September 19, 2018

তিন কোটি টাকা ব্যয়ে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হচ্ছে


ঢাকাঃ  সর্বোচ্চ তিন কোটি টাকা ব্যয় বাজেট ধরে ২০তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। তবে দলটির সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত ১১টি উপ-কমিটির প্রধানরা সম্মেলনে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি হিসেব অর্থ উপ-কমিটির কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (৪ জুন) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অর্থ উপ-কমিটির আহ্‌বায়ক দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহর কাছে এ হিসাব উপস্থাপন করেন বলে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান। তারা জানান, বিভিন্ন উপ-কমিটি প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা খরচের খাত দেখিয়ে হিসাব দেখালেও সম্মেলন উপলক্ষে তিন কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের।

সূত্র জানায়, খাদ্য, মঞ্চ ও সাজসজ্জা, প্রচার, সাংস্কৃতিক ও অভ্যর্থনা—এ পাঁচটি উপ-কমিটি সর্বোচ্চ ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে। এর মধ্যে প্রচারে ১ কোটি, সাজসজ্জায় ৮০ লাখ, খাদ্যে ৮৫ লাখ, সাংস্কৃতিক খরচ ৫০ লাখ ও অভ্যর্থনা উপ-কমিটি ৭০ লাখ টাকা খরচের একটি হিসাব অর্থ উপ-কমিটির আহ্‌‌বায়ক কাজি জাফরউল্যাহর কাছে তুলে ধরে। স্বাস্থ্য উপকমিটিও ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি হিসাব দেয়। অর্থ ছাড়া বাকি ৪টি উপকমিটির সম্মেলন উপলক্ষে খুব একটা খরচের খাত নেই। তাই সব মিলিয়ে বাকি চারটি খাতে সর্বোচ্চ বিশ লাখ টাকা খরচের একটি ধারণা করা হয়েছে।

এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিভিন্ন উপ-কমিটির নেতারা প্রায় চার কোটি টাকা খরচের একটি হিসাব দাঁড় করিয়েছেন। শনিবারের বৈঠকে প্রতিটি উপ-কমিটির আহ্‌বায়ক ও সদস্য সচিব অর্থ উপ-কমিটির আহ্‌বায়কের কাছে আনুমানিক ধরে একটি খরচের হিসাব দিয়েছেন। তিন/চারটি উপ-কমিটি এখনও খরচের হিসাব দিতে না পারায় কোনও উপ-কমিটির দেওয়া হিসাবই চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৩ দিনের মধ্যে সবাই খরচের হিসাব দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। সব উপ-কমিটির হিসাব পাওয়া গেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তা তুলে ধরা হবে। এরপর শেখ হাসিনা অনুমোদন দিলে উপ-কমিটির প্রধানদের হাতে সম্মেলনের খরচের টাকা তুলে দেওয়া হবে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, খরচের হিসাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত করবেন। তবে এবারের সম্মেলন খুবই জাঁকজমকপূর্ণ হবে। এজন্য সর্বোচ্চ ব্যয় চিন্তা করা হয়েছে তিন কোটি টাকা। সর্বনিম্ন আড়াই কোটি টাকার মধ্যে রাখা হবে। এ প্রসঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেন, আমাদের দলীয় তহবিল আছে, সেখান থেকেই খরচ করা হবে সম্মেলনের সম্পূর্ণ খরচ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ-উপকমিটির আহ্‌বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শনিবার অর্থ উপ-কমিটির সঙ্গে অন্য উপ-কমিটির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত ওই বৈঠক মূলত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উপকমিটির সঙ্গে ছিল। সেগুলো হলো, খাদ্য, প্রচার, মঞ্চ ও সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক ও অভ্যর্থনা কমিটির সঙ্গে। তবে অন্য উপ-কমিটির দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মূলত সম্মেলনে খরচ নিয়েই বৈঠকটি ছিল। এখানে কেউ কেউ আনুমানিক একটি হিসাব আমাদের কাছে দিয়েছেন।

অন্যরা দিতে পারেননি। তাই খরচের চূড়ান্ত ‘ফিগা’রটা পাওয়া যায়নি। আমি আগামী ৩দিনের মধ্যে অন্য উপ-কমিটিগুলোর সবাইকে খরচের হিসাব দিতে অনুরোধ করেছি। হিসাব পাওয়ার পর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে তা ‘সাবমিট’ করব। দিনি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে আছেন। ফিরবেন ৭ জুন। ৮ জুন তাকে খরচের হিসাব দেব আশা করছি। তারপর আগামী ১১ জুন অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনা সাপেক্ষে তা অনুমোদন করা হবে। ব্যয়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই তাদের খরচ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই অঙ্ক অনেক বড়। আমি এটুকু বলতে পারি এবারের সম্মেলন জাঁকজমকপূর্ণ হবে, তাই খরচ তো করতেই হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, শনিবার অর্থ উপ-কমিটির সঙ্গে অন্য উপ-কমিটির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে কয়েকটি উপ-কমিটির প্রধানরা সম্মেলন উপলক্ষে ব্যয়ের একটি খরচ উপস্থাপন করেছে অর্থ উপ-কমিটির কাছে।

খরচের হিসাব দেওয়া হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে প্রচার উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সম্মেলনে প্রচার উপ-কমিটির দায়িত্ব অনেক বেশি। পাশাপাশি খরচের খাতও এখানে অনেক। তাই আমরা সম্ভাব্য খরচের একটি আনুমানিক ধারণা দিয়েছি। দিনি বলেন, এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে খাদ্য উ-কমিটির সদস্য সচিব ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে দূর থেকে লোকজন আসবেন। এখানে খাবার সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ বাবত পঁচাশি লাখ টাকার একটি হিসাব অর্থ উপ-কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাব্লূ বলেন, প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচের খাত রয়েছে সম্মেলন উপলক্ষে। অর্থ উপ-কমিটিকে তা জানানো হয়েছে।

সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে যে ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো অভ্যর্থনা উপ-পরিষদ, অর্থ উপ-পরিষদ, ঘোষণাপত্র উপ-পরিষদ, গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ, দফতর উপ-পরিষদ, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-পরিষদ, মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-পরিষদ, সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ, খাদ্য উপ-পরিষদ ও স্বাস্থ্য উপ-পরিষদ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts