November 17, 2018

তরুণ থাকতে চান তাহলে আত্মবিশ্বাস রাখুন!

ঢাকাঃ  টিভি বিজ্ঞাপনে সবসময় আমরা প্রচার হতে দেখি, কীভাবে আরও বেশিদিন তরুণ থাকা যায়, কীভাবে ১০ বছর বয়স কমিয়ে ফেলা যায়! বয়স কি আসলে কমানো যায়? নাকি তরুণ দেখালেই আসলে একটি মানুষ তরুণ হয়ে যান? জীবনের নিয়মেই বয়স বাড়ে। আর সব বয়সেরই আছে নিজস্ব সৌন্দর্য্য, তাৎপর্য্য। আসুন জেনে নিই এই ঢাক ঢোল বিজ্ঞাপনের বাজারে কিভাবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়েও আপনি থাকতে পারেন সতেজ, দাড়াতে আরেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হয়ে। পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী সুসান ক্রউস হিটবাউর্ণ পি এইচ ডি। তিনি University of Massachusetts Amherst এ মনস্তাত্ত্বিক এবং মস্তিষ্কের বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্তব্যরত আছেন।

১। ইতিবাচক হোন

নিজের বয়সের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে সজীব তো বটেই দীর্ঘায়ু করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের সময়টাকে মেনে নিয়েছেন এবং তার সাথে মানিয়ে জীবনকে প্রফুল্লচিত্তে পরিচালনা করেছেন তারা বেঁচেছেনও বেশীদিন। হয়ত মনের মাঝে আনন্দ এবং নির্ভার মস্তিষ্ক এর কারণ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণজীবনের উপর করা Becca Levy discovery নামক পরিসংখ্যানের ফলাফলে দেখা যায়, তারাই ভাল ছিলেন এবং অনেক দিন বেঁচেছেন যাদের ছিল আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

২। নিজেকে বৃদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা এড়িয়ে চলুন

প্রায়ই যেটা হয়, আমরা আমাদের কাজের ভুলের জন্য বয়সকে দায়ী করি। অফিসে গিয়ে হয়ত দেখলাম, চাবি আনতে ভুলে গিয়েছি। নিজেই হাসতে হাসতে বলি, “বয়স হয়েছে তো!” এর দুইটি খারাপ দিক আছে। এক, নিজের ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বদলে আমরা আরও প্রশ্রয় দিই। দুই, অন্যের কাছে নিজেকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করি। যেটার কোনটাই ঠিক নয়। আপনার কর্মক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা আপনাকে করতে হবে। বয়স কাউকে পিছিয়ে দেয় না। বরং বয়সের সাথে যুক্ত হওয়া অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও প্রভাবশালী করে।

৩। অন্যকে বয়সের জন্য সমালোচনা করা বন্ধ করুন

ধরুন, আপনার বন্ধুর জন্মদিন। আপনি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কার্ড পাঠালেন। লিখলেন, ‘তুই তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস!’ এই নেতিবাচক শুভেচ্ছা আপনার বন্ধুকে দুঃখ দিতে পারে আবার ফিরে আসতে পারে আপনার কাছেও। বয়সকে উপভোগ করুন। সেটি আলোচনা, সমালোচনার বস্তু নয় মোটেই।

৪। নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করুন

বয়সের সাথে সাথে কী কী সমস্যা হতে পারে তা নিয়ে আগেভাগে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আত্মবিশ্বাস রাখুন আর তৈরি হোন যে কোন পরিস্থিতির জন্য। ইতিবাচকভাবে ভাবুন। নিজের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা করুন। এতে আপনি হবেন নিশ্চিন্ত, সুখী। বড় হতে হতে আমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে ভয় কাজ করে তা হল, আমরা হয়ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ব অন্যের প্রতি। একটি স্টহিক পরিকল্পনাই আমাদের এর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

৫। উঠতি যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করুন

আপনি হয়ত খেয়াল করে থাকবেন, মাঝবয়সী ব্যাক্তিরা একটি সাধারণ মোবাইল ফোন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। স্মার্টফোন নিতে চান না বা নতুন প্রযুক্তি শেখার ব্যাপারে তীব্র অনীহা প্রকাশ করেন। অনলাইনের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোও এড়িয়ে চলেন তারা।এই যে প্রযুক্তিবিমূখতা তা তাদেরকে আরও পিছিয়ে দেয়, তরুণ সমাজের সাথে একটা বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। নিজের বেয়ায় এই ভুল্টি করবেন না। নতুনকে গ্রহণ করে তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলুন। আপনাকে কেউ বুড়ো ভাববে সে সুযোগ কেন দেবেন?

৬। বিদ্রুপ সামলে চলুন

চাকরিক্ষেত্রে বা অন্য অনেক ক্ষেত্রেই বয়সকে কেন্দ্র করে আপনাকে ছোট করার চেষ্টা হতে পারে। আপনার মাঝে বিন্দুমাত্র হীনমন্যতার আঁচ পাও্যা গেলেই আপনার শত্রুপক্ষ সেই দূর্বলতা নিয়ে হাস্যপরিহাস করতে ছাড়বে না হয়ত। একে মোকাবেলা করুণ একটা চমৎকার উচ্ছল হাসি দিয়ে। জানিয়ে দিন, আপনি আগেও প্রফুল্ল ছিলেন, এখনো আছেন। বয়স আপনাকে পরিচিত করে না, আপনার ব্যক্তিত্বই আপনার পরিচয় সবসময়ই।

৭। বিজ্ঞাপণের শিকার হবেন না

বয়সকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যবসা, বিজ্ঞাপণ বলছে, এন্টি এজিং ক্রীম ব্যবহার করলেই নাকি তরুণ হয়ে যাবেন আপনি। আপনার মনের তারুন্যই আসল। কোনভাবেই এসব বিজ্ঞাপণ দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। এসব পণ্য শুধু ক্ষতিকারকই নয়, ব্যবহারে ফল না পাওয়া আপনাকে হতাশ করতে পারে। কোনকিছুকেই আপনার মন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেবেন না। আপনার চোখমুখ হবে উজ্জ্বল, উচ্ছল, তারুন্যদীপ্ত। কিন্তু তা আপনার অভ্যন্তরীন শক্তিতে, কোন বিউটি প্রডাক্টস তা দিতে পারে না।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১১ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts