December 17, 2018

তারেক জিয়ার সাজায় থমকে গেছে জাতীয় ঐক্য গঠন

ঢাকাঃ নেতারা বলছেন তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে রায় আইনী ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। যদিও বিএনপি বলছে ‘সরকার সাড়া না দিলেও জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটবে না বিএনপি’ -এমন ঘোষণা দিলেও জঙ্গিবিরোধী জনমত গঠনে এখন পর্যন্ত চোখেপড়ার মত কোনো উদ্যোগ নেই দলটির।

গত বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে তারেক রহমানের অর্থপাচার মামলায় সাজাপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা গৌণ হয়ে যায়। কখন, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি মাঠে নামবে তা নিয়েই আলোচনা প্রাধান্য পায়।

দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন, এখন আবারো ঐক্য প্রচেষ্টার কাজ শুরু হবে। বেগম জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী বিশিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু হবে। তবে মির্জা ফখরুল গত শনিবার বলেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ইস্যু আড়াল করতেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এই দ- দেওয়া হয়েছে। সরকার বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টা বানচাল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চাইছে বিএনপি তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। ঐক্য প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকুক। তবে আমরা নিজেদের কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া নিয়ে জোরালোভাবে কাজ শুরু করবো। মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্য নিয়ে হোমওয়ার্ক চলছে। গণতন্ত্রের অভাবে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সন্ত্রাস দমন ইস্যু নিয়ে বিএনপি ভবিষ্যতে মাঠে নামবে। মাঠে নামার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা সময়সাপেক্ষ। তাই বিএনপি সময় নিচ্ছে।

দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, তারেক রহমানের সাজা হওয়ায় ঐক্য প্রক্রিয়ায় ছেদ ঘটেছে। তবে যত সময় প্রয়োজন, একটি জাতীয় ঐক্য দাঁড় করাতে চান খালেদা জিয়া। মূল লক্ষ্য বৃহত্তর ঐক্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। তবে সরকার বিরোধিতা করায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো ভালোভাবে সাড়া না দেওয়ায় ঐক্যের ডাক সফল হচ্ছে না। তবে চেষ্টা চলছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য গড়ার ডাক দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া; কিন্তু পরে সরকার এই ঐক্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর ১৩ জুলাই স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা করেন বেগম জিয়া। একইদিন শরিক জোট ২০ দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

পরদিন ১৪ জুলাই তিনি সমাজের বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া হয় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

টিমগুলোর কাজ শেষ হলে খালেদা জিয়া ঢাকায় জাতীয় কনভেনশনের ডাক দেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, দলের ভেতরে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ গতিহীন হয়ে গেলেও বিএনপি সমর্থক-বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নিজে কয়েকদিন দৌড়ঝাঁপ করেছেন। তিনি সিপিবি-বাসদ, কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লন্ডন থেকে ফিরেছেন। এখন এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। নোমান জানান, বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জঙ্গিবাদ দমন ইস্যুতে মাঠে নামবে। জাতীয় স্বার্থে এই ইস্যুকে সামনে এগিয়ে নিতে চায়। এজন্য সময় নিতে চায়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts