November 19, 2018

ট্রাম্পের ধর্ম-বর্ণ বিদ্বেষের তীব্র নিন্দা জানালো মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাট

এমএ কালাম শরীফঃ গত ২৭ আগস্ট, শনিবার মেরিল্যান্ডের জার্মানটাউনের গোল্ডেনরড লেনের হলিডে ইন এক্সপ্রেস হোটেলে ধর্ম বর্ণ বিদ্বেষী রিপাবলিকানদের আসন্ন নির্বাচনে যথোপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রত্যয়ে এবং ডেমোক্র্যাটদের আবারও দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে কনভেনশন র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

মেরিল্যান্ড কংগ্রেসের সিনেটর পদপ্রার্থী ক্রিস ভ্যান হল্যান বলেন, তিনি পাকিস্তানের করাচিতে জন্মগ্রহন করেন, তাছাড়া তিনি ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় বেড়ে উঠেন। যদিও তাঁর বাংলাদেশে পদচারনার সুযোগ হয়নি, তবুও তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আচার-ব্যবহার-সংস্কৃতি দেখে অত্যন্ত বিমোহিত। মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশী প্রফেশনালদের কনভেনশনে যোগ দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও পরিকল্পনাই নেই, আর তার কোনও কথা সত্যও নয়। বারাক ওবামার কথার সাথে এভাবেই সুর মেলালেন হল্যান। ২০১৬’র নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনান্ড ট্রাম্পকে অবশ্য একজন ব্যবসায়ী বলতে তার কোনও আপত্তি নেই। ওবামা বলেন, এটা সত্য যে তিনি ব্যবসায়ী। কিন্তু আমাকে বলতেই হচ্ছে, আমি আরও অনেক ব্যবসায়ীকে চিনি যারা মামলার পিছনে দৌড়ে দৌড়ে আর শ্রমিকের মজুরি না দিয়ে, আর মানুষকে প্রতারণা না করেই বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন।

তিনি আর বলেন, ‘শুরু থেকেই বিদ্বেষ এবং ভ্রান্ত বিষয়ের ওপর গড়ে ওঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা। বিদ্বেষী গোষ্ঠীগুলোকে তিনি মূলধারায় এনেছেন এবং তাঁরই সহায়তায় উগ্র মতাবলম্বীরা রিপাবলিকান পার্টির দখল নিয়েছে। আমাদের দেশকে মহান করা মূল্যবোধগুলোকে অবজ্ঞা করেছেন ট্রাম্প, যা ভয়ংকর বিপদের।’

অনুষ্ঠানে আর বক্তব্য রাখেন চার্লস কন্নর, ইভেট লুইস, দেভাঙ শাহ, ডেভিভ মুন, ডেভিড ফ্রেইজার হিল্ডাগো, ক্যাথলিন এম ডুমাইস, সুজান লি, এন্থনি ব্রাউন, জেমি রাস্কিন, আইজেয়া লেজ্ঞেট, জন সারবান, জন ডেলানি, ক্রিস ভ্যান হল্যান, ইভানা করিম, জাহানারা মেহরিন পালকি, সাজিয়া আহমেদ, নাফিজা আহমেদ, জাহাঙ্গীর কবির, কবিরুল ইসলাম।

বক্তাদের বক্তব্যের মাঝে থেকে উঠে আসে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবিরত গোঁড়ামি’র কারণেই ‘বিদ্বেষ অনুশীলন’ হচ্ছে। ট্রাম্প বর্ণবাদী গোষ্ঠীকে এমনভাবে ‘মূলধারায়’ এনেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় দলের কোনো প্রার্থী কখনোই করেননি। সমস্ত ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে এক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান বক্তারা। হিলারি ক্লিনটন সরকার গঠন করলে ট্যাক্স এবং স্বাস্থ্য খাতে কি কি পদক্ষেপ নেবেন তারও সংক্ষিপ্ত অংশ তুলে ধরা হয় বক্তাদের বক্তব্যে।

র‍্যালি ও কনভেনশন শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী টিভি-বেতারের স্বনামধন্য শিল্পী, কলাকুশলী নাচ ও গান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অরগানাইজার ছিলেন আনিস আহমেদ, অরগানাইজার ছিলেন ডাঃ জিয়া আহমেদ এবং কবিরুল ইসলাম। মিডিয়াতে ছিলেন রকি হায়দার, সমন্বয়ক ছিলেন মোঃ কাজল, প্রচারণায় ছিলেন ডাঃ ই এম পান্না, সঙ্গীতে ছিলেন রেজাউল এন রুবিন করিম, নৃত্যে ছিলেন রোজমেরি মিথু গন্সাল্ভেন্স ও তার দল। ব্যান্ডে ছিলেন শ্যাডো ড্রিমস, শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন জামিল খান। স্পন্সর এবং একনলেজমেন্টে ছিলেন কবির পাটোয়ারি, পারভিন পাটোয়ারি, আবু বকর হানিফ, শহীদ খান চৌধুরী, মিজানুর রহমান, নাসের আহমেদ, এ.জে.এম. হুসেইন, ইকোনমি ট্রাভেল এন্ড ভিলেজ বাজার।

সেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির, মোতালেব মামুন, আলবাব শিকদার, হাসান চৌধুরী, ইকবাল হুসেইন, জসিম উদ্দিন আইটি, রাকিব, ইয়াসিন, আরাফাত, আনিস খান, মজিব আহাম্মেদ জয়, মোঃ শাজাহান, ডাঃ আরাফাত, মারুফ লস্কর, শফিউল্লাহ, নাসির উদ্দিন দুলাল, জুয়েল মজুমদার, আব্দুল মতিন পারভেজ, জহির উদ্দিন, মুহাম্মদ হুসেইন, আব্দুর রহিম দিদার, জুবায়ের ইসলাম এবং সারওয়ার মিয়া।

Related posts