December 19, 2018

ডায়াবেটিক রোগীরা রোজায় কী খাবেন, কী খাবেন না

4edd6_10_long

ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসে পানাহারে সংযম পালন ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। মুসলমানদের জন্য এটি ফরজ বা অবশ্যপালনীয়। তবে কেবল খাবারে সংযম আরোপ করে সিয়াম সাধনা হয় না। এর সঙ্গে প্রয়োজন অন্যান্য নিয়ন্ত্রণও। আবার সারা মাস সুস্থ শরীর নিয়ে রোজা পালনও অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়।

বিশেষ করে রমজানে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকায় ডায়াবেটিক রোগীরা সংকটে পড়েন। তাই ডায়াবেটিক আক্রান্তদের এক দিকে যেমন রোজা রাখতে হবে অপর দিকে সারা মাস রোজা রাখার জন্য যেন শরীর ফিট থাকে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রেখে সারা মাস কী উপায়ে সুস্থ দেহে রোজা পালন করা যায় তারই কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ শাহজাদা সেলিম।

রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের পরামর্শ দিয়ে গিয়ে ডা. শাহজাদা সেলিম বলেছেন, ডায়াবেটিক রোগীর পক্ষে রোজা রাখা ক্ষতিকর হবে। কেননা ডায়াবেটিস রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। তবে তারপরও যদি কোনো ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখতে চান তাহলে তাকে রোজা রাখার সময় খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

ডা. শাহজাদা সেলিম রমজানে ডায়বেটিক রোগীদের জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে। তার পরামর্শে তিনি বলেছেন-

– সেহরীর শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে সেহরী খেতে হবে।

-ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

– ডায়াবেটিক রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেন তারা পানিশূন্যতায় না ভোগেন। খেজুর খেলে একটা খেজুর খেতে পারেন। ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও টক দই খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। ডাবের পানি পান করতে পারেন। পিঁয়াজু, বেগুনি, পুরি, পরোটা কাবাবের মতো খাবার অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

-খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রেখে খাওয়ার পরিমাণ এবং ধরন ঠিক করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাওয়া প্রয়োজন।

-রমজানের পূর্বে যে পরিমাণ ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতেন রমজানে ক্যালরির পরিমাণ ঠিক রেখে খাবার সময় এবং ধরন বদলাতে হবে।

-রোজা রাখা অবস্থা সুগার বেশি কমলে বা বেড়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এছাড়া রমাজানে ডায়াবেটিক রোগীরা কখন কী খাবেন বা কী খাবেন না তারও একটি পরামর্শ তালিকা দিয়েছেন ডা. শাহজাদা সেলিম। পাঠকের জন্য তা নিচে তুলে ধরা হলো-

ইফতার

ছোলা বা বুট ভূনা- ১/২ কাপ (২৫ গ্রাম কাঁচা বুট)

পিঁয়াজু- ১টা বড় মাপের (২০ গ্রাম ডাল)

বেগুনী- ১টা মাঝারি (১০ গ্রাম বেশন)

মুড়ি – ২ কাপ (২৫ গ্রাম)

কাঁচা আম, আমড়া, সবুজ আপেল, মাল্টা, কমলা ইত্যাদির যে কোনো একটির রস খেতে পারেন। এছাড়া শশা, ক্ষীরা, আমড়া, পেয়ারা, ডাবের পানি, লেবুর পানি, ও অন্যান্য টক ফল ইচ্ছেমত খেতে পারবেন।

সন্ধ্যা রাতের খাবার

আটার রুটি- ৯০ গ্রাম (৩টা ছোট পাতলা) বা অল্প ভাত।

মাছ বা মাংস- ১ টুকরা

ডাল- ২ কাপ

দুধ ১ কাপ

সবজি ইচ্ছেমতো তবে আলু বাদে

সেহরী

ভাত- ৩০০ গ্রাম

মাছ বা মাংস ১ টুকরা

ডাল- ২ কাপ

দুধ ১ কাপ

সবজি ইচ্ছেমতো তবে আলু বাদে

অবশ্যই মনে রাখুন

– ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন। তবে সব সময় ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

– রোজার সময় নিজে ডায়াবেটিসের ওষুধ সমন্বয় করবেন না, এতে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।

-রোজার সময় দিনের বেলা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা উচিত নয়। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

– রোজার সময় রাতের বেলা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, কম মিষ্টি রসালো ফল এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

– যাদের দুধ খেলে হজমের সমস্যা হয়, তাদের দুধ না খাওয়ায় ভালো।

Related posts