November 20, 2018

ড. বারকাতের বক্তব্য অসত্য ও রহস্যজনক :- পরিকল্পনামন্ত্রী

আ হ ম মুস্তফা কামাল

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইসলামী ব্যাংক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অর্থায়ন নিয়ে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের দেয়া বক্তব্য সত্য নয় বলে দাবি করেছেন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ হওয়ার চার বছর পর ড. বারকাতের এমন মন্তব্য রহস্যজনক। আগে কেন তিনি এসব বলেননি?
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত অবৈধ লেনদেনে বা অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকার থেকে হিসাব সাসপেন্ড করা, লাইসেন্স বাতিল করা বা কোনো ধরণের শোকজও করা হয়নি। ব্যাংকটি জঙ্গী অর্থায়ন করে আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। কেউ কেউ ধারণার বশবর্তী হয়ে এসব বলে থাকেন। মৌলবাদ অর্থনীতির সাথে ইসলামী ব্যাংক জড়িত থাকলে আমি টাকা নিতে যেতাম না। সরকার ও আমার সন্দেহ থাকলে তারা ব্যাংক চালাতে পারতো না।
ইসলামী ব্যাংক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অর্থায়ন নিয়ে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়স্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, আমরা চৌদ্দ গোষ্ঠীর কারো কোনো হিসাব ইসলামী ব্যাংকে নেই্, নেই কোনো শেয়ার।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ড. বারকাত একজন প্রাজ্ঞজন। আমি তার ভক্ত। তার কাছে থেকে এমন বক্তব্য আমি আশা করিনি। এটা আমার ইমেজকে ক্ষুন্ন করেছে। আমি ব্যথিত হয়েছি। মন্ত্রী ছাড়াও আমার নিজস্ব ইমেজ আছে। ক্রিকেট বোর্ডের আমি চেয়ারম্যান ছিলাম। সফলতার সাথে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক। ২০১১ সালে যখন আমি বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনে অর্থায়নের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে যাই কেউ আশানুরূপ সাড়া দেয়নি। প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে মাত্র ৪০ লাখ টাকা পেয়েছি। ৩০ কোটি টাকা বাজেটের ১০ কোটি টাকা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। যার মধ্যে দেড় কোটি টাকা দিয়েছি সরকারী ভ্যাট ও ট্যাক্স হিসেবে। বাকী টাকা আয়োজনে গেছে। আমি তো সে সময় অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। বৈঠকে ড. বারকাত এসেছেন অনেকবার। কই তিনি তখন তো এমন অভিযোগ করেননি। এখন কেন করছেন। আমি তাদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে এসে ভালো কাজ করেছি।
মুস্তফা কামাল বলেন, শুধু বিশ্বকাপ ক্রিকেট নয় দেশীয় ক্রিকেটেও তাদের অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের যে চারটি দল রয়েছে তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের একটি দল আছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংকের আছে একটি। কই অন্যকোনো ব্যাংক তো আসেনি।
তিনি বলেন, ড. বারকাতের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তিনি সরকারকে বা আমাকে দেন নাই কেনো। বিশ্বকাপ করে আমি দেশ ও দেশের মানুষকে ছোট করিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকারকে তিনি নাকি চিঠি দিয়েছিলেন। আমার জন্য নাকি বন্ধ করতে পারেননি। সরকার বন্ধ করতে চাইলে আমি কে? আমি তো তখন মন্ত্রী ছিলাম না।
মুস্তফা কামাল বলেন, মৌলবাদ অর্থনীতির সাথে জড়িত থাকলে আমি যেতাম না। প্রত্যেক ব্যাংকের বোর্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষক থাকে। ইসলামী ব্যাংকেও আছে। কই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো আজ পর্যন্ত তাদের শোকজ করেনি। তারা তো দেখছে ব্যাংকের কার্যক্রম। সরকারের তহবিলে ট্যাক্স, ভ্যাট ছাড়াও অনুদান দিচ্ছে তারা। ধারণার বশবতি হয়ে আমরা কোনো কাজ করতে পারি না। ড. বারকাত যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কোনো একটা উদ্দেশ্য আছে।

Related posts