November 14, 2018

ঢাকা- হাইটেক পার্ক ইলেকট্রিক শাটল ডেমো চালু হচ্ছে

ঢাকাঃ  ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। ২৩২ একর জমিতে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠছে পার্কটি। নয়নাভিরাম পার্কের বুক চিরে চলে গেছে রেলপথ। ঢাকার সঙ্গে পার্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে।

স্টেশনটি থেকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ও ঢাকার মধ্যে ডিজেল ইলেকট্রিক শাটল ট্রেন চালু করা হবে।

সেখানে ২ সেট (৬ ইউনিটে এক সেট) ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। যেন দ্রুততম সময়ে ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমো) কেনা যায়। ঢাকা-হাইটেক পার্ক রেলপথে ডেমোগুলো চলাচল করবে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনগুলোকে না ঘুরিয়েই ঢাকা-হাইটেক পার্কে যাতায়াত করা যাবে।

শুধু হাইটেক পার্কই নয়, এর আশেপাশের মানুষও ডেমো ট্রেনের সুবিধাভোগ করতে পারবেন।

বর্তমানে হাইটেক পার্কের অবকাঠামোর কাজ এগিয়ে চলেছে। নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাডও। উঁচু উঁচু টিলা কেটে তৈরি করা হচ্ছে অন্যান্য অবকাঠামোও। এখানকার চারতলা বিশিষ্ট মূল প্রশাসনিক ভবন, গেটওয়ে, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র, টেলিফোন সাব এক্সচেঞ্জ, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। যোগাযোগ আরও সহজ করতেই শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাইটেক পার্কের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। দুই সেট ডেমোসহ অবকাঠামো কাজে ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মধ্যেই এ ট্রেন চালু করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন কিছু রোলিং স্টোক সংগ্রহ করা হবে। কিছু কোচ, লোকোমোটিভ ও ডেমোও কেনা হবে। হাইটেক পার্কের জন্য মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালয়াকৈরে বি ক্লাস রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘হাইটেক পার্ক বিশাল সম্ভাবনাময় একটি আইটি শিল্প এলাকা। এখানে মোবাইল থেকে শুরু করে ল্যাপটপ তৈরি করা হবে। সেজন্য এখানে অনেক অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ঢাকা থেকে হাইটেক পার্কে সহজে যাতায়াতের লক্ষ্যে দুই সেট ডেমো দিয়ে দেবো। শুধু হাইটেক পার্কই নয়, আশেপাশের মানুষও এর সুবিধা পাবেন’।

এ পার্কে বাংলাদেশেই তৈরি হবে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপসহ নিত্যব্যবহার্য প্রযুক্তি নির্ভর পণ্য। দেশে নির্মিত সফটওয়্যার দিয়েই চলবে আমাদের ব্যাংক, বিমা, কলকারখানা, অফিস-আদালত। তৈরি হবে বিশ্বমানের পণ্য। লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ। কমবে মেধাপাচার।

এ স্বপ্নকে সামনে রেখে ১৯৯৬ সালে স্বল্প পরিসরে আইটি পার্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

কিন্তু সরকারের পালাবদলে থমকে ছিল হাইটেক পার্কের কার্যক্রম। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি নতুনভাবে গ্রহণ করা হয়। হাইটেক পার্কের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এ পর্যন্ত স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণ কাজ ৯০ শতাংশ, সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ ৯৫ শতাংশ, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ৫০ শতাংশ, ৩তলা প্রশাসনিক ভবনের ফিটিং ৯০ শতাংশ, ফিক্সার স্থাপন কাস্টমস হাউজ নির্মাণ কাজ ২৫ শতাংশ এগিয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও বুয়েটে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। তবে পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ কাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

চলতি বছরে কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্কে ৭ একর জমিতে ফোর টায়ার বা চতুর্থ স্তরের জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন করার লক্ষ্যে ১ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। তবে এ কাজের বাস্তব অগ্রগতি তেমন একটা হয়নি। এ ডাটা সেন্টার নির্মাণে ১ হাজার ১৯৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। অবশিষ্ট ৩১৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

জনপ্রশাসনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান বাড়ানোর জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টারের প্রয়োজনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভূমি মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিটালাইজেশনের জন্য ডাটা সেন্টার সেবার চাহিদা পূরণেও কাজ করবে প্রকল্পটি।

দেশে বর্তমানে থ্রি টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টার রয়েছে। ফোর টায়ার বা চতুর্থ স্তরের জাতীয় ডাটা সেন্টার চালু সরকারি সব কাজ পেপারলেস করা হবে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে মানুষের সমাগম অনেক বাড়বে। ঢাকা থেকে যাতায়াতের সুবিধার্থে তাই পার্ক পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রুটে আলাদা ইলেকট্রিক শাটল ডেমো চালু করবে। ডিজেল ইলেকট্রিক শাটল ট্রেন চালু করার ফলে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে হাইটেক পার্কের কাজ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৩০ মে ২০১৬

Related posts