November 21, 2018

ঢাবির আরেক শিক্ষকের কেলেঙ্কারি ফাঁস!

ঢাকাঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এম. ফিল কোর্সের এক ছাত্রীকে দেড় বছর যাবৎ যৌন হয়রানি করছেন ওই বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. শান্তনু মজুমদার। বিবাহিত ছাত্রীর সঙ্গে তার এমন কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে ওই বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে একটি ছাত্রসংগঠনের চাপের মুখে ওই ছাত্রী বিষয়টি ঢাবি ভিসিকে অবহিত করেননি। যৌন হয়রানির বিষয়টি বিভাগের প্রধানকে জানিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী হুমকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শান্তনু মজুমদার যৌন হয়রানির ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। ওই শিক্ষক একটি ছাত্রসংগঠনের সগযোগীতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই ছাত্রী এবং তার স্বামীকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রী ভিসি বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেননি। তবে এবিষয়ে বিভাগীয় প্রধানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ২০১৪-১৫ সেশনে এম. ফিল. কোর্সে ভর্তি হন ওই ছাত্রী। আর ওই ছাত্রীর সুপারভিশনের দায়িত্ব পালন করেন ওই বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. শান্তনু মজুমদার।

তিনি সুপারভিশনের দায়িত্ব পেয়ে নানাভাবে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতেন।

চলতি মাসের ১ জুন ড. শান্তনু মজুমদার অশ্লীলতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। ওই দিন ড. শান্তনু মজুমদার তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে মর্ডানিজম ও লিবারেলিজমের নামে ওই ছাত্রীর শরীর নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি (ড. শান্তনু মজুমদার) অশ্লীল-আপত্তিকর-বিব্রতকর কথাবার্তা বলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং ঘটনাটি ছাত্রীর পরিবার ও বন্ধুদের খুলে বলেন। গত ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর তিনি একটি অভিযোগও লিখেন।

এদিকে, বিষয়টি ড. শান্তনু মজুমদার জানতে পেরে ঘটঘটনার ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। পরে ওই শিক্ষক এবং ছাত্রলীগের একটি অংশ ঘটনার ধামাচাপা দেয়ার চাপ প্রয়োগ করেন ওই ছাত্রী এবং ছাত্রীর স্বামীকে। পরে ওই ছাত্রী ভিসি বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেননি।

এদিকে, গত ২৭ জুন বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর এক লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী জানান, যে লজ্জাজনক ও ঘৃণিত অপরাধ আমার সঙ্গে হয়েছে সেটার বিষয়ে আমি আপনাকে আগেই অবহিত করেছিলাম। ড. শান্তনু মজুমদার আমার ও আমার স্বামীর কাছে করজোরে ও অশ্রুসজল চোখে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, যখন উনি জানতে পারেন আমি ভিসি ও ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিতে চাইছিলাম। পরে আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলেও এ বিষয়ে নানা বিভ্রন্তিকর তথ্য আমার কাছে আসছে, যা চরম হতাশাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের এক শিক্ষক জানান, এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ড. শান্তনু মজুমদার ও ছাত্রলীগের একটি অংশ দিয়ে ওই ছাত্রীকে চাপ প্রয়োগ করেন। এর ফলে ঘটনাটির মিমাংসা দিকে গেলেও বর্তমানে ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূরুল আমিন বেপারী বলেন, ওই ছাত্রীর একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। বিষয়টি বিভাগেই সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছেন ওই ছাত্রী। তাই আমি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিনি।

ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, সে আমার ১৬ মাসের পুরনো ছাত্রী। আামি গত একবছর ধরে তাকে সুপারভিশন করছি। আমি কোয়ালিটির ব্যাপারে আপোস করিনা। তাই বেছে বেছে শিক্ষার্থী নেই। ওই ছাত্রী আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ করেছে তা খুবই হতাশা ও দুঃখজনক। আমি পারিবারিক একটি ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারছি না। হুমকি দেয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন বিষয়টি এর আগে মীমাংসা হয়েছিল নতুন করে কেন আবার যৌন হয়রানির বিষয়টি উঠছে তা বুঝতে পারছি না।

Related posts