September 22, 2018

ট্রাম্পের পক্ষে মিলিশিয়া বাহিনী: ক্লিনটনের নথি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে তৈরি হচ্ছে মিলিশিয়া বাহিনী। ভোরে সূর্যোদয়ের আগে এই বাহিনীকে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ট্রাম্প হেরে গেলে এই বাহিনী প্রতিবাদে মাঠে নামতে পারে। এতে দেশজুড়ে নাগরিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে। এদিকে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল নিয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেয়ার পর এফবিআই এবার আকস্মিকভাবে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষমা করা একটি মামলার নথি প্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার এ কর্মকাণ্ড নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই নথি প্রকাশ হল।

রয়টার্স জানায়, মার্কিন অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ার উপকণ্ঠে ‘থ্রি পার্সেন্ট সিকিউরিটি ফোর্স’ নামের একটি মিলিশিয়া বাহিনীর গেরিলা প্রশিক্ষণের খোঁজ পাওয়া গেছে। সেখানে রাইফেল পরিচালনার অনুশীলন ও হাতে হাতে সম্মুখ যুদ্ধের কৌশল শেখানো হচ্ছে। ‘ব্লাড এজেন্ট’ কোড নাম ব্যবহার করে সেখানে পৌঁছান ক্রিস হিল নামে তাদের একজন প্যারালিগাল। ক্রিস হিল জিজ্ঞেস করেন, ‘ট্রাম্পের পক্ষে কতজন ভোট দিতে পারে?’ তখন বাহিনীর সবাই সমস্বরে বলেন, ‘ওয়াহ রাহ’ (সামরিক প্রশিক্ষণের বিস্ময় শব্দ)!

জানা গেছে, মাফিয়া জগৎ ও বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছে। ক্রিস হিলের মতো তাদের সদস্যরা ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসী তাড়ানো, মুসলিমদের নিষিদ্ধ করার ঘোষণা পছন্দ করে। ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন আসন্ন নির্বাচনে কারচুপি হতে যাচ্ছে। এমনকি তিনি হেরে গেলে ফল মেনে নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। মিলিশিয়া বাহিনী বলছে, নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে গেলে তারা রাস্তায় বের হয়ে গোলাগুলি করবেন না, তবে অস্ত্র বাড়িতেও ফেলে রাখবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন ইস্যুতে মাফিয়া বাহিনী ও মিলিশিয়াদের সহিংসতার প্রমাণ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে ফেডারেল অফিস ভবনে এক সংঘাতে ১৬৮ জন নিহত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চরমপন্থী গ্রুপগুলো নিয়ে গবেষণা করে দ্য সাউদার্ন পোভার্টি ল’ সেন্টার। তাদের হিসাব অনুযায়ী গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৬টি সক্রিয় মিলিশিয়া বাহিনী ছিল। ২০০৮ সালে ছিল মাত্র ৪২টি। সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে কয়েকটি রাজ্যে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংস সংঘাতে নেমেছে কয়েকটি মিলিশিয়া বাহিনী।
এদিকে ডেমোক্রেটিক দলের এক দাতার স্বামীকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষমা করা সংক্রান্ত একটি নথি প্রকাশ করেছে এফবিআই। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ নথি প্রকাশ সবাইকে বিস্মিত করেছে। ব্যবসায়ী মার্ক রিচকে ক্ষমা করা সংক্রান্ত ১২৯ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ ডেমোক্রেটদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এতে হিলারি ই-মেইল তদন্তের ঘোষণায় আগে থেকে ক্ষুব্ধ ডেমোক্রেটদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। ২০০৫ সালে কোনো চার্জ ছাড়াই রিচকে ক্ষমা করার ঘটনা নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত শেষ হয়।

এএফপি জানায়, রিচের নথি সোমবার অনলাইনে প্রকাশিত হলেও মঙ্গলবার এফবিআই এটি তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে। এফবিআই জানায়, তথ্য স্বাধীনতা আইনের (এফওআইএ) আওতায় তিন বা তার বেশি বেশি অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

হিলারির মুখপাত্র ব্রিয়ান ফালন বলেন, ‘এফওআইএতে মামলার তারিখ এখানে অনুপস্থিত যা উদ্ভট।’ তিনি বলেন, এফবিআই কি এখন ৭০-এর দশকে ট্রাম্পের গৃহায়ন নিয়ে বৈষম্যের নথি প্রকাশ করবে?

যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির জন্য রিচ অভিযুক্ত হন। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম ছিল। এ সময় তিনি পালিয়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের সময় তিনি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন এবং ২০১৩ সালে তিনি সেখানেই মারা যান।

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার শেষ দিনে বিল ক্লিনটন ব্যবসায়ী রিচকে ক্ষমা করে দেন। এফবিআই ওই বছর তাকে ক্ষমা করার বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। রিচের সাবেক স্ত্রী ডেনিস আইজেনবার্গ রিচ ডেমোক্রেটিক দলের একজন বড় দাতা ছিলেন।
অন্যদিকে, হিলারি ক্লিনটনের পরিবারকে ‘অপরাধী চক্র’ বলে দাবি করেছেন এফবিআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক জেমস ক্যালস্ট্রম। তিনি ক্লিনটন দম্পতিকে ‘গ্যামবিনো অপরাধী চক্রের’ মতো বলেও মন্তব্য করেছেন। সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালস্ট্রম দাবি করেন, ‘মূলত ক্লিনটন পরিবার একটি অপরাধ চক্র। তাদের কাজ সংঘবদ্ধ অপরাধীদের মতোই। আর ক্লিনটন ফাউন্ডেশন হল ওই অপরাধের আখড়া।’

একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য হিলারি-ট্রাম্পের

ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। ফ্লোরিডায় হিলারি নারীদের প্রতি ট্রাম্পের অশোভন আচরণ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প নারীদের সঙ্গে ষাঁড়ের মতো আচরণ করেছেন। ট্রাম্পের নারীদের অবনমন, খাটো করে উপস্থাপন, অপমান ও আঘাত করার ৩০ বছরের ইতিহাস রয়েছে। এ সময় মঞ্চে হিলারির সঙ্গে সাবেক মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদো ছিলেন। মাচাদো এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। মাচাদো তার বক্তৃতার সময় ট্রাম্পকে নিষ্ঠুর ব্যক্তি উল্লেখ করে বলেন, তার কথা শুনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

অন্যদিকে উইসকনসিনে ট্রাম্প হিলারির ই-মেইল নিয়ে এফবিআইয়ের নতুন তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহারের ব্যাপক সমালোচনা করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। হিলারিকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা চিরদিনের জন্য ধ্বংস করে দেবেন।

Related posts