November 17, 2018

তনু ও নাজিম হত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৯ বাংলাদেশীকে বহিস্কার না করা এবং বাংলাদেশে সোহাগী জাহান তনু  এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদহত্যার বিচার দাবিতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট’  সংস্থার ব্যানারে গত ১০ এপ্রিল রোববার অপরাহ্নে এ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘ড্রাম’র কয়েকজন কর্মকর্তাও বক্তব্য রাখেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহ শহীদুল হক সাইদ তার বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,‘ সোহাগী জাহান তনু হত্যা একটি সুপরিকল্পিত জঘন্যতম অপরাধ। সেনানিবাস পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান, সেই সেনানিবাস অর্থাৎ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে একজন ছাত্রীকে প্রথমে পাশবিক অত্যাচার, তারপরে হত্যা করা কি করে সম্ভব? তনু হত্যার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা অবশ্যই সেনাবাহিনীকে খুঁজে বের করতে হবে। তনু হত্যাকারীকে/দেরকে ৭ দিনের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ সাইদ আরো বলেন, ‘নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ১৭ দেশের সীমান্ত অতিক্রমের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেফতার হওয়া সকল বাংলাদেশীর এসাইলাম মঞ্জুর করতে হবে। কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা চলবে না। বাংলাদেশে তারা নিরাপত্তাহীন হবার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।’ বহিস্কারের এহেন প্রক্রিয়া থেকে বিরত না হলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (২৫ ফেডারেল প্লাজা) সামনে বিক্ষোভ করার হুমকিও দেন সাইদ।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ,আবদুর রহীম হাওলাদার, কাজী ফওজিয়া, হাকিকুল ইসলাম খোকন,আনোয়ার হোসেন, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, আকতার হোসেন, শাহাদৎ হোসেন, জাকির হোসেন, খান শওকত, হেলাল মাহমুদ, সালমা খান, দেওয়ান আশরাফুল আলম,লিয়াকত আলী,জাকির হোসনে বাচচু,ফারজানা হক,সপন বসু,রিফাত সুলতানা রিমা,সবিতা দাস,নিরা রাববানি, প্রমুখ।

উল্লেখ্য, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, আলাবামা, লুইঝিয়ানা প্রভৃতি রাজ্যের ডিটেনশন সেন্টার থেকে আরো ১৬৯ বাংলাদেশীকে আরিজোনা রাজ্যে অবস্থিত ইমিগ্রেশনের ডিটেনশন সেন্টারে জড়ো করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের নিজস্ব এয়ারলাইন্সে তাদেরকে ঢাকায় নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা কদিন আগে এ সংবাদদাতাকে জানান। তারা আরো উল্লেখ করেন যে, ‘বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয় (এসাইলাম) প্রার্থনা করেন। তাদের আবেদনের ব্যাপারে বিস্তারিত শুনানী হয়েছে ইমিগ্রেশন কোর্টে। মাননীয় বিচারক এই ১৬৯ জনের আবেদনও নাকচ করে তাদেরকে অবিলম্বে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই নির্দেশে গত ৪ এপ্রিল আরো ২৭ বাংলাদেশীকে যুক্তরাষ্ট্র হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের বিশেষ বিমানে নেয়া হয়।’

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১২ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts