September 20, 2018

তিন মোড়ল আরও গরিব বানিয়েছে গরিবদের

আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ছাড়া তিন মোড়ল নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশির ভাগ সহযোগী দেশই। ছবি: এএফপিকত আশা! কত প্রতিশ্রুতি! প্রতিটি সদস্য দেশই আর্থিকভাবে লাভবান হবে – এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই গত বছর আইসিসির গঠনতন্ত্রে সংশোধন করে ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিন প্রধান দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হলো কই! তিন মোড়ল নীতির প্রায় এক বছর পর বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যারা গরিব ছিল, তারা আরও গরিবই হচ্ছে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কাছে প্রকাশিত আইসিসির সহযোগী ও নতুন সদস্যদেশগুলোর প্রাপ্ত অর্থের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়, এমন ৯৫টি দেশের মধ্যে ৫০টিই গত বছরের চেয়ে এবার কম তহবিল সহায়তা পেয়েছে।
সদস্যদের মধ্যে উদ্যমী দেশগুলোকে উৎসাহিত করতে গত বছর আইসিসির টার্গেট অ্যাসিস্ট্যান্স পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম (টিএপিপি) বাতিল করা হয়। এর ফলেই এমন বৈষম্য দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ড, হল্যান্ড, কেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো এই প্রকল্প বন্ধ হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অবশ্য লাভবানও হচ্ছে কেউ কেউ।

চীন, হংকং, পাপুয়া নিউ গিনি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর বার্ষিক তহবিল বরাদ্দ ১ লাখ ডলার করে বেড়ে যাচ্ছে।
তবে এই টিএপিপি বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৫ থেকে ৪০-এ থাকা দেশগুলো। তারা যে টুর্নামেন্টে খেলত সেই ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ডিভিশন সিক্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এতে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে গেছে। সহযোগী এক দেশের প্রতিনিধি ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘এই অবস্থা চলতে থাকলে ছোট দেশগুলো মারা পড়বে। কেউ টিকবে কিনা আমি জানি না।’ অন্য একজন আইসিসির বর্তমান পদ্ধতিকে ‘কঠোর’ উপাধি দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বে খেলাটিকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।’

গত বছর গঠনতন্ত্রে সংশোধনের সময় আইসিসির পরিকল্পনা ছিল, সহযোগী ও নতুন সদস্য দেশগুলোকে ২০১৫ থেকে ২০২৩ – এই ৮ বছরে মোট ২৯৯ মিলিয়ন ডলার দেবে। অথচ তিন মোড়ল নীতির আগে এই আট বছরে দেশগুলোর অর্থ সহায়তা হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল ৫৭৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থের অঙ্ক কমে যাওয়ায় আগে থেকেই একটা অসন্তোষ ছিল। এখন যোগ হয়েছে সংশয় – তিন মোড়ল নীতিতে যে ২২৯ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও আদৌ পাবে কিনা!

অবশ্য প্রায় অর্ধেকেরও বেশি সহযোগী ও নতুন সদস্য দেশের অর্থ বরাদ্দ কমলেও অনেকের আবার বেড়েছেও। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের জন্য তহবিল বরাদ্দ বছরে ১৭ লাখ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ডলার। তবে অন্য সহযোগী ও নতুন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এতে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তারা ভাবছে, সহযোগী সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্মিলিত তহবিল থেকেই আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের ওই অর্থ আসছে। অথচ এই অর্থ অন্য কোনো তহবিল থেকে আসা উচিত ছিল বলে মনে করছে তারা।

মজার ব্যাপার, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডও এঁদের সঙ্গে একমত। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রস ম্যাককোলম বলছেন, ‘অন্য সহযোগীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে আমরা বেশি পাচ্ছি। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনে নিতে পারছি না, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডও এটিকে ভালোভাবে দেখছে না।’

অবশ্য আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের অর্থ সাহায্য বাড়লেও এখনো সেটি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পাবে ৭৫ মিলিয়ন ডলার, সেখানে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান পাবে মাত্র ২০ মিলিয়ন। আইসিসির অর্থ বরাদ্দ নীতির এমনই দশা যে, অর্থ সংকটের কারণে নাকি আয়ারল্যান্ড ২০১৬ থেকে পরের বছরগুলোর সূচিতে এখনো তাদের সম্মতি জানাতে পারেনি।

এই বৈষম্যমূলক নীতির পরিবর্তন চাইছে ছোট দেশগুলো। তারা এখন তাকিয়ে আছে আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের দিকে। কদিন আগেই যে তিন মোড়ল নীতির সমালোচনা করেছিলেন নবনিযুক্ত আইসিসি চেয়ারম্যান। বলেছিলেন, এই নীতিতে লাভবান হচ্ছে কেবল তিন প্রধান দেশই। দেখা যাক, তিনি কী পরিবর্তন আনতে পারেন! তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts