September 24, 2018

তাই নাম দেয়া হয়েছে, “একটি বৃক্ষ একটি মুজিব”

মহিনুল ইসলাম সুজন,
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগ তিস্তানদীর বানভাসীদের পাশে দ্বাড়ানোর পর এবার আর একটি ব্যতিক্রমী কর্মসুচীর উদ্যোগ নিয়েছেন।আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি হলো উপজেলার ৬১টি বিদ্যালয়ে গিয়ে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করা।

একটি মুজিব একটি বৃক্ষ এই শ্লোগানকে সঙ্গে নিয়েই ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে উপজেলার ৬১টি বিদ্যালয়ে নানান জাতের বৃক্ষরোপন করা হচ্ছে।

নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের সহায়তায় গত রবিবার সকালে ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কর্মসুচীর উদ্ধোধন করা হলেও সোমবার পর্যন্ত-উপজেলার ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয়,বি এম আই-কলেজ,ডিমলা রানী বিন্দা রানী উচ্চ বিদ্যালয়,জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজ,ডিমলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,ডিমলা মহিলা মহাবিদ্যালয়সহ ইতিমধ্যে ৮টি বিদ্যালয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে গিয়ে সে সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়েই বৃক্ষরোপন করে চলেছেন।

যা আজ মঙ্গলবারও(৯ই আগস্ট) থাকবে অব্যাহত।

উপজেলা ছাত্রলীগ সুত্র জানা গেছে, উপজেলার ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মোট ১৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষুধী গাছের চারা গাছ রোপন করা হবে।যতদিন টার্গেটের সবকটি বিদ্যালয়ে চারা রোপন করা শেষ হবেনা ঠিক ততদিনই এই কর্মসুচী চলমান থাকবে।

আর ব্যতিক্রমী এই বৃক্ষরোপন কর্মসুচীতে উপস্থিত থাকছেন ও থাকবেন,-নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাইয়েন কাদের কানন সরকার,ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার,সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন স্বাধীন,সহ-সভাপতি-রায়হান কবীর,আমিনুর রহমান,হাবিবুর রহমান ডালিম,সাংগঠনিক সম্পাদক (১)-ইরফান আহম্মেদ মিঠু,(২)রুবেল ইসলাম টেকো,সদর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক-নুরনবী ইসলাম মানিক,ডিমলা ইসলামিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-আব্দুর রশিদ লেবুসহ উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীগন।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার জানান, যে শক্তি থেকে এসেছে ৭১ , যে শক্তি থেকে জন্ম নিয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারি, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৬ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ,অতঃপর বাংলাদেশ।আজ কিছু মৌলবাদী হায়েনার উন্মত্ত ঠোকড়ের জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ।

আমরা কি কিছুই করতে পারিনা ?

মূলত -১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে শুরু হয় সারা বাংলায় একযোগে আওয়ামী হত্যা, নীপিড়ন ও অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনার ধর্ষণ।আমার জন্মই হয়নি তখনো কিন্তু সেদিনের সেই মৌলবাদের সুপ্তবীজ আজ ডালপালা মেলে বৃহৎ বৃক্ষে পরিনত হয়েছে এটা আমি বুঝতে পারি।দেশকে সুপরিকল্পিত ভাবে বিভক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে, আমাদের দুর্বল জায়গাকে পুঁজি করে কেউ কেউ গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড় আর তাদের মেন্ডেড ফিলআপ করতে গিয়ে বড় লোক বাবার আদরের সন্তান-কে বিশ্ব চিনছে জঙ্গী হিসাবে!!

বিষয়টা অনেকটা নিজে দুধ খেয়ে অন্যকে ভাতের মাড় খাওয়ানোর মতোই বলা যেতে পারে।
এখানেও আমি প্রতিবাদ জানাই- বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রিয় আমাদের বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ছাড়া যদি কেউ অকৃত্রিম ভাবে ভালোবেসে থাকে সেটাই হচ্ছে বৃক্ষ।বৃক্ষ তার শ্যামল ছায়া দিয়ে বাঁচিয়েছে আমার বাংলাকে।

সে দেখেছে গনহত্যা ,সে দেখেছে বীরাঙ্গনার আর্তনাদ ,সে দেখেছে হায়েনার আঘাতে মৃত্যুকে জয় করার হাসি,তবুও সে বাংলা ছেড়ে কোথাও যায়নি ভালোবেসেছে আমাদের অকৃত্রিম ভাবে। তাই আমাদেরও উচিত এই উপকারী বন্ধুর সংখ্যা বৃদ্ধি করানো।এখন বর্ষাকাল আর গাছের বেড়ে ওঠার প্রকৃত সময়,তাই আমরা ছাত্রলীগ কিন্তু পারি বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি করে হলেও বৃক্ষ রোপন করতে।যাতে করে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকই অনুপ্রানিত হতে পারে আমাদের এই শুভ কাজে।

এই কর্মসূচীর নাম তাই দেয়া হয়েছে-” একটি বৃক্ষ একটি মুজিব”।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts