September 23, 2018

ডিগনিটি স্কুলের অভিনব প্রতারণা

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা এই তিনটির সাথে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আজকের ছাত্র আগামী দিনে জাতির কর্ণধার। শিক্ষার মধ্যদিয়ে সমাজ ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মূলবোধের বিকাশ ঘটে থাকে। শিক্ষা ভালো-মন্দ বিচার করতে শেখায়। এই ভালো-মন্দের বিচার মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ চর্চার অনন্য কারখানা। শিক্ষক মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। আর সেই শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই যদি অবলম্বন করে অন্যায়ের পথ। নেয় মিথ্যার আশ্রয়। তাহলে এ জাতির নতুন প্রজন্মের কী হবে? প্রশ্ন জাগে সকলের মনে। কিন্তু কি করবো? কী বা করা আছে?

এমন এহন কার্মকান্ড ঘটালেন ডিগনিটি স্কুল ও তার শিক্ষকরা। নিজেদের স্কুলের প্রচারণায় ব্যবহার করলেন নারায়ণগঞ্জের শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ফিলোসফিয়া ও চেইঞ্জেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের ছবি ও ফলাফল।

জানা যায়, কোচিং বাণিজ্যে ব্যাপক সফল হয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিংকন, শিক্ষক ডেজা শাহ নেওয়াজ সৈয়দসহ আরো কয়েক জন। অর্থ লোভীরা কোচিং সেন্টারটিকে স্কুলে পরিণত করে। প্রচারণায় কুল কিনারা না পেয়ে বেছে নেয় অন্যয়ের পথ। এছাড়াও স্কুলে কঠোর নিয়ম ও অনুশাসন মেনে চলতে হয় বুঝতে পেরে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোচিং সেন্টারে ছেলে-মেয়েদের অবাদ মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে এ অর্থ লোভীরা। কোচিংয়ে আকৃষ্ট করতে এমন কোন পথ নেই তারা অবলম্বন করে না। আর এরাই যদি হন স্কুলের শিক্ষক তাহলে কী শিখবে নতুন প্রজন্ম। যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

ডিগনিটি স্কুলের প্রচারপত্রটিতে প্রথম যে শিক্ষার্থীর ছবি সম্বলিত তথ্য দেয়া হয়েছে। সে ওয়ার্ল্ড হাইয়েস্ট মার্ক প্রাপ্ত চেইঞ্জেজ স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী লতিফা ইয়াসমিন সুর্বনা। তিনি স্কলারশীপ নিয়ে বর্তমানে কানাডায় অধ্যায়নরত আছেন। প্রচারপত্রটিতে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ফিলোসফিয়া ও চেইঞ্জেজের যে সকল শিক্ষার্থীদের ছবি ও ফলাফল ব্যবহার করা হয়েছে তাদের সাথে কথা হলে স্কুলটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না বলে অনেকে বলেন।
এব্যাপারে চেইঞ্জেজ স্কুলের জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, আমি চেইঞ্জেজ স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করেছি। এবং এখন ‘এ’ লেভেলও এখানে করছি।

চেইঞ্জেজ স্কুলের অপর একজন কৃতি শিক্ষার্থী তাহা হাসানের বাবা ব্যবসায়ী কামরুল হাসান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, চেইঞ্জেজ স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করে। ‘এ’ লেভেলও এখানে করছে।

ফিলোসফিয়া স্কুলের সাজিদ সাজ্জাদ হোসাইন জানান, আমি কখনো ঔ স্কুলে যাই নি। আমি ফিলোসফিয়া স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করে ‘এ’ লেভেলে পড়ছি।

ফিলোসফিয়া স্কুলের সাবরিনা আফরিন ও একই জবাব দিলেন।

ফিলোসফিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাগর আহেম্মদ জানান, সুস্থ্য বিবেক সম্পন্ন মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সুস্থ্য প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এহেন কর্ম সার্বিক দিক দিয়ে নৈতিকতা বিরোধী এবং আইনী ভাবেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরো বলেন, এমন কর্মকান্ড চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুরোর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। আমাদের ২০১৫ মে সেশেনের ৫জন কৃতি শিক্ষার্থীর ফলাফলসহ ছবি ব্যবহার করে ঔ স্কুলের লিফলেট তৈরি করেছে। এতে করে অভিভাবকদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়াও আমাদের স্কুলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষার সুস্থ্য পরিবেশ ও সুশিক্ষিত নারায়ণগঞ্জ গড়তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সুশীল সমাজের প্রতি যথাযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

চেইঞ্জেজ স্কুলের অধ্যক্ষ উইং কমান্ডার অবসর প্রাপ্ত মাহমুদুল ইসলাম, ঔ প্রচারপত্রে ওয়ার্ল্ড হাইয়েস্ট মার্ক প্রাপ্ত চেইঞ্জেজ স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সফলতা ব্যবহার, তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি পরিস্কার হয়ে ওঠেছে। স্কুলের উদ্দেশ্য মানুষের চিন্তা-চেতনা, নীতি-নৈতিকতায় ও মূল্যবোধে উৎকৃষ্ট মানুষ করে তোলা। কোচিং সেন্টার গুলোতে স্কুলের মতো করে কঠোর নিয়ম ও অনুশাসনে রাখা হয় না। কোচিং ব্যাণিজ্যকে আরো রমরমা করতে আমাদের কৃতি স্টুডেন্টদের ছবিসহ ফলাফল ব্যবহার করে তারা এ কাজটি করেছে। এটা অত্যন্ত অন্যায় এবং গর্হিত অপরাধ।

এব্যাপারে জানতে চাইলে ডিগনিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিংকন জানান, প্রচারপত্রটি বিষয়টি এমন নয় তেমন। বিভিন্ন ভাবে বিষটি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে মুঠোফোনটি রেখে দেন তিনি।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যত মেধাবী প্রজন্ম এই পেশাটিকে বেছে নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। যা আমাদের দেশের জন্য হবে আত্মঘাতি। কারণ শিক্ষকেরাই জাতি গড়ার কারিগর। সুশিক্ষিত এবং স্বশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া একটি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব নয়। মেধাবীরা এ পেশায় না আসলে এই সেক্টরে নি:সন্দেহে একটি শূন্যতা তৈরি হবে। এমনটাই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts