September 25, 2018

ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ হাসিনার সফল জনসভা এবং একজন লিটা এমপি

29751132_1970116536650625_1111492619_n

এম এ খায়ের,ঠাকুরগাঁও: ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালিন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি এবং লিটা আপা সহ প্রধান মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ঠাকুরগাঁয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রধান মন্ত্রী অনেক ব্যস্ততার কথা বলে বলেছিলেন,”আচ্ছা দেখা যাক।” পরক্ষণেই লিটা আপা ছোট বোনের মতই আবদার করে বলেছিলেন,” আপা প্লিজ আসেন না আমাদের ঠাকুরগাঁয়ে, মার্চেই আসেন আপা।” এ আবেদনের প্রেক্ষিতে জননেত্রী বলেছিলেন, ” আচ্ছা আচ্ছা যাবো।” যে কথা সেই কাজ। সত্যিই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হলো তিনি ঠাকুরগাঁয়ে আসছেন ২৯ মার্চ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম পেয়ে জেলার অন্যান্য নেত্রীবৃন্দের সাথে নিজের সমস্ত শক্তি সামর্থ্য আর আন্তরিকতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সফল করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এমপি লিটা আপা। ঠাকুরগাঁও জেলাসহ রানীশংকৈল পীরগঞ্জের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগ,মহিলালীগ,যুব মহিলালীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগের প্রত্যেকটি প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদেরকে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বিগত প্রায় ১৫দিন ধরে ঠাকুরগাঁয়ে সকাল থেকে রাত ১১/ ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে আয়োজনের প্রত্যকটি বিষয়ে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ,পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে সুন্দর করার চেষ্টা করেছেন নিরন্তর।
পাঁচটি উপজেলাতেই অত্যন্ত তৎপর থেকে মহিলাদের সংগঠিত করেছেন। আড়াই হাজার মহিলাকে নিজের অর্থায়নে লাল সবুজ শাড়ি দিয়েছেন এবং তা পড়িয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে জনসভায় নিয়ে গেছেন যা দেখে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।আ’লীগ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর বক্তব্যের শুরতেই এ প্রসঙ্গে বলেছেন,” চারদিকে শুধু মহিলা মহিলা আর মহিলা। সন্তানের পরিচয়ে বাবার নামের পাশে মায়ের নাম বসিয়ে প্রধানমস্ত্রী নারীদেরকে সম্মানিত করেছেন তাই মহিলারা খুব খুশি। এই মহিলা এবং তরুণরাই হবে আগামীতে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার প্রধান হাতিয়ার।”
রানীশংকৈল পীরগঞ্জের উপজেলা ও ইউনিয়র পর্যায়ের আওয়ামীলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ অত্যন্ত উদ্দিপনার সাথে জনসভাকে সফল করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। লিটা আপা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ৮৩টি ঢাকা কোচ,মিনিবাস, ট্রাক, ট্রলি,বেশ কিছু পাগলু ও অটো রিক্সা দিয়েছেন। আলী আকবর মেমোরিয়াল অটিস্টিক প্রতিবন্ধী স্কুল,আলী আকবর এমপি ক্রীড়া একাডেমির খেলোয়াড়দেরকে ইউনিফরম পড়িয়ে ব্যান্ডদলসহ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জনসভায় যোগ দিয়েছেন। জনসভা সফল করার জন্য তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার সাথে সবসময় গতিশীল, আশাবাদী এবং সক্রিয় থেকেছেন এমপি লিটা আপা।
২৯ মার্চ সকাল ১০. ৪৫ মিনিটে বিজিবি ক্যাম্পে গণমানুষের সর্বোত্তম আস্থার ঠিকানা শ্রেষ্ঠ সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবতরণ করলেন ঠাকুরগাঁয়ের মাটিতে। তার আগেই জেলা সভাপতি আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম এমপি,রমেশ চন্দ্র সেন এমপি,জেলা সম্পাদক সাদেক কুরাইশীসহ এমপি লিটা সেখানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়ার জন্য।প্রধানমন্ত্রীর হাতে নৌকার প্রতীকে ফুলের তোড়া তুলে দেয়া হলো। প্রধানমন্ত্রী তোড়া নেয়ার পর বললেন,” এটা কাকে দিই?”বলেই তিনি তাঁর স্নেহভাজন লিটাকে বললেন,”এটা তুমিই নাও লিটা।” সত্যিই লিটা জন্য এ এক মহা উপহার। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এলেন সার্কিট হাউজে। সেখানে প্রায় দুই ঘন্টা লিটা প্রধানমন্ত্রীর দেখভাল করছেন এবং ঠাকুরগাঁয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন।
বিকেল ৩টায় জনসভায় এলেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় মানুষের ঢল দেখে অত্যন্ত আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে মঞ্চে উঠে সবদিকে হেঁটে হেঁটে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ালেন এবং বক্তব্য শেষে আবারো হাত নাড়িয়ে বিদায় নিলেন।
লিটা এমপি কিন্তু সার্বক্ষণিক আছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। প্রধানমন্ত্রী আসরের নামাজ পড়ে বিকেল ৪. ৩০ মিনিটে বিদায় নেয়ার সময় লিটা এমপি জানতে চাইলেন ” আপা কেমন হয়েছে জনসভা?” প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়ে বললেন,” খুব ভালো” এবং মজা করে বললেন,” দুপুরের খাওয়াটা আরও ভালো লেগেছে।” সমস্ত আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
অনেক দাবী পুরণের সাথে সাথে রানীশংকৈল পীরগঞ্জবাসির দীর্ঘদিনের নৌকার প্রত্যাশা পুরণের ইঙ্গিতও দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। আশারাখি এমপি লিটা ভবিষ্যতে এ এলাকার মানুষের জন্য আরও সুসংবাদ নিয়ে আসবেন।

Related posts