November 21, 2018

ট্রাম্প নীতিতে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে চিড় ধরতে পারে

‘আমেরিকাকেই অগ্রাধিকার’—হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নীতি আঘাত হানতে পারে ভারত-আমেরিকার দীর্ঘ সুসর্ম্পকের উপর। এমনই আশঙ্কা করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক অ্যাশলে টেলিস। এই অ্যাশলেকেই সম্ভাব্য পরবর্তী ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে দেখা যেতে পারে। এই মার্কিন কূটনীতিক উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে চীনকে চাপে রাখতে আমেরিকার প্রয়োজন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা।
অথচ, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকায় বিদেশি কর্মীদের ‘এইচওয়ান–বি’ ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় হবে না তার সরকার। কোনও অবস্থাতেই মার্কিন নাগরিকদের কাজ কেড়ে নিয়ে বিদেশিদের দেওয়া চলবে না। অন্য দেশের সস্তার শ্রম ব্যবহারের জন্য আমেরিকায় চাকরির সুযোগ কমানো চলবে না। উদ্দেশ্য, মার্কিন সংস্থায় মার্কিন নাগরিকদেরই চাকরি চাই। বিদেশ থেকে পেশাদার এনে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়া চলবে না। ট্রাম্প স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যে সব সংস্থা বিদেশে গিয়ে ব্যাবসা জমাতে চায়, তাদের ভাগ্যে কড়া শাস্তি নাচছে। তাহলে আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় কর্মীরা কোথায় যাবেন? নির্বাচনী প্রচারেও ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছিলেন, আমেরিকার যে সব ফার্ম মেক্সিকো বা এশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে সস্তার শ্রম ব্যবহার করে, কম খরচে তৈরি জিনিস আমেরিকায় রপ্তানি করবে, তাদের রপ্তানি করা দ্রব্যের উপর উচ্চহারে কর বসানো হবে। কারণ ট্রাম্প মনে করেন, এই সংস্থাগুলির জন্যই আমেরিকায় বেকারত্ব বাড়ছে।

অ্যাশলে টেলিসের মতো বহু মার্কিন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশ থেকে পেশাদার আমদানি করে যে বেতনে যতখানি কাজ পাওয়া সম্ভব, সমমানের সমপরিমাণ কাজ করাতে মার্কিন নাগরিক নিয়োগ করতে হলে বহু বেশি ডলার ব্যয় করতে হত। ঠিক একই কারণে বহু সংস্থা তাদের কাজের একটি বড় অংশ ‘আউটসোর্স’ করে। এই নিয়োগের পথ বন্ধ করে দিলে স্বল্পমেয়াদে মার্কিন সংস্থাগুলির ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, এবং দীর্ঘমেয়াদে সংস্থাগুলির বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। তাতে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি বই লাভ হবে না। অথচ, কাঁচা মাল যেমন আমদানি করা যায়, শ্রমিকও তেমনই। পাসপোর্টের রং দেখে নয়, বাণিজ্যের প্রয়োজন বুঝে কর্মী নিয়োগই উদার অর্থনীতির ধর্ম। ট্রাম্প সেটা মানতে নারাজ। ট্রাম্প আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে শপথ নিয়েছেন তাতে চিড় ধরতে পারে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কে, এমনই আশঙ্কা মার্কিন কূটনীতিকদেরও।

Related posts