November 19, 2018

ঢাকার ঋণ পরিশোধে ৬০০ কোটি চান সাঈদ খোকন

ঢাকাঃ  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঋণের পরিমাণ এখন তিনশ’ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি মহানগরীর উন্নয়নকাজ চলমান রাখতে সরকারের কাছে আরো ৬০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ চেয়েছেন করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ দিনের বকেয়া বিল পরিশোধে তাগাদা পীড়াদায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এ সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে মেয়র পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের স্বাক্ষরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি চিঠি দিয়েছেন। নগর ভবনের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আসলে সিটি করপোরেশন বিভক্তির সময় একটা অসম বিভাজন হয়েছে। অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের মোট আয়ের ৬৫ ভাগ আহরণ করে উত্তর সিটি করপোরেশন, আর আমরা করি ৩৫ ভাগ। আর অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের মোট ব্যয়ের ৩৫ ভাগ ব্যয় করে উত্তর সিটি করপোরেশন। আমরা করি ৬৫ ভাগ। কারণ দক্ষিণে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বড় বড় স্থাপনা রয়েছে।’

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাগরিক সেবাও বাড়াতে হচ্ছে। সে তুলনায় আয়ের নতুন কোনো উৎস তৈরি হয়নি। নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখতে জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, মাতৃসদন, মহানগর মহিলা কলেজসহ আনুসঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনায়, মশক নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের নিজস্ব উৎস হতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় করতে হয়। ফলে হিমশিম খেতে হয় নগরপিতাকে।

তা ছাড়া গত এক বছরে নগরীর রাস্তা ঘাট, ফুটপাত, রাস্তার বিদ্যুতায়ন, বাস ট্রাক টার্মিনালসহ সড়ক অবকাঠামো এবং কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান, শ্মশানঘাট সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রমে নিজস্ব উৎস হতে প্রায় সাড়ে ৪ শ’ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব কারণে প্রতিদিন দায়দেনা বাড়ছে। দীর্ঘ সময় যাবৎ পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন হয়নি। এজন্য সিটি করপোরেশনের বিশেষ বরাদ্দ দরকার।

থোক বরাদ্দ চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো ডিও লেটারে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণ ও উত্তরে বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ে বৈষম্য তৈরী হয়েছে। বঙ্গভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহরের প্রায় সকল ভিআইপি স্থাপনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় হওয়ায় ব্যয় রয়ে গেছে আগের হিসাবে। রাজস্ব আয়ের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট খরচ প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বিভক্তির পর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্থিক অবস্থা ক্রমাবনতি হচ্ছে।

চিঠিতে মেয়র উল্লেখ করে, বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেনার পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। বিগত তিনজন প্রশাসকের সময়ে রাজস্ব আদায় বিবেচনায় না এনে বাস্তবতাবর্জিত প্রকল্প গ্রহণ করায় দেনার পরিমাণ অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া ডেট সার্ভিস লাইয়াবিলেটিজ, ইউটিলিটি বিল এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে এ দেনা আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিভক্তির ক্ষেত্রে সেখানে একটা অসম বিভাজন হয়েছে। যে কারণে আমাদের রেভিনিউ খারাপ সিচুয়েশনে থাকে। সব মিলিয়ে আমাদের ডেভেলপমেন্টের সুযোগ খুব কম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদন করে দিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। সেগুলো দিয়ে আমরা ডেভেলপমেন্ট করছি। আমরা বিভিন্ন সময়ে থোক বরাদ্দ চাইলেও ওভাবে পাচ্ছি না, কিন্তু প্রকল্প পাচ্ছি।’

গত বছরের ৬ মে ডিএসসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার পর করপোরেশনের আর্থিক দৈন্য দেখে সরকারের কাছে ৫০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ চেয়েছেন তিনি। তবে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পেলেও একসঙ্গে বড় ধরনের কোনো ফান্ড তিনি পাননি।

এ ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন খাতে করপোরেশনের ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৮ মে ২০১৬

Related posts