March 24, 2019

তনু হত্যাঃ ৩ মাসেও ধরা পড়েনি খুনিরা!

আলাউদ্দিন মজুমদার,
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকান্ডের ৩ মাসেও খুনিরা ধরা পড়েনি। এনিয়ে কুমিল্লার সচেতন মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। সিআইডির একটি সূত্র দাবি করেছেন, বিশেষ এলাকা না হলে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার কিংবা ডিএনএ টেস্ট করা যেতো। কিন্তু সেখানে স্বাধীন ভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ময়নাতদন্ত নিয়ে মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ১২ জুন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে বলেন, মৃত্যুর ১০দিন পর মরদেহ ময়নাতদন্ত করায় তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা শনাক্ত করতে পারেনি বোর্ড।

কারণ ততদিনে তার শরীর পচে গেছে। ২য় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে পুলিশকে অধিকতর তদন্তসহ পারিপার্শ্বিক তদন্ত করতে পরামর্শ দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এছাড়া ময়না তদন্ত রিপোর্টে সরাসরি ধর্ষণের কথা বলা না হলেও মৃত্যুর আগে তার যৌন অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে তনুর মা আনোয়ারা বেগম দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, এ রিপোর্ট মিথ্যা। রিপোর্ট যদি মিথ্যা না হয় তাহলে তদন্তকারীরা কিভাবে বলল যে আমার মেয়ের যৌন সম্পর্ক ছিলো। আমি বার বার বলেছি আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। আমার মেয়ের নাকে আঘাত, মাথায় আঘাত, শরীরে বুটের পায়ের দাগ, বুটের পারায় পায়ের রানের মাংস থেতলে ছিল। কিন্তু ডাক্তাররা কেনো মৃত্যুর কারণ খুঁজে পায়নি। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা ভুল রিপোর্ট দিয়েছিলেন। তাকে বাঁচাতে ২য় প্রতিবেদনও ভুল দেয়া হয়। আমি মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার চাই।

গণজাগরণ ম  কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ময়নাতদন্তের নামে ফরেনসিক বিভাগ নাটকের সৃষ্টি করেছে। তারা অপরাধীচক্রকে বাঁচাতে সময় ক্ষেপন করেছে। তনুর হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামবো।

কুমিল্লা টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত মিলেনি। ২য় ময়নাতদন্তেও হত্যার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়। তবে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টকে দেখে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কথা বলা হয়েছে। তবে একটি পক্ষকে বাঁচাতে সেখানে ফোর্সফুল কথাটি বলা হয়নি।

নারী নেত্রী রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স বা যৌন সম্পর্কের কথা বলে তনুর চরিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সিআইডি সঠিক তদন্ত করে আসামি শনাক্ত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, তনুকে ধর্ষণ বা সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’র তথ্য প্রকাশের চেয়ে আইনগতভাবে তার মৃত্যুর কারণটি খুঁজে বের করাই ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের উচিত ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো.ইব্রাহিম বলেন, ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছি। ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

উল্লেখ্য- গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল ২ সপ্তাহের মধ্যেই দেয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ।

গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারো আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের পর ১২ জুন ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেটি নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২০ জুন ২০১৬

Related posts