November 21, 2018

তনু হত্যার বিচার নিয়ে শংকা!


ঢাকাঃ  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজর ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৩ মাস পূর্ণ হল সোমবার।২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপের ভেতর থেকে কলেজছাত্রী তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ তনুর লাশ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করলেও দ্বিতীয় দফায় এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওপর। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

সিআইডি তদন্তে প্রায় ৮০ দিন অতিবাহিত করেও এ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক কিংবা তনুকে কারা ও কিভাবে হত্যা করেছে এর কোনো মোটিভ উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

এছাড়া দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই ফরেনসিক বিভাগ তার মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে না পারায় মামলার বিচার কার্যক্রম নিয়েই এখন শংকিত তনুর পরিবার।

তনুর লাশ উদ্ধারের পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ওই কলেজের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা।

তিনি ৪ এপ্রিল ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি।

আদালতের নির্দেশে ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য গঠন করা হয় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ১৪ মে কুমিল্লার আদালতে এসে পৌঁছায় নিহত তনুর সাতটি বিষয়ের ডিএনএ প্রতিবেদন। ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যায়।

তনুর ডিএনএ পরীক্ষায় আলামত পাওয়ায় প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্য সিআইডিতে চিঠি পাঠান মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কেপি সাহা।

একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর আদালতের নির্দেশে ৭ জুন ফরেনসিক বিভাগের চাহিদা মোতাবেক তনুর ভেজাইনাল সোয়াব, দাঁত, চুল, অন্তর্বাস, কাপড়সহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।

১২ জুন ফরেনসিক বিভাগ ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান ডা. কেপি সাহা তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়া ওই প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে ‘সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্স’ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তনুর এ প্রশ্নবিদ্ধ দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তনুর পরিবারও প্রথম ময়নাতদন্তের ন্যায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। ডিএনএ প্রতিবেদনে শুধু তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার প্রতিবেদন দিলেও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা পচাগলা মরদেহ থেকে কিভাবে তনুর সেক্সচুয়াল ইন্টারকোর্স মেডিকেল বোর্ডের কাছে ধরা পড়ল এ নিয়ে তনুর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লার সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যাই থাকুক না কেন ঘাতকদের চিহ্নিত করতে ডিএনএ সহায়তা নেয়া হবে, আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

রোববার বিকালে তনুর মা আনোয়ারা বেগম মোবাইল ফোনে জানান, তনু হত্যার পর ন্যায়বিচারের জন্য অনেকেই তো সান্ত্বনা ও আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু এখন তো কোথাও ভরসা পাচ্ছি না, কার কাছে বিচার চাইব?

তিন মাসেও একজন ব্যক্তিকেও তো এ মামলায় গ্রেফতার করা হল না, বারবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলানো হল, অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল কিন্তু মামলার ফলাফল কি আমরা এখনও জানি না।

Related posts