November 20, 2018

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান<<শ্রমিক লীগের অফিসে আঁচড়ও লাগেনি


রফিকুল ইসলাম রফিক                         
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। এতে সহায়তা করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশের অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা প্রায় শতাধিক অস্থায়ী টং দোকান বুল্ড্রেজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। যাদের অধিকাংশই নিম্ম আয়ের হকার। হকাররা বলছেন, ঈদের আগে এ উচ্ছেদ আমাদের ঈদ খুশি থেকে বি ত করলো। ক্ষোভের সাথে তারা জানান, হাতে গোনা কয়েক দিন পরই ঈদ। এটাকে উচ্ছেদ অভিযান বলে না, এটাকে বলে গরিবের পেটে লাথি মারা। তবে উচ্ছেদের সময় সরকার দলীয় শ্রমিক লীগের কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বদরুল আলমের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় শিমরাইল মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ সময় বুল্ড্রেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় মহাসড়কের দু’পাশ দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার, খাবার হোটেল, কনফেকশনারী, ফার্মেসী ও ফলের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়াও চাঁন সুপার মার্কেট, কাসসাফ শপিং কমপেক্স, বদর উদ্দিন সুপারমার্কেট ও হাজী আসহান উল্ল্রাহ মার্কেটের সামনে গড়ে উঠা হকারদের স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়। দুপুর ২টায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন  সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সরাফত উল্যাহ, ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম ও ট্টাফিক ইন্সপেক্টর মোল্লা তসলিম হোসেন প্রমূখ। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বদরুল আলম জানান, সওজের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ১ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

নারায়নগঞ্জের আরও কিছু খবর………।

সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগপযোগী করতে কাজ করছে  

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সেকায়েপের প্রকল্প পরিচালক ডঃ মোঃ মাহমুদ উল হক বলেছেন বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগপযোগী করে তোলার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন গ্রামীন শিক্ষা ব্যবস্থা কে মান সম্মন্ন করতে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় নয়টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। তিনি জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েরা যাতে স্কুল থেকে ঝড়ে না পড়ে এবং গরীব ও মেধাবী ছাত্ররা যাতে পড়ার সুযোগ থেকে বি ত না হয় সে জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।তিনি বলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী পারবে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এ জন্য প্রয়োজন আমাদের যোগ্য শিক্ষক । তিনি শিক্ষকদের বর্তমান সময়ের চাহিদার আলোকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার  চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি আরো বলেন শিক্ষকরা মান সম্মত না হয়ে উঠতে পারলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বি ত হবে। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের উপর তিনি গুরুত্ব দেন।এ সময় জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা বলেন,  আমাদের সীমিত সামর্থের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে পড়াতে হবে। যাতে সকল শিক্ষার্থীরা পড়ার সমান সুযোগ পায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওভোগ ভুইয়ারবাগে বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অতিথিরা এসব কথা বলেন। বিদ্যানিকেতন ট্রাষ্টের সভাপতি এবং দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাছুম,বর্তমান সাধারন সম্পাদক নাফিজ আশরাফ, বিদ্যানিকেতন ট্রাষ্টের সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, হোসিয়ারী সমিতির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান বদু সহ স্কুলের ছাত্র, শিক্ষক ও এলাকাবাসি।পরে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

উপমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ায় মেয়রকে ফুলের শুভেচ্ছা

উপমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের ৯নং ওর্য়াড কাউন্সিলর ইস্রাফিল প্রধান ও জালকুড়ি এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মেয়রের কার্যালয়ে এ ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্য আরো উপস্থিত ছিলেন, রেজাউল করিম কুদরত, মোবারক হোসেন, ব্যাবসায়ী জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, অখিলউদ্দিন, আমজাদ হোসেন, সানোয়ার হোসেন, আরিফ হোসেন, মামুন, মাসুদ, আঃ সামাদ, আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম, কবির হোসেন, জুট ব্যাবসায়ী সানু ও শওকত হোসেন প্রমূখ।

রূপগঞ্জে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে জামদানি তাঁতীরা

র্নিঘুম ব্যস্ততায় দম ফেলার ফুসরত নেই জামদানি কারিগর আব্দুল কারিমের। একটানা হাতের ছোট্ট কাঠিটি নিয়ে সুতায় গিটের পর গিট দিয়ে কাপড়টির পরিধি বৃদ্ধি করতে ব্যস্ত তিনি। এ ব্যস্ততা চলবে আরও কয়েকদিন। আরমানের মতো ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া জামদানি পল্লীতে জামদানির তাঁতীদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষ্যা পাড়ের বাতাসের জাদুর পরশেই তৈরি হয়েছে বিশ্বসেরা এ জামদানি কাপড়। শীতলক্ষ্যার পানি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর অদ্ভুত রসায়নই বিস্ময়কর এ কাপড় তৈরির অনুঘটক।

এখানকার রোদের তেজে সুতায় আসে আলাদা উজ্জ্বল্য, যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। আবহাওয়া এখানে তাঁতীদের মাঝে তৈরি করেছে উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা। শীতলক্ষ্যার পাড়ের ফিনফিনে মসলিন আজ ইতিহাস। মসলিনের সর্বশেষ গ্রন্থনা রূপগঞ্জের জামদানি শাড়িই এখন ঐতিহ্য ও ইতিহাস টিকিয়ে রেখেছে। বিশ্ব দরবারে স্বতন্ত্র মহিমায় সমুজ্জ্বল এ তাঁতবস্ত্র। এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে এ দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি। নারীর সৌন্দর্যসুধাকে বিমোহিত করে তুলতে জামদানির অপরিহার্যতা বিশেষ স্মরণীয়। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি পল্লীতে চলছে কারিগরদের কর্মব্যস্ততা। দিন রাত জামদানি শিল্পীরা কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত। কাপড়ে সূতা তোলা, সূতায় রং করা, শাড়ি বুনন ও নকশার কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে জামদানী কারিগরদের। এবারের ঈদে প্রায় ২০ কোটি টাকার জামদানি দেশের বিভিন্ন বিপণি বিতান ও বিদেশ যাচ্ছে বলে জামদানি তাঁতীরা জানান। ছিটার তেরছি, ফুল তেরছি, ছিটার জাল, সুই জাল, হাঁটু ভাঙ্গা, তেরছি, ডালম তেরছি, পার্টির জাল, পান তেরছি, গোলাপ ফুল, জুঁই ফুল, পোনা ফুল, শাপলা ফুল, গুঁটি ফুল, মদন পাইরসহ শতাধিক নামের জামদানি রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে ছিটার জাল, সুই জাল ও পার্টির জাল জামদানির মূল্যে সবচেয়ে বেশি। এসব জামদানি শাড়ির দাম পড়ে ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর শাড়ি বুনতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে ৬ মাস। জামদানি শিল্পীরা জানান, বাদশাই আমলে রাজা-বাদশাহ, জমিদার পরিবারের নারীরা জামদারি পরতেন। আর বর্তমানে ধনী ও অভিজাত পরিবারের রমণীদের প্রিয় জামদানি। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরের বড় বড় কাপড়েরর দোকানে এসব জামদানির বেশ কদর। বর্তমানে বিদেশেও ব্যাপকহারে জামদানি রপ্তানী হচ্ছে। বেশ সুনামের সাথে বাজার দখল করে আছে জামদানি। জামদানির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় ক্রেতারা। চাহিদার শীর্ষে থাকা এই জামদানি শিল্পীদের রয়েছে দুঃখ, বেদনা আর ব নার ইতিহাস। ইংরেজ আমলে আঙ্গুল কেটে দেয়া থেকে শুরু হাল আমলে লুণ্ঠনের পরও এ জামদানি শিল্প টিকে আছে আজও। প্রতিটি জামদানি শাড়ির সুতার ফাঁকে-ফাঁকে রয়েছে একেক জন জামদানি শ্রমিকের ঘাম, কষ্ট, বেদনার কাহিনী। কথা হয় নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি পল্লীর তাঁতী মহাসিন হ্রদয়,সজিব, সাদিয় আক্তার, কাউসার, মোবাররকসহ আরো অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, বংশের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতেই তারা এ পেশা আকড়ে ধরে আছেন। এ শাড়ি বিক্রির টাকা দিয়েই চলে তাদের সংসার। ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্থান, নেপাল, শ্রীলংকা,ভুটান,মায়ানমার, সৌদি আরব, আরব-আমীরাত,কুয়েত, কাতার, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে জামদানি শাড়ি রপ্তানী হয়। এ রপ্তানীর সাথে জড়িত জামদানি শাড়ির ব্যবসায়ীরা। তাঁতীদের কাছ থেকে তারা শাড়ি কিনে এনে রপ্তানী করে থাকে। প্রতি বছর প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার জামদানি শাড়ি রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইসলামাবাদ, করাচি, লাহোর ও ইউরোপে প্রতিবছর জামদানি মেলা বসে। জামদানি শাড়ি বিক্রিকে ঘিরে শীতলক্ষ্যার পাশে ডেমরায় ও নোয়াপাড়া জামদানি পল্লীতে গড়ে উঠেছে জামদানির হাট। প্রতি শুক্রবার ভোরে এ হাট বসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন হাটে আসেন জামদানি শাড়ি কিনতে। দুই শতাধিক পাইকার বিভিন্ন প্রকার জামদানি ক্রয় করে দেশ-বিদেশে বিক্রি করে আসছেন। দুটি হাটে প্রতি মাসে প্রায় ১০/১৫ কোটি টাকার জামদানি শাড়ি বিকি-কিনি হয়। ঈদকে সামনে রেখে এ মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার জামদানি বিকি-কিনি হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদকে ঘিরে প্রতিটি শাড়িতেই তাঁতীরা রচনা করছেন তাদের স্বপ্ন। এগুলো বিক্রির আয় দিয়েই তারা তাদের সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করবেন। মিটাবেন পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজন। কিছুটা সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আরও সুন্দর হতো তাদের জীবনযাপন। সুন্দর জীবনযাপনের জন্য শিল্পটির উত্তরণ চান জামদানির কারিগররা।

বিএনপি নেতার জামিন লাভ

বন্দর থানা বিএনপি নেতা কালাম পাটোয়ারীর পুত্র আকরাম পাটোয়ারী’কে বন্দর থানা ৫(৬)১৬ নং মামলায় মহামান্য হাই কোর্টের মাননীয় বিচারপতি এ.কে.এম আসাদুসজ্জামান ও বিচারপতি মোঃ ফরিদ আহম্মদ শিবলী সমন্বয়ে ডিভিশন ব্যা  আন্তরবর্তীকালিন জামিন মঞ্জুর করেন। জমি বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংগঠিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যৌতুকের দাবীতে নারী নির্যাতন দেখিয়ে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলাটি শুনানী করেন ব্যারিষ্টার মার-ই-য়াম তৈমূর খন্দকার।

সবাই সাবধানের নৌপথে চলাচল করবেন

জনগণের কাছে সরাসরি সেবা পৌছে দেওয়া ও নদী পথে যে কোন দুর্ঘটনায় রক্ষা পেতে নৌকার মাঝিদের মধ্যে ২৫টি জীবন রক্ষাকারী বয়া বিতরণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা। যা কিনা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আরো ১৫০টি বয়া বিতরণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকার ১৩ জন মাঝি ও ৪টি ট্রলার চালকদের হাতে ওই বয়া তুলে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস দিবস ২০১৬ উপলক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে যাত্রীদের নিরাপত্তা লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই নৌযানে লাইফবয় (বয়া) বিতরণ করা হয়।
এসময় জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, ‘নদী পথে যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে সেই জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বালুবাহী বাল্কহেডগুলো সন্ধ্যার পর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর রাতের আঁধারে এখনও কয়েকটি বাল্কহেড চলাচল করে। আমরা সতর্ক আছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সন্ধ্যার পর বালুবাহী বাল্কহেড যেন না চলাচল করতে পারে। আর আমরা কোন ভাবে সন্ধ্যার পর ওই বাল্কহেড চলতে দিব না। বিআইডব্লিউটিএ এর তথ্য অনুযায়ী এ ঘাটে যে পরিমান নৌকা চলাচল করার কথা তার দ্বিগুন নৌকা এখানে চলাচল করে। তাই এ মূহূর্তে ২৫টি বয়া দেওয়া হয়েছে। যা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ১৫০টি দেওয়া হবে। আশা করি সবাই সাবধানের নৌপথে চলাচল করবে। আর অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন যাতে ওনি মানুষের সেবা আরো কাজ করতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছরোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনগণের কাছে সেবা পৌছে দেওয়ার জন্যই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যাতে বাল্কহেডগুলো বন্ধ থাকে। তবে এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। যদি রাতের বেলা বাল্কহেড গুলো চলাচল করে আমাকে খবর দিবেন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা শীতলক্ষ্যায় আর কোন লাশ দেখতে চাই না। তাই এখন সাবধান করে দিচ্ছি যাতে আমাদের হাতে যেন জেলে যেতে না হয়। শীতলক্ষ্যার পারাপর নিরাপদ দেখতে চাই।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম, বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাসেম জামাল, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলল অসিত বরণ বিশ্বাস, নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আবু তাহের খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুম আলী বেগ প্রমুখ।

৯৬’তে ‘গডফাদার’ বর্তমানে ‘কিং খান’, তবে অবমূল্যায়িত

আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে একজন দক্ষ সংগঠক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান। বিগত ১৯৯৬ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর যাকে সন্ত্রাসীরা বানিয়েছিল তাদের ‘গডফাদার’। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি হয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির ‘কিং খান’।
কিন্তু ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে যৌবনকাল আওয়ামীলীগের জন্য পার করে দিলেও এখনো অবমূল্যায়িত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদরা। তাদের মতে, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামীলীগের জন্য কি করেনি শামীম ওসমান? দল, দেশ ও নিজ জেলাবাস সহ স্বয়ং দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্যও নিজের জীবনকে উৎস্বর্গ করে বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই শামীম ওসমান।

কেননা তিনিই ছিলেন একজন ব্যাক্তি যিনি প্রথম সাংসদ হিসেবে প্রতিকী ম  বানিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ছিলেন। গুটি কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ মুখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার লং মার্চের গাড়ী আটকে দিয়েছিলেন। জামায়াতকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছিলেন।
এই সেই শামীম ওসমান, ২০০২ সাল থেকে ০৬’ সাল পর্যন্ত যার মিছিল ঢাকায় আওয়ামীলীগের কোন সমাবেশে না গেলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাও সমাবেশে যেতেন না। আগে শামীম ওসমানকে ফোন করে জানতেন, তরপরে সমাবেশে যেতেন। তাইতো শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমার শামীম ওসমানের মত যদি দশ জন শামীম ওসমান সারা বাংলাদেশে থাকে তাহলে আমার কোন কিছুর প্রয়োজন হবেনা।
রাজনীতিতে হাতেখড়ি যেভাবে:

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম ভাষা সৈনিক একেএম শামসুজ্জোহার ছোট পুত্র হলেন শামীম ওসমান। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারন ১৯৭৮ সালে সরকারী তোলারাম কলেজে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে শুরু হয় শামীম ওসমানের রাজনৈতিক জীবনে পথচলা। ৯০’ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানের স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে। তৎকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিন চৌধুরীর মদদে নারায়ণগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ক্রসফায়ারে নিহত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মমিন উল্লাহ ডেভিড, সাঈদসহ আরো অনেকে। তখন তাদের অত্যাচারে এমন কোন নেতা ছিলেন না যিনি আওয়ামীলীগের হাল ধরবেন। কিন্তু ছিলেন একজন বীরপুরুষ শামীম ওসমান। যিনি ৯১’ থেকে ৯৬’ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তার কর্মী বাহিনী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে আওয়ামীলীগের পতাকা সমুন্নত রাখতে বিএনপির সেই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। যার প্রতিদান হিসেবে ৯৬’ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন।
সন্ত্রাসী কর্মীদের কারনে ‘গডফাদার’ শামীম ওসমান:
৯১’ থেকে ৯৬’ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার শামীম ওসমানের সহযোগীরা ৯৬’ সালে হয়ে উঠেন বেপরোয়া। প্রতি হিংসার রাজনীতিতে মত্ত সেই সকল সহযোগীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে বিতর্কিত হয়ে পড়েন শামীম ওসমান। সন্তাসীরা অপকর্ম করার কারনে সকল দায়ভার এসে পড়ে শামীম ওসমানের কাঁধে। বিধায় এই সাংসদও তার সহযোগীদের নিজের সন্তানের মত দেখতেন বলে মায়ার জালে আবদ্ধ থাকায় তাদের ‘গডফাদার’ বনে যান। অর্থাৎ ‘ঈশ্বরিক’ পিতা। যার কাছে সন্তানের সকল অপরাধই ক্ষমার যোগ্য। আর এর সুবাদেই ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ফের ক্ষমতায় এসে শামীম ওসমানকে বানিয়ে ফেলেন ‘ঈশ্বরিক’ থেকে ‘অপরাধের’ গডফাদার।

যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকি
এই নারায়ণগঞ্জের মাটিতেই জামায়াতের আমীর গোলাম আযমসহ যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকি মে  ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ছিলেন প্রথম শামীম ওসমান। ৯৬’ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে সর্বপ্রথম তিনি শহরের ডিআইটি এলাকায় জনসমাবেশে ফাঁসির ম  তৈরী করে যুদ্ধাপরাধীদের দঁড়িতে ঝুলান। সেদিন যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সঙ্গ দেয়ার অপরাধে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকেও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিলেন শামীম ওসমান। আজ সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে করছেন আওয়ামীলীগ সরকার।

দেশত্যাগ
যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গোলাম আযমের ফাঁসি দেয়ায় ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শামীম ওসমানের বডি চেয়েছিল জামায়াত। যার ফলে পরিবার নিয়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন শামীম ওসমান। কিন্তু বিদেশে থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের সাহস যোগাতে কাজ করে গেছেন শামীম ওসমান। বিভিন্ন সময়ে দলীয় অনুষ্ঠানে ফতুল্লা থানা আওয়মীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এম সাইফুল্লাহ বাদলের মুঠোফোনে বিদেশ থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতেন শামীম ওসমান। নেতা-কর্মীদের সাহস যোগাতে আর দলকে সুসংগঠিত করতে নানা রকমের পরামর্শ দিতেন।
তারপর ২০০৮ সালে বিএনপি সরকার পতনের পর ক্ষমতায় আসেন সেনা বাহিনী শাসিত তত্তাবধায়ক সরকার। তখন শামীম ওসমান দীর্ঘ প্রবাসে জীবন কাটানোর পর নারায়ণগঞ্জের মাটিতে পদার্পন করলেও সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করতে শহরের উত্তর চাষাড়াস্থ হীরা মহলে অভিযান চালায়। কিন্তু সেদিন উত্তেজিত নারায়ণগঞ্জবাসীর কারনে সেনাবাহিনীর সেই অভিযান বিফল হয়। শামীম ওসমানকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করতে আসার সংবাদে উত্তাল হয়ে উঠে সেদিনের রাতের নারায়ণগঞ্জ। গোটা নারায়ণগঞ্জবাসী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় পরে উপায়ান্তর না পেয়ে পিছু হটে সেনাবাহিনী। বেঁচে যান শামীম ওসমান।
আবারো সাংসদ
বিগত ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেও তখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি হন শামীম ওসমানের চাচী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সাংসদ নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতার তুলনায় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে এই আওয়ামীলীগের জন্য এত সংগ্রাম করলেও মন্ত্রীত্ব পায়নি শামীম ওসমান। তাইতো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি এখন ‘কিং খান’। যিনি যেটা চান সেটাই করে দেখান। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, অসহায় এমন কেউ নেই যিনি তার কাছে যেয়ে উপকার পাননি। কিন্তু তারপরেও কেউ তেউ তার বদনাম রটান!
তবে মহাজোট সরকারের কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবী যদি শামীম ওসমান সত্যিই তার পরিবারের সদস্য হন, দলের জন্য কিছু করে থাকেন তাহলে যেন তার কৃতকর্মের মূল্যায়ন হিসেবে শীঘ্রই শামীম ওসমানকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৩ জুন ২০১৬

Related posts