাধ ও টি বাধে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

হুমকির মুখে রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প,কমিউনিটি ক্লিনিক,বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, রাস্তাঘাট,বিদ্যালয়,ব্রীজ,কালভার্টসহ একাধিক গ্রাম।

বন্যায় চুলো ও টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ার কারনে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে রয়েছে বন্যা কবলিত এসব বানবাসী মানুষগুলো।কোথাও হাটু ও কোথাও কোমড় পানির নিচে চলে গেছে রাস্তা-ঘাট, স্কুল ও বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান।পানিবন্দী মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে গবাদী পশু নিয়ে উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকের যাবার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাঁধের উপর ঘর নির্মান করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান  জানায়, উজানে ঢলে ও ভারী বৃস্টিপাতের কারনে তিস্তার পানি রবিবার সকাল ৬টা থেকে  ১৭সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি কমে এখন বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তা ছাড়াও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তিস্তানদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি/১৮/০৭/২০১৬

Related posts