November 21, 2018

তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানি বন্দী হাজারও মানুষ!

ঢাকাঃ  গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ আর উজানের ধেয়ে আসা পানিতে ফুলে ফেঁপে ওঠা তিস্তা নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বইছে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। এর ফলে তিস্তা দুকুল ছাপিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে।

আজ বুধবার সকাল ৯ টায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেমি)।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ক্রমেই ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে। ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে। ইতিমধ্যে শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে উঠেছেন। নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরন কেন্দ্র সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার রাত হতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়তে থাকে। রাত ৩ টায় তিস্তা বিপদসীমা অতিক্রম করে। পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা অববাহিকার নিন্মাঞ্চল এখন হাটু পানিতে নিমজ্জিত। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, ছাতুনামা, ঝাড় সিংহের চর, কিসমত ছাতনাই, উত্তর খড়িবাড়ী, পুর্ব খড়িবাড়ী, দোহল পাড়া, চর খড়িবাড়ী, ভাসানীর চর, টাবুর চর, ছোট খাতা, ভেন্ডাবাড়ী, বাইশ পুকর, ছোট খাতা ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে রাতেই উচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার উজানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ডিমলা উপজেলার ৯নং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চড় খড়িবাড়ী গ্রামের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত যৌথ বাঁধটি ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে। এলাকাবাসী শেষ চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি বাঁধটি। বাঁধটি রক্ষা করতে না পারায় জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতার বাজার, চরখড়িবাড়ী, ঝিঞ্জির পাড়া, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গুড্ডিমারী ও বাউরা ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার এ বর্ষায় তিস্তার বন্যায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে ওই এলাকার ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তা জিরো পয়েন্টের সূত্রগুলি জানায়, প্রচন্ড শব্দ নিয়ে হুহু করে কাদা পানি আছড়ে পড়ছে তিস্তায়। পানিতে এলাকার সমস্ত রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানি বন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশী।

রমজানের এ মাঝামাঝিতে হঠাৎ করে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় বিপদে পড়েছে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার রোজাদার নারী পুরুষ। গতকাল রাতে পানি বৃদ্ধি শুরু হবার ফলে অনেকেই সেহরী খেতে পারেনি। সেহরী না খেয়েই তারা রোজা পালন করছেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত দু’দিনের ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে ফুসে উঠেছে তিস্তা নদী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অনেক মানুষের ঘরবাড়িতে হাটু পানি উঠেছে।

Related posts