September 23, 2018

ট্রাম্পের নতুন নীতির নিন্দা জানালো কিউবা

12মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নতুন কিউবা নীতি ঘোষণা করেন। এর পরপরই নতুন মার্কিন নীতির নিন্দা জানিয়েছে কিউবা। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

শুক্রবার মার্কিন পর্যটকদের জন্য কিউবায় যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি নির্দেশনা জারি করেন ট্রাম্প। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও মার্কিন ব্যক্তি বা কোম্পানি কিউবার আর্মড ফোর্সেস বিজনেস এন্টারপ্রাইজেস গ্রুপের সঙ্গে কোনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। কিউবার রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটি দেশটির অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল রয়েছে।

কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, ‘নতুন মার্কিন নীতি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার। তবে তারা সম্মানজনক আলোচনা ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।’

পরে শুক্রবার রাতে কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, ‘চাপ বা নিষেধাজ্ঞা বা ধূর্ত কৌশল দিয়ে কিউবার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।’

এর আগে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে ২০১৬ সালের মার্চে ওবামা প্রশাসনের করা চুক্তিকে ‘নৃশংস কাস্ত্রো সরকারের সঙ্গে এক ভয়ঙ্কর ও দিকভ্রান্ত চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘রাজনৈতিক বন্দিদের যতদিন মুক্তি দেওয়া না হবে, যতদিন সংসদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত না হবে, সকল রাজনৈতিক দলকে যতদিন বৈধতা না দেয়া হবে, আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরকে যতদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেওয়া হবে, ততদিন কিউবার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে না।’

১৯৫৯ সালে সামরিক শাসক জেনারেল বাতিস্তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন ফিদেল কাস্ত্রো। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে কিউবার। এরপর প্রায় পাঁচ দশক ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এ কারণে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্কও নষ্ট হয়। পরে কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মনোযোগী হয় ওবামা প্রশাসন। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে সম্পর্কোন্নয়নের এই প্রচেষ্টা জোরদার করেন ওবামা। পরে গত বছর মার্চে দেশ দুটির মধ্যে চুক্তি হয়। একই বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হয়। প্রায় ৬০ বছর পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে যান।

Related posts